BRICS সম্মেলনে চর্চায় পুতিন-জিনপিং, কী আছে দুই প্রেসিডেন্টের গাড়িতে?
নয়াদিল্লি, 13 সেপ্টেম্বর: নয়াদিল্লিতে BRICS সম্মেলন। এই সম্মেলনে তামাম বিশ্বের নজরে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের দিকেই। নয়াদিল্লির রাস্তায় তাঁদের নিরাপত্তার বহর চোখে পড়েছে অনেক মানুষেরই। কিন্তু এই রাষ্ট্রনেতারা যে গাড়ি করে যাচ্ছেন, তার কতটা নিরাপত্তা জানেন? প্রবল গুলিবর্ষণ বা বোমাঘাত বা আরও কোনও বড় হামলা হলেও গাড়ি কিন্তু দাঁড়াবে না। শুধু তাই নয়, গাড়ির এমার্জেন্সি এমন কিছু সিস্টেম আছে, সব ইন্টারনেটে কোনও দিন প্রকাশিত হয়নি। তবে যেটুকু জানা যায়, তা শুনেই চক্ষু চড়কগাছ হওয়ার জোগাড়।
পুতিনের ‘অরাস সেনাত’
১১ সেপ্টেম্বর দিল্লি পৌঁছান রাশিয়ান প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। রাশিয়ায় তৈরি অরাস সেনাত গাড়িতে তিনি ভারতে সফর করছেন। ২০১৮ সাল থেকে এই গাড়িটিই ব্যবহার করছেন তিনি। তার আগে পুতিনের গাড়ি ছিল মার্সিডিজ-বেঞ্জ এস ৬০০ গার্ড পুলম্যান। রাশিয়া এখন নিজস্ব প্রযুক্তিতে শীর্ষ নেতৃত্বের জন্য গাড়ি তৈরি করে। এখন রাশিয়ার ‘কর্তেজ’ প্রকল্পের অধীনে পুতিনের এই গাড়ি বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে।
প্রায় সাত মিটার লম্বা এই গাড়িটি। সাঁজোয়া কাঠামো ও নিরাপত্তা সরঞ্জামে গাড়ির ওজন অনেকটাই বেশি। ৪.৪ লিটারের টুইন-টার্বো ভি৮ হাইব্রিড ইঞ্জিন প্রায় ৫৯৮ হর্সপাওয়ার উৎপন্ন করে, সঙ্গে রয়েছে ন’টি গিয়ারের অটোমেটিক ট্রান্সমিশন এবং অল-হুইল ড্রাইভ ব্যবস্থা।
গাড়িটির প্রকৃত নিরাপত্তা প্রকাশ্যে জানানো হয় না। তবে জানা যায় যে কোনও বিষ্ফোরণেও এই গাড়ির কিচ্ছু হবে না। জানালার কাচে বুলেটপ্রুফের বেশ কয়েকটি স্তর আছে। রান-ফ্ল্যাট টায়ার আছে, যার ফলে গাড়ির চাকা লিক হলেও গাড়ি চলবে। শক্তিশালী জ্বালানি ট্যাঙ্ক বিশিষ্ট এই গাড়ি। তেল ফুরিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। রাসায়নিক হামলার আশঙ্কায় যাত্রী কেবিনে আলাদা অক্সিজেন ও বাতাস পরিশোধন ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। রয়েছে বিশেষ অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা।
ভেতরের কেবিনে আছে গরম ও ঠান্ডা হওয়ার ম্যাসাজ আসন, ডিজিটাল স্ক্রিন, কাজ করার টেবিল, ফ্রিজ এবং গোপনীয়তা রক্ষাকারী পার্টিশন। সাধারণ বাজারে এই গাড়ির দাম প্রায় আড়াই কোটি টাকা হলেও পুতিনের ব্যবহৃত সংস্করণটি অতিরিক্ত নিরাপত্তা প্রযুক্তিসহ বাজারে বিক্রির জন্য উপলব্ধ নয়। উল্লেখযোগ্য বিষয়, গত বছর চিনে অনুষ্ঠিত এসসিও সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই একই অরাস গাড়িতে পুতিনের সঙ্গে যাত্রা করেছিলেন।
জিনপিংয়ের হোংছি এন৭০১
১২ সেপ্টেম্বর দিল্লি এসেছেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। ভারত সফরে এবার তাঁর গাড়ি নিয়ে বেশ চর্চা চলছে। একটি কালো কাপড় দিয়ে তাঁর গাড়ি ঢেকে রাখা হচ্ছে। চিনের হোংছি ব্র্যান্ডের এন৭০১ মডেল গাড়ি ব্যবহার করছেন জিনপিং। ১৯৫৮ সালে ফার্স্ট অটোমোবাইল ওয়ার্কস প্রতিষ্ঠিত হয়। এই ব্র্যান্ড মূলত চিনের রাজনৈতিক নেতৃত্বের জন্য গাড়ি তৈরি করত, পরে বিদেশি বিলাসবহুল সংস্থার প্রভাবে এর জনপ্রিয়তা কিছুটা কমলেও সম্প্রতি একে দেশীয় প্রিমিয়াম ব্র্যান্ড হিসেবে ফের ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
এন৭০১ মডেলটি সম্পর্কে চিন সরকার সরকারিভাবে খুব কম তথ্যই প্রকাশ করেছে। ধারণা করা হয়, গাড়িটি ১৮ ফুটেরও বেশি লম্বা এবং ওজন তিন টনের বেশি। এতে ভারী বর্ম, বুলেটপ্রুফ কাচ, মজবুত ইনফাস্ট্রাকচার এবং স্বাধীন জীবনরক্ষাকারী ও যোগাযোগ ব্যবস্থা থাকার কথা জানা যায়। তবে অরাসের বিপরীতে, এই গাড়ির ইঞ্জিন, শক্তি বা প্রকৃত সুরক্ষা মাত্রা সম্পর্কে কোনো তথ্যই প্রকাশ্যে আসেনি। খুব সীমিত সংখ্যায় তৈরি হয় এই গাড়ি। সাধারণ ক্রেতাদের জন্য বাজারে পাওয়া যায় না।
হোংছি ব্র্যান্ডের আরেকটি মডেল এল৫-এর সঙ্গেও ভারতের যোগসূত্র রয়েছে। ২০২৫ সালে তিয়ানজিনে এসসিও সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী মোদী এই এল৫ গাড়িতেই যাত্রা করেছিলেন, আর ২০১৯ সালে মহাবলীপুরমে আনঅফিসিয়াল বৈঠকের সময় জিনপিংও একই মডেল ব্যবহার করেছিলেন। সাড়ে পাঁচ মিটারের বেশি লম্বা এই গাড়ির ইঞ্জিন ৬.০ লিটার ভি১২, যার ক্ষমতা ৪০০ হর্সপাওয়ারেরও বেশি এবং সর্বোচ্চ গতি প্রায় ঘণ্টায় ২১০ কিলোমিটার। এর দাম প্রায় সাত কোটি টাকা।
