রোপওয়েতেই চলে যান দার্জিলিং, লাগবে মাত্র 45 মিনিট
নয়াদিল্লি, ১২ সেপ্টেম্বর: পাহাড়ে পর্যটকদের জন্য বড় সুখবর। পর্যটনের মরসুমে যানজটের সমস্যা মেটাতে কার্সিয়াং থেকে দার্জিলিং পর্যন্ত রোপওয়ে চালুর পরিকল্পনা করছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। সরকারি সূত্রের দাবি, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ৩২ কিলোমিটারের এই পথ পেরোতে সময় লাগবে মাত্র ৪৫ মিনিট। অথচ বর্তমানে ব্যস্ত মরসুমে এই পথ পার হতেই লেগে যায় চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা।
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, রোপওয়ে প্রকল্পের ফিজিবিলিটি স্টাডি ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে এবং প্রাথমিক ভাবে প্রকল্পটিকে আর্থিক ও প্রযুক্তিগতভাবে কার্যকর বলে মনে করা হয়েছে। আনুমানিক তিন হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হতে পারে। বেসরকারি সংস্থার অংশীদারিত্বে ‘বিল্ড ওন অপারেট ট্রান্সফার’ বা BOOT মডেলে প্রকল্পটি রূপায়িত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, এবং শীঘ্রই এই বিষয়ে এক্সপ্রেশন অফ ইন্টারেস্ট (EOI) আহ্বান করা হতে পারে।
সরকারি আধিকারিকদের মতে, কার্সিয়াংয়ের পর থেকেই এই পাহাড়ি পথের মূল যানজট শুরু হয়। শিলিগুড়ি থেকে কার্সিয়াং পৌঁছনোর জন্য হিল কার্ট রোড, রোহিণী রোড এবং পাঙ্খাবাড়ি রোড— এই তিনটি রাস্তা থাকলেও, কার্সিয়াং থেকে দার্জিলিংয়ের দিকে মূলত NH110 বা হিল কার্ট রোডের উপরই নির্ভর করতে হয় পর্যটকদের। ফলে পর্যটনের মরসুমে বিপুল সংখ্যক গাড়ির চাপে এই পথে বছরের পর বছর ধরে দীর্ঘ যানজট তৈরি হচ্ছে।
পাহাড়ে নতুন রাস্তা তৈরি করা কঠিন হওয়ায় বিকল্প উপায়ে এই সমস্যা মেটানোর কথা ভাবছে প্রশাসন। সেই ভাবনা থেকেই রোপওয়ের পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে সরকারি সূত্রের দাবি। পরিকল্পনা অনুযায়ী, পর্যটকরা সড়কপথে কার্সিয়াং পৌঁছে সেখান থেকে কেবল কারে দার্জিলিং যেতে পারবেন।
শুধু পর্যটক পরিবহণ নয়, এই রোপওয়ের মাধ্যমে দার্জিলিংয়ে খাদ্যশস্য, সবজি-সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পাঠানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। বর্তমানে পণ্যবাহী ট্রাক পাহাড়ে ওঠার ফলে রাস্তায় যানবাহনের চাপ আরও বেড়ে যায়— রোপওয়ে চালু হলে সেই সমস্যাও অনেকটা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
কার্সিয়াং-দার্জিলিং প্রকল্পের পাশাপাশি কালিম্পং থেকে গ্যাংটক পর্যন্ত রোপওয়ে তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে রাজ্যের। প্রথম প্রকল্পটি সফল হলে পরবর্তী পর্যায়ে এই কালিম্পং-গ্যাংটক রোপওয়ে প্রকল্প নিয়ে এগোনোর কথা ভাবছে সরকার। বর্তমানে শিলিগুড়ি থেকে গ্যাংটক যাওয়ার প্রধান রাস্তা NH10 ধসের কারণে প্রায়ই বন্ধ হয়ে যায়, ফলে বিকল্প যোগাযোগ ব্যবস্থা হিসেবে রোপওয়ের পরিকল্পনাকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছে প্রশাসন।
