বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫
ব্রেকিং নিউজ
টাইগার শ্রফের উপর হামলায় ধৃত আরও ৪ আজ বিজয়া দশমী, ঘাটে ঘাটে চলছে প্রতিমা নিরঞ্জন ভারতের সঙ্গে চুক্তি অন্যরকম, জানালেন ট্রাম্প দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে দশেরা

অক্ষয় পাত্র ফাউন্ডেশনের মিড ডে মিলের অনুমোদন বাতিল? সরকারি নোটিস একাধিক স্কুলে

14 September, 2026 7:10 PM UTSAB RC
শেয়ার করুন

সংবাদদাতা, কলকাতা: রাজ্যের স্কুলগুলির মিড ডে মিলের অনুমোদন পেয়েছিল ইসকন। জেলার স্কুলগুলির মিড ডে মিল দেওয়ার দায়িত্ব নিয়েছিল ‘অক্ষয় পাত্র ফাউন্ডেশন’। এবার তাদের অনুমোদন  বাতিল করল রাজ্য সরকার। গত ২১ অগস্ট হাওড়া, পুরুলিয়া, উত্তর ২৪ পরগনা এবং পূর্ব মেদিনীপুরের কিছু এলাকার স্কুলে মিড-ডে মিল খাবার সরবরাহের কাজ শুরু করেছিল ‘অক্ষয় পাত্র ফাউন্ডেশন’। কিন্তু বিকাশ ভবন সূত্রে জানা গিয়েছে,  সংশ্লিষ্ট জেলাগুলির দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের কাছে ইতিমধ্যে লিখিতভাবে এই নির্দেশ পাঠানো হয়েছে।

কীভাবে শুরু হয়েছিল গোটা প্রক্রিয়া

রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পরে, প্রথম বাজেটেই পুরো ঘটনার সূত্রপাত। সেই সময় ঘোষণা করা হয়, কলকাতার স্কুলগুলিতে মিড-ডে মিল পরিবেশনের দায়িত্ব পাবে ইসকন। সরকারের তরফে তখনই আভাস দেওয়া হয়েছিল, কলকাতায় সফল হলে ভবিষ্যতে এই মডেল রাজ্যের অন্যত্রও চালু হতে পারে।

কিন্তু কলকাতায় এই ব্যবস্থা শুরু হতেই একের পর এক অভিযোগ উঠতে থাকে — কখনও খাবার পৌঁছতে দেরি, কখনও আবার নিরামিষ খাবার দেওয়া নিয়ে আপত্তি। শেষমেশ রাজ্য সরকার পৃথকভাবে পড়ুয়াদের ডিম দেওয়ার ব্যবস্থা চালু করে, যা এখনও বহাল আছে।

অন্নামৃত বনাম অক্ষয় পাত্র: জট আরও জটিল

উল্লেখ্য, কলকাতায় মিড-ডে মিলের দায়িত্বে রয়েছে  ‘অন্নামৃত ফাউন্ডেশন’, আর কলকাতার বাইরের জেলাগুলোর স্কুলের জন্য গত জুলাইয়ে দায়িত্ব পায় ‘অক্ষয় পাত্র’। সেই প্রস্তাব খতিয়ে দেখে অনুমোদনও দিয়েছিল সরকার। কিন্তু গত ১১ সেপ্টেম্বর হঠাৎই এক নির্দেশিকায় জানানো হয়, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে সেই অনুমোদন প্রত্যাহার করা হচ্ছে।

আগস্ট মাসে কলকাতার প্রায় ৫০০টি স্কুলে মিড-ডে মিলের দায়িত্ব পাওয়ার সময় স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী যজ্ঞ করে এই প্রকল্পের উদ্বোধন করেছিলেন। তারপরও বিতর্ক থামেনি — নিরামিষ খাবার নিয়ে আপত্তি থেকে শুরু করে খাবার না পাওয়ার অভিযোগে পড়ুয়াদের বাড়ি ফিরে যাওয়ার মতো ঘটনাও সামনে এসেছিল। পরিস্থিতি পরে স্বাভাবিক হলেও, ইসকনকে এই দায়িত্ব দেওয়ার বিরুদ্ধে হাইকোর্টেও মামলা দায়ের হয়েছিল। সে সময় ইসকন নিজেই চিঠি দিয়ে জানিয়েছিল, কলকাতা পুরসভা এলাকা বা রাজ্যের কোথাও মিড-ডে মিল বিতরণের সঙ্গে তারা সরাসরি যুক্ত নয় — যদিও স্কুলশিক্ষা দফতরের এক কর্তার দাবি, ‘অন্নামৃত’ ও ইসকন আইনত পৃথক হলেও একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত।

কেন বাতিল হল অনুমোদন?

এবার অক্ষয় পাত্রর অনুমোদন কেন বাতিল হল, তা নিয়ে স্পষ্ট কোনও ব্যাখ্যা দেয়নি দপ্তর — শুধু জানানো হয়েছে, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তই সংশ্লিষ্ট জেলাগুলিকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। যে এলাকাগুলো এই সিদ্ধান্তে প্রভাবিত হচ্ছে, তার মধ্যে আছে উত্তর ২৪ পরগনার বিধাননগর, দমদম, রাজারহাট-নিউ টাউন, হাওড়া, পুরুলিয়া এবং পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম-১ ও নন্দীগ্রাম-২।

তবে শিক্ষকদের একাংশের মত, এর পেছনে আসল কারণ হয়তো ডিম দেওয়ার খরচ নিয়ে জটিলতা। বাজেট অনুযায়ী প্রাথমিক ও উচ্চপ্রাথমিকে বরাদ্দ যথাক্রমে ১০ টাকা এবং ১০ টাকা ১৭ পয়সা — এর মধ্যেই আলাদা করে ডিমের খরচ সামলানো নিয়ে সমস্যা তৈরি হয়েছে বলে তাঁদের ধারণা। বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডলের কথায়, এই রাজ্যে জোর করে ইসকনের মাধ্যমে মিড-ডে মিল চালানো যাবে না। তারই ফল স্বরূপ পিছিয়ে আসতে হল সরকারকে। অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গ মিড-ডে মিল কর্মী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মধুমিতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই সিদ্ধান্তকে তাঁদের আন্দোলনের জয় বলে দাবি করে বলেছেন, কোনও দরপত্র ছাড়াই এভাবে কোনও সংস্থাকে বরাত দেওয়া উচিত নয়।

প্রতিবেদন

UTSAB RC