বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫
ব্রেকিং নিউজ
টাইগার শ্রফের উপর হামলায় ধৃত আরও ৪ আজ বিজয়া দশমী, ঘাটে ঘাটে চলছে প্রতিমা নিরঞ্জন ভারতের সঙ্গে চুক্তি অন্যরকম, জানালেন ট্রাম্প দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে দশেরা

ভোট-পরবর্তী হিংসা ও বিপুল সম্পত্তির উৎস সন্ধানে সালানপুরের তৃণমূল প্রধান শ্রীকান্ত পাতর গ্রেপ্তার

16 September, 2026 3:49 PM Lopa Bhowmik
শেয়ার করুন

সংবাদদাতা, আসানসোল: ভোট-পরবর্তী হিংসা, বাড়িঘর ও গাড়ি ভাঙচুর এবং মারপিটের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়লেন সালানপুর ব্লকের কল্যা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রভাবশালী প্রধান তৃণমূল নেতা শ্রীকান্ত পাতর। মঙ্গলবার গভীর রাতে সালানপুর থানার রূপনারায়ণপুর ফাঁড়ির পুলিশ চয়নপুর গ্রামে তাঁর নিজ বাড়ি ঘিরে ফেলে আটক করে। পরবর্তীতে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। আজ অভিযুক্তকে আসানসোল জেলা আদালতে পেশ করে ঘটনার তদন্ত ও জড়িত অন্যান্যদের সন্ধানে ৭ দিনের পুলিশি রিমান্ডের আবেদন জানিয়েছে সালানপুর থানার পুলিশ। পুলিশ প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, স্থানীয় বাসিন্দা বাদল পাতর নামক এক ব্যক্তির দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতেই এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই সালানপুর ও সংলগ্ন কল্যাণ পঞ্চায়েত এলাকায় প্রবল ভোট-পরবর্তী অশান্তি ছড়িয়ে পড়ে। একাধিক বিরোধী দল সমর্থক এবং সাধারণ মানুষের বাড়িঘর ভাঙচুর, আসবাবপত্র ও গাড়ি তছনছ করা এবং মারধরের মারাত্মক একাধিক অভিযোগ ওঠে এই নেতার বিরুদ্ধে। ঘটনার পর থেকেই আইনের হাত থেকে বাঁচতে দীর্ঘদিন আত্মগোপন করে ছিলেন তিনি। বহুদিন ধরে পুলিশ তাঁর গোপন ডেরার সন্ধানে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালাচ্ছিল। প্রথমে কল্যা পঞ্চায়েতের উপপ্রধান এবং পরবর্তীতে নিজের দাপট কায়েম করে প্রধানের আসন দখল করেন তিনি। রাজনীতিতে নিজের শক্ত জমি তৈরির পাশাপাশি জনসংযোগের অস্ত্র হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন সালানপুরের বিখ্যাত ‘রয়েল ক্লাব’-এর দুর্গাপুজোকে, যার মূল উদ্যোক্তা ও কাণ্ডারী ছিলেন তিনি নিজেই। তবে শ্রীকান্তর এই রাজকীয় উত্থানের নেপথ্যে থাকা অবৈধ কারবার ও রাতারাতি অস্বাভাবিক সম্পত্তি বৃদ্ধি নিয়ে মুখ খুলতে শুরু করেছেন ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা। চয়নপুর ও কল্যা এলাকার অধিবাসীদের বিস্ফোরক দাবি, কয়েক বছর আগেও শ্রীকান্ত পাতরের পরিবার অত্যন্ত দরিদ্র অবস্থায় দিন গুজরান করত। তাঁর বাবা চপ-সিঙাড়ার দোকান চালাতেন এবং শ্রীকান্ত নিজে এলাকায় কয়লা ঠেলার কাজ করতেন। কিন্তু ২০১১ সালে রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দলের সঙ্গে যুক্ত হয়েই ভাগ্য বদলে যায় তাঁর। এক দশকের মধ্যে কয়লা, বালি ও পাথরের অবৈধ চোরাচালানের সঙ্গে প্রত্যক্ষ সংযোগ তৈরি হয় তাঁর। অভিযোগ, সালানপুর অঞ্চলের কোলিয়ারিগুলোতে স্থানীয়দের জমির বিনিময়ে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে নিজের নামে ও বেনামে প্রচুর জমি এবং চাকরি হাতিয়ে নিয়েছিলেন এই তৃণমূল প্রধান। পাশাপশি, প্রতিবেশী রাজ্য ঝাড়খণ্ডে যৌথ ব্যবসার বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন বলেও অভিযোগ। শ্রীকান্ত পাতরের গ্রেপ্তারির খবর ছড়াতেই এলাকার সাধারণ মানুষের একাংশের মধ্যে উচ্ছ্বাসের আবহ তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একজন সাধারণ কর্মী থেকে সালানপুরের ত্রাস হয়ে ওঠা এবং এত বড় বেআইনি সাম্রাজ্য গড়ে তোলা একা শ্রীকান্তর পক্ষে সম্ভব ছিল না। এই বিপুল বেআইনি কারবার ও রাজনৈতিক হিংসার পেছনে তৎকালীন কিছু শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক নেতার প্রচ্ছন্ন প্রশ্রয় ছিল বলেই ধারণা।

প্রতিবেদন

Lopa Bhowmik