বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫
ব্রেকিং নিউজ
নিউ ফারাক্কায় ধস, বাতিল উত্তরবঙ্গগামী সব ট্রেন নিউটাউনে উত্তম কুমার ফিল্ম সেন্টারের শিলান্য়াস মুখ্য়মন্ত্রীর নেপালে ৯ দিন পর সুড়ঙ্গ থেকে উদ্ধার ২ শ্রমিক অভিষেকের ক্য়ামাক স্ট্রিটের অফিস খালির নির্দেশ

‌মুহূর্ত: ঐতিহ্য ও সময়ের গল্প

15 August, 2026 4:39 PM admin
শেয়ার করুন

সুনেত্রা সেনগুপ্ত : 

কথায় আছে—সময় কারও জন্য অপেক্ষা করে না। কিন্তু সেই সময়কেই যদি বাংলা সংস্কৃতি, ইতিহাস আর শিল্পের ফ্রেমে বেঁধে রাখা যায় তাহলে কেমন হয়? এই ভাবনা থেকেই ২০২৫ সালে পথচলা শুরু করে ‘মুহূর্ত’।
নেপথ্যে রয়েছেন মফস্‌সলের এক তরুণ দম্পতি—শুভজিৎ ও কিরণ। দুজনের লেখাপড়ার ক্ষেত্র একেবারেই আলাদা। শুভজিৎ ইতিহাসে পিএইচডি। অন্যদিকে কিরণ ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতে ডক্টরেট। ঘড়ি তৈরির কোনও বাণিজ্যিক
জ্ঞানগম্যিও তাদের ছিল না। ছিল শুধু বাংলা ভাষা, শিল্প আর নিজেদের শিকড়ের প্রতি এক অদ্ভুত টান। দেশের প্রতি অসীম ভালবাসা। সেই ভালবাসা থেকেই সম্পূর্ণ নতুন একটা জগতে পা রাখেন দুজনে।
‘মুহূর্ত’র শুরুটাই হয়েছিল বেশ চমক দিয়ে। কলকাতার বিখ্যাত ও প্রসিদ্ধ ভীম নাগের মিষ্টির দোকানের ঐতিহাসিক বাংলা দেওয়াল ঘড়িটির একটি রেপ্লিকা তৈরি করেন তাঁরা। সেই দেওয়াল ঘড়ি পলকেই নজর কাড়ে সাধারণ মানুষের। ব্যাস, তারপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। মাত্র এক বছরেই ‘মুহূর্ত’র ডিজাইন করা ঘড়ির সংখ্যা ৪০০ ছাড়িয়ে যায়।
এদের ঘড়ির নকশা সাধারণ কাজের গণ্ডি পেরিয়ে ছুঁয়ে দেয় ইতিহাসের পাতাকে ছুঁয়ে যায়। যার মধ্যে অন্যতম—

আজাদ হিন্দ ঘড়ি
নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে শ্রদ্ধা জানিয়ে তৈরি এই ঘড়িটি দেশজুড়ে হইচই ফেলে দিয়েছে। ঘড়িটির উদ্বোধন করেন আজাদ হিন্দ ফৌজের একমাত্র জীবিত সদস্য, স্বাধীনতা সংগ্রামী লেফটেন্যান্ট রঙ্গস্বামী মাধবণ পিল্লাই। আর পাঁচটা সাধারণ ঘড়ির থেকে এটি দেখতে একেবারেই আলাদা। ডায়ালের ঠিক মাঝে রয়েছে নেতাজির স্বপ্নের স্বাধীন ভারতের মানচিত্র। আর তার ওপর জ্বলজ্বল করছে ফৌজের প্রতীকী বাঘ। ডায়ালে রয়েছে নেতাজির নিজের বাংলা স্বাক্ষরটিও।
এই বিশেষ ঘড়িটি তুলে দেওয়ার জন্য তৈরি করা হয়েছে একটি সুন্দর কাঠের খোদাই করা বাক্স।

ভারতমাতা ঘড়ি
‘মুহূর্ত’র সাম্প্রতিক সংযোজন এই ঘড়িটি। ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গের সময় দেশবাসীকে একতার সুতোয় বাঁধতে শিল্পী অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর এঁকেছিলেন ‘বঙ্গমাতা’ (যা পরে ‘ভারতমাতা’ নামে পরিচিত হয়)। সেই ঐতিহাসিক ছবিকেই সম্মান জানানো হয়েছে এর মধ্য দিয়ে। এই ঘড়ির মাধ্যমে পুরনো মৈত্রী ও ঐক্যের বার্তাই ফের নতুন করে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। ঘড়িটির ঘণ্টা ও মিনিটের কাঁটা সাধারণ ডিজাইনের নয়; এগুলো তৈরি হয়েছে অবনীন্দ্রনাথের আঁকা সুন্দর নকশার অনুকরণে। দেশাত্মবোধ ও বিপ্লবী চেতনার অনবদ্য মেলবন্ধন এই ঘড়ি।
উচ্চশিক্ষার জগৎ থেকে বেরিয়ে শুভজিৎ ও কিরণের এই যৌথ প্রয়াস কেবল ব্যবসা নয়, বাংলা সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখা এবং দেশপ্রেমকে সম্মান জানানোর এক অনবদ্য উদ্যোগ। ‘মুহূর্ত’র প্রতিটি ঘড়ি তাই শুধু সময় দেখায় না, হাতের কবজিতে কিংবা ঘরের দেওয়ালে চিরকালীন ঐতিহ্য ও ইতিহাসকে জাগিয়ে রাখে ।

প্রতিবেদন

admin