বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫
ব্রেকিং নিউজ
বেলুড় মঠে মহাসাড়ম্বরে হয়ে গেল কুমারী পুজো পাঁজরে হাড় ভেঙে ফুসফুসে, চোরবাগানের ময়নাতদন্তের ভয়াবহ রিপোর্ট টাইগার শ্রফের উপর গুলি, হামলা, গ্রেপ্তার ৩ টাইগার শ্রফকে হামলায় দায়স্বীকার বিষ্ণোই গ্যাংয়ের

জলবন্দী গ্রামে বাম নেত্রী মীনাক্ষী, ঘুরে দেখলেন ভূতনির বিস্তীর্ণ এলাকা

16 September, 2026 4:43 PM UTSAB RC
শেয়ার করুন

সংবাদদাতা, মালদহ: মালদহ জেলার মানিকচক ব্লকের ভূতনি অঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি দিনে দিনে অত্যন্ত খারাপ হচ্ছে। গঙ্গার উপচে পড়া জল ও নদী ভাঙনের জেরে ভূতনির বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে হাজার হাজার পরিবার গৃহহীন ও জলবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। এই চরম সংকটজনক পরিস্থিতিতে বন্যাকবলিত এলাকার বাস্তব চিত্র সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে এবং সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতে মানিকচকে পৌঁছালেন বাম নেত্রী মীনাক্ষী মুখার্জি। বুধবার মানিকচকের ভূতনি অঞ্চলের চরম ক্ষতিগ্রস্ত উত্তর চণ্ডীপুর এবং দক্ষিণ চণ্ডীপুরের বিভিন্ন গ্রাম পরিদর্শন করেন বামনেত্রী। এক হাঁটু থেকে কোমরসমান জল ভেঙে তিনি জলবন্দি গৃহহীন মানুষদের ঘরে পৌঁছান এবং তাঁদের বর্তমান করুণ অবস্থার খোঁজখবর নেন।

বামনেত্রীকে নিজেদের মধ্যে পেয়ে ক্ষোভে ও কষ্টে ফেটে পড়েন স্থানীয় বন্যাদুর্গত বাসিন্দারা। তাঁরা মীনাক্ষী মুখার্জির কাছে সরকারি অবহেলার একের পর এক গুরুতর অভিযোগ তুলে ধরেন। গ্রামবাসীদের মূল অভিযোগ, বন্যার জল ঢোকার পর থেকেই এলাকায় খাদ্যসংকট দেখা দিয়েছে। সরকারিভাবে পর্যাপ্ত ত্রাণ পৌঁছায়নি, এমনকি খাওয়ার উপযোগী বিশুদ্ধ পানীয় জলের তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে। প্লাবিত গ্রামগুলোতে পর্যাপ্ত স্বাস্থ্য পরিষেবা বা জরুরি মেডিকেল ক্যাম্পের কোনো সুবিধা নেই বলেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন দুর্গতরা। সাপের উপদ্রব এবং জলবাহিত রোগের আশঙ্কার মধ্যে কোনো ধরনের প্রশাসনিক সহযোগিতা ছাড়াই খোলা আকাশের নিচে বা বাঁধের ওপর রাত কাটাতে হচ্ছে শত শত পরিবারকে।

দুর্গত মানুষদের অভাব-অভিযোগ শোনার পর রাজ্য সরকার ও স্থানীয় প্রশাসনের তীব্র সমালোচনা করেন মীনাক্ষী। তাঁর অভিযোগ প্রতি বছরই মানিকচকের এই এলাকাগুলো নদী ভাঙন ও বন্যার কবলে পড়ে। কিন্তু রাজ্য সরকার কিংবা সেচ দপ্তর কোনো স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেয় না। সরকারের সম্পূর্ণ দূরদর্শিতা ও পূর্বাভাসের অভাবের কারণেই আজ হাজার হাজার মানুষকে এই চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, দুর্যোগ হঠাৎ করে আসেনি। বাঁধ সংস্কারের নামে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি হলেও বাস্তবে কাজের কাজ কিছুই হয়নি। বন্যাদুর্গত মানুষ যখন একফোঁটা পানীয় জল আর একটু রেশনের জন্য চাতকের মতো চেয়ে আছেন, তখন ত্রাণ বণ্টনেও স্বজনপোষণ চলছে। পর্যাপ্ত ত্রিপল, শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানীয় জল অবিলম্বে প্রতিটি দুর্গত পরিবারের কাছে পৌঁছাতে হবে। বন্যাদুর্গত এলাকার পরিস্থিতি পর্যালোচনার পর বাম নেতৃত্বের পক্ষ থেকে প্রশাসনের কাছে একাধিক জরুরি দাবি পেশ করা হয়েছে। তাদের দাবি উত্তর ও দক্ষিণ চণ্ডীপুরের সমস্ত জলবন্দি গ্রামে পর্যাপ্ত ত্রাণ শিবির ও সরকারি কমিউনিটি কিচেন এর ব্যবস্থা করতে হবে। জলবাহিত রোগ প্রতিরোধে প্রতিটি গ্রামে মেডিকেল টিম ও প্রয়োজনীয় ওষুধ পাঠাতে হবে। নিরাপদ পানীয় জলের জন্য মিনারেল ওয়াটার ও হ্যালোজেন ট্যাবলেট দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। মীনাক্ষী মুখার্জি স্পষ্ট হুশিয়ারি দিয়ে জানান, যদি দ্রুততার সাথে প্লাবিত এলাকার মানুষদের উদ্ধারকাজ না করা হয়, তবে বাম ছাত্র-যুব সংগঠন দুর্গতদের মৌলিক অধিকার ছিনিয়ে নিতে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটবে। আপাতত বাম কর্মীদের পক্ষ থেকেই নিজেদের উদ্যোগে দুর্গতদের হাতে প্রাথমিক ত্রাণ ও শুকনো খাবার তুলে দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে।

প্রতিবেদন

UTSAB RC