চারণভূমিতে মিলল ৫৬ কোটি বছর আগের প্রাণীর খোঁজ!
সঙ্গীতা সেন
দিগন্তজোড়া সবুজ চারণভূমি। সেখানে ভেড়াদের অবাধ বিচরণ। শয়ে শয়ে ভেড়া সারাদিন এই মাঠে ঘুরে বেড়ায়, ঘাস খায়। সন্ধেয় ঘরে ফিরে যায়। সেই মাঠেয় ইতিউতি ছড়িয়ে ছোট বড় হরেক আকারের পাথরের টুকরো। নিতান্তই সাধারণ বলে কেউই সেভাবে গ্রাহ্য করত না। কিন্তু সেই পাথরের একটিই যে ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিকদের কাছে মহামূল্যবান হয়ে উঠবে তা বোধহয় কেউ স্বপ্নেও ভাবেনি কখনও।
নরওয়ের ফিনমার্ক এলাকার ঘটনা। বছরের পর বছর ধরে মাঠটি ভেড়া চড়ানোর মাঠ হিসেবেই এলাকায় পরিচিত। এই মাঠেই ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা অজস্র পাথরের মধ্যে একটি তার শরীরে বয়ে চলেছিল ৫৬ কোটি বছর আগের এক প্রাণীর কথা! তবে বিষয়টা এখানেই শেষ নয়। প্রত্নতাত্ত্বিকদের কাছে কেন এত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠল পাথরটি? আসলে পৃথিবীতে যে সময় থেকে জটিল প্রাণের ইতিহাস শুরু হয়েছিল, পাথরের লুকিয়ে থাকা প্রাণীর জীবাশ্ম ঠিক সেই সময়কার।
এক্ষেত্রে জীবাশ্মটিতেও রয়েছে কিছু বিশেষত্ব। সাধারণত জীবাশ্ম পাথরের ওপর একটি সমতল ছাপের আকারে থাকে। কিন্তু চারণভূমির পাথরে পাওয়া গেছে একটি প্রাণীর ত্রিমাত্রিক জীবাশ্ম।প্রত্নতাত্বিকদের ধারণা, প্রাণীটি মারা যাওয়ার অত্যন্ত কম সময়ের মধ্যেই সেটি মাটির নীচে চাপা পড়ে গিয়েছিল। তার ফলেও প্রাণীটির ত্রিমাত্রিক ছাপ বা থ্রিডি ইমেজ ফুটে উঠেছে পাথরের গায়ে। তবে সবটাই ঘটেছে আজ থেকে ৫৬ কোটি বছর আগে! জীবাশ্মটি পরীক্ষার পর বিজ্ঞানীদের অনুমান, প্রাণীটির শরীরে কোনও শক্ত হাড় ছিল না। এমনকী ছিল না কোনও খোলসও। তার শরীর ছিল তুলতুলে নরম। সম্ভবত সেটি ছিল নাম চারনিয়া প্রজাতির প্রাণী। স্ক্যান্ডিনেভিয়ায় পাওয়া এটিই প্রথম চারনিয়া জীবাশ্ম বলে নিশ্চিত করেছেন বিজ্ঞানীরা। সেই সঙ্গে জানিয়েছেন, ৫৬ কোটি বছরের পুরনো এক প্রাণীর ত্রিমাত্রিক জীবাশ্ম পাওয়া অবশ্যই এক চমকপ্রদ এবং আশ্চর্য আবিষ্কার।
