নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে কড়াকড়ি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে
সংবাদদাতা, কলকাতা: রাত আটটার পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে আর প্রবেশ করতে পারবেন না কোনও বহিরাগত। এমনকি ক্যাম্পাসের ভেতরে থাকা হোস্টেলের ছাত্রছাত্রীদের জন্যও নিষিদ্ধ করা হয়েছে যে কোনও ধরনের জমায়েত। সাম্প্রতিক কিছু অপ্রীতিকর ঘটনার প্রেক্ষিতে নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে এমনই কঠোর অবস্থান নিল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। নবনিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার দেবজিৎ দত্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করে এই নতুন নির্দেশিকা ও সতর্কবার্তা প্রকাশ করেছেন। বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, এই নিয়মের অন্যথা হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেবল রাতেই নয়, দিনের সাধারণ সময়েও ক্যাম্পাসে প্রবেশের ক্ষেত্রে কড়া নজরদারির সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। তবে সান্ধ্যকালীন বিভাগের ছাত্রছাত্রীদের ক্ষেত্রে কিছুটা ছাড় দেওয়া হয়েছে। উপযুক্ত ও বৈধ পরিচয়পত্র প্রদর্শন সাপেক্ষে তাঁরা রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত ক্যাম্পাসে থাকতে পারবেন।
উল্লেখ্য, গত ১৯ আগস্ট সন্ধেয় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে দু’দল ছাত্রের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা থেকে গোলমালের সৃষ্টি হয়। অভিযোগ উঠে, সেই ঘটনার জেরে গভীর রাতে একদল বহিরাগত ক্যাম্পাসে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সেই ঘটনার পর থেকেই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে এবং ক্যাম্পাসের শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতেই এবার এই কঠোর সিদ্ধান্তের পথে হেঁটেছে প্রশাসন।
মঙ্গলবার নতুন নির্দেশিকা সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতে গিয়ে রেজিস্ট্রার দেবজিৎ দত্ত বলেন, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত এমনকি দূরদূরান্ত থেকে ছাত্রছাত্রীরা এখানে পড়াশোনা করতে আসেন। তাঁদের অভিভাবকেরা সম্পূর্ণ ভরসা ও বিশ্বাসের সঙ্গে সন্তানকে বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বে রেখে যান। তাই নিরাপত্তায় কোনও গাফিলতি যাতে না থাকে, তা সুনিশ্চিত করা আমাদের প্রাথমিক কর্তব্য। তিনি আরও বলেন, ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের প্রবেশের ক্ষেত্রে কিছু নিয়ম আগে থেকেই কাগজে-কলমে ছিল, এবার তা কড়াকড়ি ভাবে বাস্তবায়িত করা হবে। এখন থেকে দিনের বেলাতেও ক্যাম্পাসে ঢোকার সময় প্রত্যেককে নির্দিষ্ট রেজিস্টারে সই করতে হবে এবং সময় নথিভুক্ত করতে হবে। রাত ৮টার পর বিশেষ বা জরুরি অনুমতি ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে থাকা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। যদি এই সময়সীমার পর কাউকে অনধিকার প্রবেশ করতে দেখা যায়, তবে তাঁর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করা হবে।
ক্যাম্পাসের ভেতরেই হোস্টেল হওয়ায় সাধারণ পড়ুয়াদের মনে প্রশ্ন জেগেছিল—রাতে ক্যাম্পাসে স্বাধীনভাবে হাঁটাচলা করার ওপরও কি নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে? এ ব্যাপারে রেজিস্ট্রার আশ্বস্ত করে জানান, শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক চলাফেরা বা মুক্ত চিন্তার পরিবেশকে বাধাগ্রস্ত করার পরিকল্পনা কর্তৃপক্ষের নেই। কেউ চাইলে রাতে ক্যাম্পাসে হাঁটাহাঁটি করতেই পারেন, তবে কোনও অবস্থাতেই দলবদ্ধ হয়ে জমায়েত বা আড্ডা দেওয়া যাবে না। পরিস্থিতি তদারকি করতে একটি বিশেষ মনিটরিং কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিনি জানান, পড়ুয়াদের নিজস্ব নিরাপত্তা ও সার্বিক সুবিধার স্বার্থেই এই অতিরিক্ত সতর্কতামূলক পদক্ষেপ। এছাড়াও , ছুটির দিনগুলোতে ক্যাম্পাসে ঢুকতে হলেও বৈধ পরিচয়পত্র দেখানো বাধ্যতামূলক। সাধারণ পথচারীদের হাঁটাচলা বা যাতায়াতের জন্য ক্যাম্পাসের ভেতরের রাস্তা ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।
বিশ্ববিদ্যালয়কে সম্পূর্ণ নেশামুক্ত রাখার অঙ্গীকার করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ক্যাম্পাসের ভেতরে মদ, মাদক বা যে কোনও বেআইনি জিনিসসহ কেউ ধরা পড়লে তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, সর্বভারতীয় রেঙ্কিং এবং ন্যাশনাল অ্যাসেসমেন্ট অ্যান্ড অ্যাক্রিডিটেশন কাউন্সিল-এর মূল্যায়নে প্রাতিষ্ঠানিক ভাবমূর্তির নিরিখে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় কিছুটা নম্বর কম পেয়েছে। ক্যাম্পাসের সার্বিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং নিরাপত্তার পরিবেশ জোরদার করার মাধ্যমে সেই খামতি পূরণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
