বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫
ব্রেকিং নিউজ
নিউ ফারাক্কায় ধস, বাতিল উত্তরবঙ্গগামী সব ট্রেন নিউটাউনে উত্তম কুমার ফিল্ম সেন্টারের শিলান্য়াস মুখ্য়মন্ত্রীর নেপালে ৯ দিন পর সুড়ঙ্গ থেকে উদ্ধার ২ শ্রমিক অভিষেকের ক্য়ামাক স্ট্রিটের অফিস খালির নির্দেশ

হাসানের গতিতে নতুন ইতিহাস বাংলাদেশের

16 August, 2026 11:26 AM admin
শেয়ার করুন

ডারউইন : অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের পেসার হিসেবে প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে পাঁচ উইকেট নিয়ে ইতিহাস গড়লেন হাসান মাহমুদ। শুধু তাই নয়, ১৭ ওভারে ৫৫ রান দিয়ে ছয় উইকেট নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার শক্তিশালী ব্যাটিং অর্ডারকে কার্যত একাই চৃড়মার করে দিলেন ২৬ বছরের এই পেসার। একে একে ট্রাভিস হেড, স্টিভ স্মিথের মত টপ অর্ডারের দুঁদে ব্যাটারদের সাজঘরে ফিরিয়ে অজি ইনিংসে যে ধাক্কাটি দিয়েছিলেন বাঙালী পেসার, সেখান থেকে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি আয়োজক দেশ। তবে হাসানের এই সাফল্য এক দিনের কোনও চমক নয়। এর পিছনে রয়েছে চোট, অপেক্ষা, ফিরে আসা এবং বড় মঞ্চে বারবার নিজেকে প্রমাণ করার গল্প।

লক্ষ্মীপুরের ছেলে হাসানের ক্রিকেটে উঠে আসার গল্পটা শুরু থেকে মসৃণ ছিল না। বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে গতি ও প্রতিভা দিয়ে নজর কেড়েছিলেন। কিন্তু শুধু প্রতিভা দিয়ে যে জাতীয় দলে জায়গা ধরে রাখা যায় না, সেটা খুব তাড়াতাড়িই বুঝতে হয়েছিল তাঁকে। ২০১৮ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের পর চোট তাঁকে দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে পাঠিয়ে দেয়। যে বয়সে অন্যরা জাতীয় দলের দরজায় পৌঁছনোর চেষ্টা করছেন, হাসান তখন অপেক্ষা করছেন আবার বল হাতে দৌড়নোর।

ফিরে এসেছিলেন। ২০২০ সালে টি-টোয়েন্টি দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক। পরের বছর ওয়ানডে। টেস্টের জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে আরও কয়েক বছর। সেই সময়েই তাঁকে নিয়ে আশাবাদী ছিলেন বাংলাদেশের প্রাক্তন কোচ ওটিস গিবসন। হাসানের শেখার আগ্রহ এবং নিজেকে উন্নত করার মানসিকতা তাঁর নজর কেড়েছিল। বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের প্রাক্তন অধিনায়ক তথা বিশ্বের অন্যতম সেরা প্রাক্তন অলরাউন্ডার শাকিব আল হাসানও তরুণ পেসারের মধ্যে দেখেছিলেন ভালো ক্রিকেট মস্তিষ্ক—শুধু জোরে বল করার ক্ষমতা নয়, পরিস্থিতি বুঝে বোলিং করার ক্ষমতা।

টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক হওয়ার পর নিজের প্রতিভার প্রমাণ দিতে বেশি সময় নেননি হাসান। ২০২৪ সালে ভারতের বিরুদ্ধে চেন্নাই টেস্টে রোহিত শর্মা, শুভমন গিল, বিরাট কোহলির মতো ব্যাটারকে ফিরিয়ে পাঁচ উইকেট নেন। ভারতের মাটিতে বাংলাদেশের কোনও পেসারের প্রথম টেস্ট পাঁচ উইকেট ছিল সেটি। বুমরাহর উইকেট নিয়ে পাঁচ পূর্ণ করার পর পিচেই সিজদায় নেমে পড়েছিলেন হাসান। তাঁর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অন্যতম স্মরণীয় ছবি হয়ে রয়েছে সেই মুহূর্ত। এরপর পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডিতেও পাঁচ উইকেট। আর এ বার অস্ট্রেলিয়ায় ছয়। তিনটি দেশের মাটিতে তিনটি বড় স্পেল। ঘটনাচক্র নয়, একটা ধারাবাহিকতার প্রমাণ।

হাসানের বোলিংয়ের সবচেয়ে বড় শক্তি অবশ্য শুধু গতি নয়। নতুন বলে দু’দিকে সুইং করাতে পারেন। অফস্টাম্পের আশপাশে একই জায়গায় বল করে যেতে পারেন দীর্ঘ সময়। আউটসুইং দিয়ে ব্যাটারকে বাইরে খেলতে টেনে এনে পরের বলেই ভিতরে ঢুকিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে। ব্যাটারকে শুধু একটি বল নয়, পরের কয়েকটি বল নিয়েও ভাবতে বাধ্য করেন হাসান।

এই জায়গাতেই ঘরোয়া ক্রিকেটের অভিজ্ঞতাও কাজে এসেছে। এ বছরের শুরুতে কনুইয়ে চোটের জন্য পাকিস্তান সিরিজ থেকে ছিটকে যাওয়ার পর ইংল্যান্ডে গিয়ে কেন্টের হয়ে খেলেছেন। ল্যাঙ্কাশায়ারের বিরুদ্ধে অভিষেকেই ন’উইকেট। চোট থেকে ফিরে লাল বলের ক্রিকেটে দীর্ঘ স্পেল করার সুযোগ পেয়েছেন, নিজের বোলিংকে আরও ঘষেমেজে নেওয়ার সময় পেয়েছেন।

তারপর ডারউইন। অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের দশটি উইকেটই নিয়েছেন পেসাররা। ছয়টি হাসানের। এক সময় বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটে যেখানে স্পিনারদের উপরই বেশি নির্ভর করতে হত, এখন তাসকিন, শরিফুল, নাহিদ রানা, হাসানদের নিয়ে পেস আক্রমণই নতুন পরিচয় তৈরি করছে। হাসানের গল্প সেই বদলেরই একটা অংশ। লক্ষ্মীপুর থেকে জাতীয় দল, চোট থেকে প্রত্যাবর্তন, ভারতের বিরুদ্ধে পাঁচ, পাকিস্তানে পাঁচ, আর অস্ট্রেলিয়ায় ছয়। ২৬ বছর বয়সে তাঁকে এখনও ‘উঠতি’ বলা যায়। কিন্তু বড় দলের বিরুদ্ধে বড় মঞ্চে কী করতে হয়, হাসান মাহমুদ সেটা ইতিমধ্যেই শিখে ফেলেছেন। এখন দেখার, এই আগুন কতদিন ধরে রাখতে পারেন।

প্রতিবেদন

admin