বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫
ব্রেকিং নিউজ
টাইগার শ্রফের উপর হামলায় ধৃত আরও ৪ আজ বিজয়া দশমী, ঘাটে ঘাটে চলছে প্রতিমা নিরঞ্জন ভারতের সঙ্গে চুক্তি অন্যরকম, জানালেন ট্রাম্প দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে দশেরা

আইপিএস বুশরা বানোর বদলি ঘিরে সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরব নওশাদ সিদ্দিকি

16 September, 2026 4:22 PM Lopa Bhowmik
শেয়ার করুন

সংবাদদাতা, খড়গপুর: আইপিএস আধিকারিক ড. বুশরা বানোর আকস্মিক বদলিকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। খড়গপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদ থেকে আড়াই মাসের মধ্যেই তাঁকে রাজ্য সশস্ত্র পুলিশের চতুর্থ ব্যাটালিয়নের ডেপুটি কমান্ডান্ট পদে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রশাসন এই পদক্ষেপকে রুটিন ট্রান্সফার বা সাধারণ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া বলে দাবি করলেও, বিরোধীরা সরকারের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু করেছেন। এবার সেই বিতর্কে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীদের রাজনৈতিক মেরুকরণের মনোভাবকে নিশানা করে সরব হয়েছেন ভাঙড়ের আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী। উল্লেখ্য, ২০২১ ব্যাচের আইপিএস আধিকারিক বুশরা বানো সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিও বার্তা শেয়ার করেছিলেন, যেখানে তিনি ইউপিএসসি পরীক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলছিলেন। তবে পুলিশের উর্দিতে থাকা অবস্থায় ভিডিওতে ইনশাআল্লাহ’ বা জাজাকাল্লাহ-র মতো কিছু সাধারণ ধর্মীয় ও সামাজিক সম্ভাষণ ব্যবহার করায় তাঁকে সমাজমাধ্যমে আক্রমণের মুখে পড়তে হয়। উর্দিতে থাকা অবস্থায় এমন শব্দচয়ন নিয়ে প্রশ্ন তোলে কিছু সংগঠন এবং নেটপাড়ার একাংশ, যার পরেই তড়িঘড়ি নবান্নের তরফে এই বদলির নির্দেশিকা জারি করা হয়। এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে ভাঙড়ের বিধায়ক রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ইউনিফর্ম বা প্রশাসনিক পোশাকে থাকা অবস্থায় কেউ কি পরমেশ্বরের নাম বা ধর্মীয় সম্ভাষণ নিতে পারেন না। নওশাদ সিদ্দিকী বলেন, একজন উচ্চশিক্ষিত ও মেধাবী আধিকারিক, যিনি ইউপিএসসি ক্র্যাক করার পাশাপাশি বিদেশের চাকরি ছেড়ে দেশে পরিবেশ পরিবেশন করতে এসেছেন, তাঁর একটি সামান্য ভিডিও কিংবা শব্দচয়নকে কেন্দ্র করে যেভাবে রাজনৈতিক চক্রান্ত করা হচ্ছে, তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। তিনি আরও যোগ করেন, সরকারি অফিসাররাও সামাজিক জীবনের অংশ এবং সাধারণ সম্ভাষণ বা শুভেচ্ছাবার্তা জানানো কোনোভাবেই ‘দেশবিরোধী’ বা ‘উর্দি বিরোধী’ কাজ নয়। নওশাদ সিদ্দিকীর অভিযোগ, ভারতীয় জনতা পার্টি এবং বিশেষ করে শুভেন্দু অধিকারী যেভাবে বিষয়টিতে ধর্মীয় রং দেওয়ার চেষ্টা করছেন। তাঁর মতে, সংবিধানে ধর্মীয় ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতাবোধ রয়েছে, সেখানে কেবল মাত্র পোশাক ও শব্দচয়নকে কেন্দ্র করে একজন সংখ্যালঘু আধিকারিকের বিরুদ্ধে এমন পদক্ষেপ গ্রহণ প্রশাসনিক নিরপেক্ষতার ওপর বড়সড় প্রশ্ন চিহ্ন তুলে দেয়।

প্রতিবেদন

Lopa Bhowmik