পুজোর মাসেই রাজ্যজুড়ে বাড়ছে মদের দাম, সুরাপ্রেমীদের মাথায় হাত
সংবাদদাতা, কলকাতা: বিজেপির ক্ষমতায় আসার পর প্রথম দুর্গোৎসব। আর দুর্গাপুজোর আগেই রাজ্যে মদের দাম বাড়তে চলেছে। মে মাসে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই রাজস্ব বৃদ্ধিতে বিশেষ জোর দিয়েছে নবান্ন। সেই লক্ষ্যেই পুজোর আগে বিদেশি মদ, বিয়ার এবং ভারতে তৈরি মদ—এই তিন ধরনের পানীয়েরই নতুন মূল্যকাঠামো তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ স্টেট বেভারেজেস কর্পোরেশন লিমিটেডের (ডব্লিউএসবিসিএল) সাম্প্রতিক বিজ্ঞপ্তিতে সরাসরি মূল্যবৃদ্ধির নির্দিষ্ট হার উল্লেখ না থাকলেও, ১ অক্টোবর থেকে সব পণ্যের নতুন দাম কার্যকর হবে বলে স্পষ্ট জানানো হয়েছে। এমন কী কোনও পণ্যের দাম অপরিবর্তিত থাকলেও তা নতুন করে নথিভুক্ত করতে হবে। উল্লেখ্য, এবার ১০ অক্টোবর মহালয়ার মধ্য দিয়ে দেবীপক্ষের সূচনা হচ্ছে, তার ঠিক আগেই এই মূল্যবৃদ্ধি কার্যকর হতে চলেছে।
৩ সেপ্টেম্বর রাজ্য পানীয় নিগমের সদর দফতরে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বিদেশি মদ, বিয়ার ও ভারতে তৈরি মদ সরবরাহের জন্য প্রকাশিত এক্সপ্রেশন অফ ইন্টারেস্ট (ইওআই) নিয়ে বিভিন্ন সংস্থা ও প্রস্তুতকারকের সঙ্গে আলোচনা হয়। ২৫ অগস্ট জারি হওয়া তিনটি ‘প্রি বিড’-এর ভিত্তিতেই এই বৈঠক ডাকা হয়েছিল। বৈঠকে সংস্থাগুলিকে নতুন মূল্য সংক্রান্ত নথি জমা দেওয়া এবং পণ্য নথিভুক্তির খুঁটিনাটি স্পষ্ট করে দেওয়া হয়। নিয়ম অনুযায়ী, ইওআই গ্রহণের পর সমস্ত পণ্যকে নতুন মূল্যে ফের নথিভুক্ত করতে হবে, এবং এই নতুন মূল্য কার্যকর হবে ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে। সংস্থাগুলিকে যে দাম ঘোষণা করতে হবে, তা প্রচলিত আবগারি আইন এবং ৩০ জুন ২০২৬-এর সর্বভারতীয় সর্বনিম্ন নির্ধারিত মূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে বলেও শর্ত রাখা হয়েছে।
পুজোর সময় মদ বিক্রি রাজ্যের আবগারি রাজস্বের অন্যতম প্রধান উৎস। উৎসবের ঠিক আগে তাই এই সিদ্ধান্ত রাজ্যের কোষাগারের জন্য বেশ তাৎপর্যপূর্ণ । নবান্নের এক শীর্ষ আধিকারিকের বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই রাজস্ব বৃদ্ধিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। সরকারি হিসেব বলছে, ক্ষমতায় আসার প্রথম তিন মাসেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সরকার রাজস্ব বৃদ্ধির হার ১৮ শতাংশে পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়েছে। তবে আগের সরকারের রেখে যাওয়া প্রায় ৮ লক্ষ কোটি টাকার ঋণের বোঝা এখনও বড় আর্থিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে, যার জেরে রাজ্যের নিজস্ব আয়ের উৎসগুলিকে আরও মজবুত করার চেষ্টা চলছে। এই প্রেক্ষাপটে মদ থেকে প্রাপ্ত আবগারি রাজস্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিজ্ঞপ্তিতে দোকানে মজুত থাকা পুরনো দামের মদ নিয়েও স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে—বর্তমান বোতল-লেবেল নথিভুক্তির মেয়াদ থাকা পর্যন্ত সেগুলি বিক্রি করা যাবে। পাশাপাশি উৎসবের মরসুমে সরবরাহে যাতে কোনও ঘাটতি না হয়, তার জন্য প্রস্তুতকারকদের নিয়মিত জোগান বজায় রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলিকে নির্ধারিত পদ্ধতি মেনে আবেদন করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় নথি ডিজিটাল স্বাক্ষর সহযোগে অনলাইনে জমা দিতে হবে। তবে ঠিক কত টাকা বা কত শতাংশ দাম বাড়বে, অথবা কোন ব্র্যান্ডে কী পরিমাণ পরিবর্তন আসবে—সে বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিতে কোনও নির্দিষ্ট তথ্য দেওয়া হয়নি। আপাতত নতুন করে পণ্য নথিভুক্তকরণ, মূল্য সংক্রান্ত তথ্য জমা এবং ১ অক্টোবর থেকে নতুন মূল্য কার্যকর হওয়ার বিষয়টিই স্পষ্ট করা হয়েছে। ফলে চূড়ান্ত মূল্যতালিকা প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত বোতলপ্রতি প্রকৃত মূল্যবৃদ্ধি ঠিক কতটা হবে, তা স্পষ্ট হবে না বলেই মনে করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে, পুজোর মরসুমে রাজ্যের মদের বাজারে বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিললেও, চূড়ান্ত ছবি স্পষ্ট হতে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।
