বাংলার ফুটবল বদলে যাবে, অ্যাকাডেমির ঘোষণা মিঠুন চক্রবর্তীর
সংবাদদাতা, কলকাতা: দীর্ঘ পনেরো বছরের প্রতীক্ষা শেষে অবশেষে বাস্তব রূপ পেতে চলেছে অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তীর বহুদিনের স্বপ্নের প্রকল্প — ‘বেঙ্গল ফুটবল অ্যাকাডেমি’। সোমবার নিউ টাউনে প্রাক্তন তারকা ফুটবলার কম্পটন দত্ত, মিহির ঘোষ প্রমুখকে পাশে নিয়ে এই বৃহৎ উদ্যোগের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেন তিনি। রাজ্যের ফুটবলে হারিয়ে যাওয়া গরিমা ও উন্মাদনা ফিরিয়ে আনতে রাজ্য সরকারের সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি মেলার পরই এই সিদ্ধান্তে পৌঁছান মিঠুন। পাশাপাশি পূর্ববর্তী প্রশাসনের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগও তোলেন তিনি।
প্রায় দেড় দশক আগে এই অ্যাকাডেমির চিন্তাভাবনা শুরু হলেও উপযুক্ত জমির অভাবে তা এতদিন আটকে ছিল। এখন রাজ্য সরকার জমি দেওয়ার ব্যাপারে ইতিবাচক সাড়া দেওয়ায় প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগিয়ে নিতে চাইছেন মিঠুন। তাঁর কথায়, দীর্ঘদিন ধরে জমির জন্য চেষ্টা করেও ফল মেলেনি। কিন্তু এখন পরিস্থিতি পাল্টেছে এবং সরকারের আশ্বাসেই তিনি তাঁর পুরনো স্বপ্ন পূরণের পথে এগোতে চান। শুরুতে ৬০ জন প্রতিভাবান তরুণ ফুটবলারকে নিয়ে এই আবাসিক অ্যাকাডেমির যাত্রা শুরু হবে, যেখানে থাকবে আধুনিক জিম সুবিধা, পুষ্টিকর খাদ্য পরিকল্পনা, মানসম্মত কোচিং এবং নিয়মিত প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচের ব্যবস্থা।
জেলা ও পাহাড়ে প্রতিভা অন্বেষণ করতে চান বর্ষীয়ান অভিনেতা। তিনি জানান, এই অ্যাকাডেমিতে সুপারিশের কোনও স্থান নেই। মোহনবাগান বা ইস্টবেঙ্গলের মতো বড় ক্লাবগুলোতে বাঙালি ফুটবলারের সংখ্যা ক্রমশ কমে যাওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন মিঠুন। তাঁর মতে, এই অ্যাকাডেমির মূল উদ্দেশ্য হবে খাঁটি প্রতিভা খুঁজে বের করা। উত্তরবঙ্গ ও জঙ্গলমহল থেকে দার্জিলিং-কালিম্পংয়ের পার্বত্য এলাকা পর্যন্ত — বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড় চিহ্নিত করতে প্রাক্তন ও আন্তর্জাতিক ফুটবলারদের সমন্বয়ে একটি বিশেষ স্কাউটিং দল গঠন করা হচ্ছে।
তিনি স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন, অ্যাকাডেমিতে ভর্তির ক্ষেত্রে কোনওরকম স্বজনপোষণ বা সুপারিশের সুযোগ থাকবে না; একমাত্র যোগ্যতাই হবে প্রবেশের মাপকাঠি। অ্যাকাডেমি চালানোর আর্থিক দিকটিও খোলাসা করেছেন মিঠুন। ইতিমধ্যে সংগৃহীত ১ কোটি টাকার তহবিলকে বিভিন্ন মাধ্যমে বাড়িয়ে ৪ কোটি টাকায় নিয়ে যাওয়াই তাঁদের প্রাথমিক লক্ষ্য, যাতে পরিকাঠামো নির্মাণ ও দৈনন্দিন পরিচালনার খরচ সহজেই মেটানো যায়। এই লক্ষ্যে সহযোগিতার জন্য তিনি AIFF, IFA এবং রাজ্য সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছেন। ক্রিকেটের চেয়ে ফুটবলই যে তাঁর কাছে বেশি প্রিয়, তা আবারও স্পষ্ট করে মিঠুন বলেন, সারাজীবন তিনি ফুটবল নিয়েই ভেবেছেন এবং বাংলার ফুটবলে হারিয়ে যাওয়া সেই উন্মাদনা ফিরিয়ে আনতে চান।
