বাড়ি খালি থাকার সুযোগে ২৪ লক্ষ টাকা ও ২৫ ভরি সোনা লুঠ
সংবাদদাতা, ইংরেজবাজার: ভরসন্ধ্যায় বা গভীর রাতে নয়, দিনের বেলায় প্রকাশ্যে দুষ্কৃতী তাণ্ডব। ফাঁকা বাড়িতে ঢুকে নগদ ২৪ লক্ষ টাকা এবং প্রায় ২৫ ভরি সোনার অলঙ্কার নিয়ে চম্পট দিল দুষ্কৃতী দল। বুধবার সকালে চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে মালদার ইংরেজবাজার থানার গাবগাছি যদুপুর এলাকায়। ভরদুপুরে এমন চুরির ঘটনায় এলাকা জুড়ে তীব্র আতঙ্ক ও চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, আক্রান্ত গৃহকর্তার নাম সইদুর রহমান। পেশায় তিনি একজন পরিচিত জমি ব্যবসায়ী। বুধবার সকালে তিনি নিজের দোতলা বাড়ির নীচের ঘর থেকে ওপরের তলার শৌচালয়ে গিয়েছিলেন। সেই সময় বাড়িতে অন্য কেউ ছিলেন না। চোরের দল যে আগে থেকেই বাড়ির পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছিল, তা ঘটনার ধরণ দেখেই স্পষ্ট। সইদুর রহমান ওপরে যাওয়ার পরপরই তাঁর স্ত্রী হাসনা বানু ও মেয়ে কেনাকাটার কাজে বাড়ির বাইরে যান। কিছুক্ষণ পর স্ত্রী ও মেয়ে বাড়িতে ফিরে এসেই তাজ্জব হয়ে যান। ঘরের ভেতরের আলমারির দরজা খোলা এবং ভেতরে থাকা বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা ও গয়নার বাক্স গায়েব। খবর পেয়ে শৌচালয় থেকে তড়িঘড়ি নিচে নেমে আসেন সইদুর রহমানও। প্রাথমিক হিসেব অনুযায়ী, চোরেরা নগদ ২৪ লক্ষ টাকা এবং প্রায় ২৫ ভরি সোনার গয়না নিয়ে চম্পট দিয়েছে। খোয়া যাওয়া অলঙ্কারের আনুমানিক বাজারমূল্য বহু লক্ষ টাকা। তবে এই চুরির ঘটনায় সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো, দুষ্কৃতীরা ঘরের কোনো দরজা-জানালা বা আলমারির লক ভাঙচুর করেনি। আলমারির ড্রয়ার বা ঘরের কোনো আসবাবপত্র তছনছও করা হয়নি। অত্যন্ত সুনির্দিষ্টভাবে রাখা নগদ টাকা ও গয়না নিমেষের মধ্যে তুলে নিয়ে চম্পট দিয়েছে তারা। অর্থাৎ চোরেরা খুব ভালো করেই জানত, ঘরের ঠিক কোন জায়গায় টাকা ও সোনা রাখা ছিল। সইদুর রহমান ও তাঁর পরিবারের দাবি, এই ঘটনার পেছনে কোনো পরিচিত ব্যক্তি বা ঘরের ভেতরের খবর জানে এমন কেউ যুক্ত থাকতে পারে। কোনো পরিচিত দুষ্কৃতীই আগে থেকে ওৎ পেতে বসেছিল এবং গৃহকর্তা উপরে যাওয়া ও বাকিরা বাইরে বেরোনোর এই সামান্য সুযোগটিকে কাজে লাগিয়ে অপারেশন চালিয়েছে। ঘটনার পরই চরম আতঙ্কের মধ্যে পড়ে যায় সইদুর রহমানের পরিবার। ইংরেজবাজার থানার পুলিশ খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ আধিকারিকরা এলাকাটি ঘুরে দেখেন এবং প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন। ইতিমধ্যেই সইদুর রহমান ইংরেজবাজার থানায় পুরো বিষয়টি জানিয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, অভিযোগের ভিত্তিতে একটি নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। আলমারি না ভেঙে চুরির বিষয়টি আমরা অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। দুষ্কৃতীদের খোঁজে আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কোনো পরিচিত লোক এতে জড়িত রয়েছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
