বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫
ব্রেকিং নিউজ
টাইগার শ্রফের উপর হামলায় ধৃত আরও ৪ আজ বিজয়া দশমী, ঘাটে ঘাটে চলছে প্রতিমা নিরঞ্জন ভারতের সঙ্গে চুক্তি অন্যরকম, জানালেন ট্রাম্প দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে দশেরা

জালালখালি বাজারে ভয়াবহ ডাকাতি ও অগ্নিকাণ্ড

16 September, 2026 3:54 PM Lopa Bhowmik
শেয়ার করুন

সংবাদদাতা, নদীয়া: রাতের অন্ধকারে দুঃসাহসিক চুরি এবং তার পর প্রমাণ লোপাট করতে দোকানে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার মতো চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটল নদীয়ার জালালখালি বাজারে। এই ভয়াবহ ঘটনায় কার্যত সর্বস্বান্ত হয়েছেন স্থানীয় দুই ব্যবসায়ী। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কয়েক লক্ষাধিক টাকা বলে অনুমান করা হচ্ছে। চুরির পাশাপাশি এই অগ্নিকাণ্ডের জেরে গোটা বাজার চত্বর ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও তীব্র আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিয়েও উঠে গিয়েছে বড়সড় প্রশ্ন। জানা গিয়েছে, জালালখালি বাজারের পাশাপাশি দুটি দোকানে এই তাণ্ডব চালিয়েছে দুষ্কৃতীরা। এর মধ্যে একটি হলো স্বরূপ রায়ের ইলেকট্রনিক্স ও মোবাইল দোকান এবং অন্যটি বিনয় বিশ্বাসের ‘কামনা স্টুডিও’। ক্ষতিগ্রস্ত ইলেকট্রনিক্স দোকানের মালিক স্বরূপ রায় জানিয়েছেন, দুষ্কৃতীরা গভীর রাতে তাঁর দোকানে হানা দেয়। অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে তারা দোকান থেকে নগদ প্রায় দেড় লক্ষাধিক টাকা এবং বিক্রির জন্য রাখা ৫০টিরও বেশি নতুন মোবাইল ফোন লুঠ করে। চোরেরা এতটাই ধুরন্ধর ছিল যে, নিজেদের পরিচয় গোপন রাখতে এবং প্রমাণের কোনো সূত্র না ছাড়তে তারা সিসিটিভি ক্যামেরার হার্ডডিস্ক ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক সরঞ্জামও খুলে নিয়ে চম্পট দেয়। এরপর যে সমস্ত ভারী জিনিসপত্র, যেমন ফ্রিজ ও টিভি, তারা চুরি করে নিয়ে যেতে পারেনি, সেগুলিতে সম্পূর্ণ আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। আগুনে ভস্মীভূত হয়ে গোটা দোকানটি কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। কান্নায় ভেঙে পড়ে স্বরূপবাবু আক্ষেপের সুরে বলেন, দীর্ঘ ১২ বছর ধরে আমি এখানে সততার সঙ্গে ব্যবসা করে আসছি। কারও সঙ্গে আমার কোনওদিন শত্রুতা ছিল না। কে বা কারা আমার এই চরম সর্বনাশ করল, আমি কিছুই বুঝে উঠতে পারছি না। আগুনের আঁচ ও দুষ্কৃতীদের তাণ্ডব থেকে রেহাই পায়নি পাশের দোকানটিও। ‘কামনা স্টুডিও’-র মালিক বিনয় বিশ্বাস জানান, সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা প্রথম স্বরূপবাবুর দোকান থেকে গলগল করে কালো ধোঁয়া বের হতে দেখেন। খবর পেয়ে তিনি তড়িঘড়ি বাজারে ছুটে আসেন। এসে দেখেন, কেবল অগ্নিকাণ্ডই নয়, তাঁর নিজের স্টুডিওতেও হানা দিয়েছে দুষ্কৃতীরা। স্টুডিওর ছাদের উপরের ইট খুলে অত্যন্ত সুকৌশলে চোরেরা ভেতরে প্রবেশ করে। তাঁর দোকানে থাকা মূল্যবান সাতটি ক্যামেরার মধ্যে বেশ কয়েকটি অত্যন্ত দামি ক্যামেরা তারা লুঠ করে নিয়ে যায়। শুধু চুরিই নয়, বাকি যে ক্যামেরাগুলো তারা নিতে পারেনি, সেগুলো দোকানের মধ্যেই আছড়ে ভেঙে চুরমার করে দেওয়া হয়। এমনকি একটি দামি ক্যামেরা ভাঙা অবস্থায় বাইরের রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। বিনয়বাবুর প্রাথমিক অনুমান, তাঁর দোকানে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অন্তত ১০ লক্ষ টাকার বেশি। সকালে ধোঁয়া ও আগুনের লেলিহান শিখা দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা খবর দেন দমকল বাহিনীকে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসে দমকলের ইঞ্জিন। বেশ কিছুক্ষণের আপ্রাণ চেষ্টায় দমকল কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। অন্যথায় বাজারের অন্যান্য দোকানেও আগুন ছড়িয়ে পড়ার প্রবল আশঙ্কা ছিল। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসে স্থানীয় থানার পুলিশ। ঠিক কারা এই চুরির নেপথ্যে রয়েছে, তা নিয়ে এখনও পর্যন্ত নিশ্চিত করে কিছু জানা যায়নি। তবে দুষ্কৃতীদের কাজ করার ধরণ যেমন সিসিটিভি-র হার্ডডিস্ক খুলে নেওয়া এবং প্রমাণ লোপাটে আগুন লাগানো দেখে পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, এর পেছনে কোনো বড় ও পেশাদার চক্রের হাত থাকতে পারে। সর্বস্বান্ত দুই ব্যবসায়ী ও স্থানীয় ব্যবসায়ী সমিতির পক্ষ থেকে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও দোষীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানানো হয়েছে। এলাকায় রাতের টহলদারি আরও জোরদার করার দাবি তুলেছেন আতঙ্কিত ব্যবসায়ীরা। পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

প্রতিবেদন

Lopa Bhowmik