বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫
ব্রেকিং নিউজ
নিউ ফারাক্কায় ধস, বাতিল উত্তরবঙ্গগামী সব ট্রেন নিউটাউনে উত্তম কুমার ফিল্ম সেন্টারের শিলান্য়াস মুখ্য়মন্ত্রীর নেপালে ৯ দিন পর সুড়ঙ্গ থেকে উদ্ধার ২ শ্রমিক অভিষেকের ক্য়ামাক স্ট্রিটের অফিস খালির নির্দেশ

দাদার পর এবার দেবদত্ত! দুই দশকের খরা কাটিয়ে তিন নম্বরে ইতিহাস গড়লেন তরুণ বাঁ-হাতি

15 August, 2026 5:27 PM Sumantra Mukherjee
শেয়ার করুন

গল : টেস্ট ক্রিকেটে তিন নম্বর পজিশন মানেই দলের ব্যাটিং লাইন-আপের মেরুদণ্ড। শুরুতে উইকেট পড়লে নতুন বলের মুখোমুখি হওয়া, আবার ওপেনিং জুটি ভালো খেললে সেই ভিতের উপর দাঁড়িয়ে বড় রানের ইমারত গড়া— সব দায়িত্বই থাকে এই তিন নম্বর ব্যাটারের কাঁধে। আর সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে যখন কোনও বাঁ-হাতি ব্যাটার সেঞ্চুরি হাঁকান, তখন তা আলাদা করে নজর কাড়বেই। একুশ শতকে ভারতীয় টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে এই তিন নম্বর পজিশনে বাঁ-হাতি ব্যাটারদের সেঞ্চুরির খরা দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে চলে আসছিল। অবশেষে সেই অপেক্ষার অবসান ঘটালেন তরুণ তুর্কি দেবদত্ত পাড্ডিকল। ভারতীয় ক্রিকেটের ‘দাদা’ সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের পর একুশ শতকে মাত্র দ্বিতীয় বাঁ-হাতি ভারতীয় ব্যাটার হিসেবে টেস্টে তিন নম্বরে নেমে শতরান করার বিরল নজির গড়লেন তিনি।

একুশ শতকে ভারতীয় ক্রিকেটের দিকে ফিরে তাকালে দেখা যায়, ২০০২ সালে জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে দিল্লিতে একটি দুর্দান্ত ইনিংস খেলেছিলেন তৎকালীন ভারত অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। তিন নম্বরে ব্যাট করতে নেমে ১৩৬ রানের সেই চোখধাঁধানো সেঞ্চুরিটি ছিল বাঁ-হাতি ব্যাটার হিসেবে ওই পজিশনে ভারতের হয়ে একুশ শতকে প্রথম মাইলস্টোন। এরপর দেখতে দেখতে দীর্ঘ ২৪ বছর কেটে গিয়েছে। ভারতীয় দলে রাহুল দ্রাবিড়, চেতেশ্বর পূজারা থেকে শুরু করে হালের শুভমান গিল— অনেকেই তিন নম্বর জায়গাটিতে রাজত্ব করেছেন ঠিকই। কিন্তু বাঁ-হাতি ব্যাটার হিসেবে কেউই সৌরভের সেই রেকর্ডের পাশে নিজেদের নাম লেখাতে পারেননি।

সেই দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময়ের শূন্যস্থানই এবার পূর্ণ করলেন দেবদত্ত। ঘরোয়া ক্রিকেট এবং আইপিএল-এর মঞ্চে নিজের প্রতিভা প্রমাণ করার পর টেস্ট দলেও তিনি যে কতটা কার্যকরী, তা বুঝিয়ে দিলেন এই বাঁ-হাতি ব্যাটার। তিন নম্বরে ব্যাট করার সুযোগ পেয়ে নিখুঁত টেকনিক, স্পিন ও পেস বোলিংয়ের বিরুদ্ধে সমান সাবলীলতা এবং অসাধারণ ধৈর্যের পরিচয় দিয়ে কেরিয়ারের অন্যতম স্মরণীয় একটি শতরান তুলে নিলেন তিনি। তাঁর এই ইনিংসটি যেন এক ক্লাসিক টেস্ট ব্যাটিংয়ের প্রদর্শনী। উইকেটের পতন হলেও ক্রিজের একদিক শক্ত হাতে ধরে রেখে তিনি দলকে নির্ভরতা জুগিয়েছেন। পেসারদের বিরুদ্ধে তাঁর সোজা ব্যাটে খেলা ড্রাইভ হোক বা স্পিনারদের বিরুদ্ধে পায়ের ব্যবহার— সবকিছুতেই ছিল এক অদ্ভুত মুগ্ধতা।

দেবদত্তের এই রেকর্ড শুধুমাত্র পরিসংখ্যানেই আটকে নেই, এটি ভারতীয় দলের টিম কম্বিনেশনের জন্য একটি বড় স্বস্তির খবর। দলে একজন বাঁ-হাতি টপ অর্ডার ব্যাটারের উপস্থিতি সবসময়ই বিপক্ষ দলের বোলারদের লাইন-লেংথ ব্যাহত করতে সাহায্য করে। শারীরিক অসুস্থতার কারণে একটা সময় তাঁর কেরিয়ার কিছুটা থমকে গিয়েছিল, তবে সেই সব বাধা পেরিয়ে রঞ্জি ট্রফিতে দুরন্ত পারফরম্যান্সের পর জাতীয় দলে ফিরে এই সেঞ্চুরি প্রমাণ করে তাঁর অপরিসীম মানসিক দৃঢ়তা।

২০০২ সালে দিল্লির মাঠে সৌরভের সেই ১৩৬ রানের মহাকাব্যিক ইনিংসের পর, দেবদত্ত পাড্ডিকলের এই অনবদ্য শতরান ভারতীয় টেস্ট ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল। ‘মহারাজা’র দেখানো পথেই এবার হাঁটতে শুরু করলেন নতুন প্রজন্মের এই প্রতিভাবান বাঁ-হাতি সেনাপতি। শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে প্রথম টেস্টের প্রথম দিনে টস জিতে ব্য়াট করার সিদ্ধান্ত নেন ভারত অধিনায়ক শুভমন গিল। ৩২ রান করে রান আউট হন যশস্বী জয়সওয়াল। অধিনায়ক শুভমনের অবদান মাত্র ১৬ রান। এসবের মাঝেই ৭৭ রান করে আহত হয়ে মাঠ ছাড়েন লোকেশ রাহুল। 

প্রতিবেদন

Sumantra Mukherjee