তথ্যচিত্র বিষয়ক আলোচনা ও উপস্থাপনা
রিমি দত্ত
নিউটাউনের ড.এপিজে আবদুল কালাম গভর্নমেন্ট কলেজে হয়ে গেল তথ্যচিত্র বিষয়ক একটি অনুষ্ঠান। কলেজের বাংলা বিভাগ ও অভ্যন্তরীণ মূল্যমান নিশ্চিতকরণ কমিটি (IQAC)–র যৌথ উদ্যোগে ‘শিক্ষার্থীর দক্ষতা–উন্নয়নে তথ্যচিত্রের ভূমিকা’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানে আলোচক হিসাবে ছিলেন বিশিষ্ট তথ্যচিত্র নির্মাতা, গবেষক, লেখক শান্তনু সাহা।
ভারতে তথ্যচিত্রের নির্মাণ–ইতিহাস এবং নির্বাক ও সাদা–কালো যুগ থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক কাল পর্যন্ত তথ্যচিত্রের আঙ্গিকগত বিবর্তনের দিকটি আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি বিষয়টি সম্পর্কে ধারণা দেওয়ার জন্য প্রদর্শনেরও ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষা মৌসুমি চক্রবর্তী স্বাগত ভাষণে কলেজ পড়ুয়াদের দক্ষতা ও উন্নয়ন বিষয়ক এই ধরনের অনুষ্ঠান আরও বেশি করে আয়োজনের ওপর জোর দেন। বাংলার বিভাগীয় প্রধান ড.ঋষিপ্রতিম ঘোষ সাম্প্রতিক তথ্যচিত্রের জগতে গত আড়াই দশকেরও বেশি সময় ধরে পরিচালক ও নির্মাতা শান্তনু সাহার অবদানের কথা বলেন। পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ কলেজগুলিতে এবং অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে স্নাতকস্তরে চলচ্চিত্র, তথ্যচিত্র প্রভৃতিকে সিলেবাসের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে জাতীয় শিক্ষানীতির শর্ত মেনে। ফলে এই ডিজিটাল যুগে তাত্ত্বিক বিষয়গত পড়াশোনার বাইরে হাতেকলমে প্রশিক্ষণের ব্যাপারটি এখন সিলেবাসেরই অংশ। অনুষ্ঠানের বাড়তি পাওনা ছিল ২০২৩ সালে শান্তনু সাহা নির্মিত ‘বিন্দুর পাঠশালা’ তথ্যচিত্রটির প্রদর্শন। ঝাড়গ্রামের বাঁশতলা গ্রামে ‘রাজীব স্যার’–এর একক উদ্যোগে বয়স্ক মা ও শিশুদের মধ্যে শিক্ষা প্রসারে রাজীব স্যারের একক চেষ্টা এবং তাঁর অকালমৃত্যুর মর্মস্পর্শী কাহিনি ধরা পড়েছে তথ্যচিত্রে। একাধিক ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে পুরস্কার জিতে নিয়েছে এই ছবিটি। তথ্যচিত্রের নির্মাণকৌশল বিষয়ক প্রশিক্ষণ যে শিক্ষার্থীদের ধরাবাঁধা সিলেবাসের বাইরে ‘জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০’ অনুযায়ী দক্ষতা–বৃদ্ধিতে আগামীদিনে অন্যতম সহায়ক হতে পারে, তা এদিনের আলোচনা ও উপস্থাপনায় স্পষ্ট হয়ে যায়।
