বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫
ব্রেকিং নিউজ
নিউ ফারাক্কায় ধস, বাতিল উত্তরবঙ্গগামী সব ট্রেন নিউটাউনে উত্তম কুমার ফিল্ম সেন্টারের শিলান্য়াস মুখ্য়মন্ত্রীর নেপালে ৯ দিন পর সুড়ঙ্গ থেকে উদ্ধার ২ শ্রমিক অভিষেকের ক্য়ামাক স্ট্রিটের অফিস খালির নির্দেশ

ফ্যাশনে বিপ্লব

15 August, 2026 4:48 PM admin
শেয়ার করুন

লোপামুদ্রা ভৌমিক : 

নেহেরু জ্যাকেট
নেহেরু জ্যাকেট হল যোধপুরী পোশাকের একটি বৈচিত্র্য। এটি প্রধানত তৈরি হয় খাদির কাপড় দিয়ে। যোধপুরী এই পোশাকটি আংরাখার বিবর্তিত রূপ। ১৯৬০–এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে ইউরোপ এবং আমেরিকাতে এই জ্যাকেটটিকে নেহেরু জ্যাকেট হিসাবে বাজারজাত করা শুরু হয়েছিল। দ্য বিটল্‌স এবং তারপরে দ্য মঙ্কিজ এই পোশাকের জনপ্রিয়তা বাড়িয়ে দিয়েছিল। পুরুষ বা মহিলাদের জন্য তৈরি হিপ লেংথ এই কোটে সাধারণত ম্যান্ডারিন কলার থাকে। এর সামনের ভাগ দেশীয় আচকান বা শেরওয়ানির আদলে তৈরি। আজও এই পোশাক সমান জনপ্রিয়। শার্ট বা ফরমাল ট্রাউজারের সঙ্গে এটি অত্যন্ত আড়ম্বরপূর্ণ একটি পোশাক।

গান্ধী টুপি
ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের সঙ্গে এই টুপি অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িয়ে রয়েছে। মহাত্মা গান্ধী এই টুপির ব্যবহার শুরু করেন। একটা সময় এই টুপি অহিংসার প্রতীকে পরিণত হয়েছিল। গান্ধী টুপির জনপ্রিয়তা দেখে বৃটিশ সরকার তা বন্ধের উদ্যোগ নিয়েছিল। এটি এমন একটি সাইডক্যাপ যা ভাঁজ করে রাখা যায়। এর সামনে ও পেছনে তীক্ষ্ণ বা চোখা আকৃতি থাকে। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক নেতা ও কর্মীরা এই টুপি পরা শুরু করেন। বিভিন্ন জাতীয় উৎসব যেমন, স্বাধীনতা দিবস বা প্রজাতন্ত্র দিবসে সাধারণ মানুষজনও এই টুপি পরেন।

আজাদ জ্যাকেট বা নেতাজি স্যুট
এই পোশাকের প্রক্ষাপট আজাদ হিন্দ ফৌজের সময়কাল। যে কোনও আবহাওয়ায় খাপ খাওয়ানোর মতো খাকি রঙের অল ওয়েদার এই জ্যাকেট একটা সময় ফ্যাশন স্টেটমেন্ট হিসেবে উঠে এসেছিল। এটি লম্বা হাতা বন্ধগলা বা বন্ধ কলারের সামরিক ধাঁচের জ্যাকেট। সামনে থাকে সাধারণত ৪টি বড় পকেট এবং কাঁধে স্ট্র্যাপ। কোমরে থাকে একটি চওড়া চামড়ার বেল্ট। পায়ে কালো বা ব্রাউন রঙের গামবুট বা লং বুট জুতো। জ্যাকেটের রঙের সঙ্গে মিলিয়ে পরা হয় খাকি বা শ্যাওলা সবুজ রঙের ঢিলেঢালা প্যান্ট।

তিলক পাগড়ি
এক বিশেষ ধরণের পাগড়ি। যা বাল গঙ্গাধর তিলক ব্যবহার করতেন। তৈরি করতে বিশেষ ধরণের লাল রঙের সুতি বা সিল্কের কাপড় প্রয়োজন হয়। এটি সাধারণ কোনও লম্বা কাপড় নয়, বরং সেলাই করা রেডি–টু–ওয়্যার পাগড়ি। এতে লাল, হলুদ বা সোনালি রঙের ছোঁয়া থাকে। সঙ্গে সোনালি সুতোর কাজ বা নকশা দেখা যায়। যার একটি নির্দিষ্ট কোণ ও আকৃতি থাকে। মহারাষ্ট্রের ঐতিহ্যবাহী এই পাগড়ি বিয়ে, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে দেখা গেলেও ইদানীং অন্যান্য রাজ্যেও এর ব্যবহার হচ্ছে। পুণেতে বিশেষ সম্মান প্রদর্শনে এটি মাথায় পরা হয়।

ভগৎ টুপি এবং ওভারকোট
শহিদ–ই–আজম ভগৎ সিংয়ের মাথায় থাকা ইউরোপিও স্টাইলের কাউবয় টুপি ফ্যাশনের দুনিয়ায় যথেষ্ট জনপ্রিয়। এটি ফ্যাশনে বিপ্লব ও তরুণ শক্তির প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। ভগৎ সিং–এর এই আইকনিক হ্যাট এবং খাকি বা সাদা শার্টের ওপর পরা ব্লেজার বা ওভারকোট আজও সমান জনপ্রিয়।

খাদি শাড়ি
কস্তুরবা গান্ধীসহ অন্যান্য মহিলা বিপ্লবীরা চরকায় কাটা সুতো দিয়ে হাতে বোনা সুতির শাড়ি ব্যবহার করতেন। ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে স্বদেশী প্রতীক হিসেবে উঠে এসেছিল খাদির শাড়ি, ধুতি। পরিবেশবান্ধব এবং আরামদায়ক পোশাকের জন্য এই শাড়ির কোনও তুলনা নেই। খাদি একটি গ্লোবাল ফ্যাশন ট্রেন্ডে পরিণত হয়েছে। খাদির শাড়ি সুন্দর ও ঐতিহ্যবাহী ডিজাইনের জন্য গোটা বিশ্বে জনপ্রিয়।

প্রতিবেদন

admin