পুজোর বুকস্টলে বিদেশি মতবাদ, গীতা-বিবেকানন্দ নেই, ফের বামেদের নিশানা মুখ্যমন্ত্রীর
সংবাদদাতা, কলকাতা: যাদবপুরের সভা থেকেই বার্তা দিয়েছিলেন। বার্তা দিয়েছেন বিধানসভাতেও। শনিবার কেষ্টপুরে গণেশ পুজো উদ্বোধন করতে এসে বামপন্থীদের দুর্গাপুজোর স্টল নিয়ে আরও আক্রমণ শানালেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দীর্ঘ ৩৪ বছরের বাম শাসনকালে বাংলার সনাতন সংস্কৃতি ও পুজো-পার্বণকে কীভাবে কোণঠাসা করে রাখা হয়েছিল, তা মনে করিয়ে দেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর অভিযোগ করেন, পুজোর সময় মণ্ডপের পাশে লাল শালু টাঙিয়ে বসানো বামপন্থীদের বইয়ের স্টলে কার্ল মার্ক্স ও লেনিনের বিদেশি রচনা মিললেও স্বামী বিবেকানন্দ, লোকনাথজি বা ভারত সেবাশ্রম সংঘের প্রকাশনার কোনও বই খুঁজে পাওয়া যেত না। তাঁদের বুকস্টলে পশ্চিমবঙ্গ গঠনের ইতিহাস বা দ্বিজাতি তত্ত্ব সংক্রান্ত কোনও আলোচনাও সেখানে ঠাঁই পেত না।
রাজারহাট-গোপালপুর বিধানসভার বিধায়ক এবং বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে যথাযথ প্রথা মেনে আরতি ও গণপতি বাপ্পার আশীর্বাদ নিয়ে পুজোর উদ্বোধন করেন তিনি। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সমীর ব্রহ্মচারী, হিরন্ময়ানন্দ প্রভু, বিধায়ক তরুণজ্যোতি তেওয়ারী, পিযূষ কানোড়িয়া এবং অরিজিৎ বক্সী প্রমুখ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘মন কি বাত’-এর প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, রাজারহাট-গোপালপুর তথা গোটা পশ্চিমবঙ্গের সুখ-সমৃদ্ধি ও প্রগতি কামনা করেই এই গণেশ পুজোর আয়োজন। এই প্রসঙ্গে তিনি স্মরণ করেন, ১৯৪৭ সালের ২০ জুন ডক্টর শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও স্বামী প্রণবানন্দের প্রচেষ্টাতেই বাঙালি হিন্দুদের আবাসভূমি হিসেবে পশ্চিমবঙ্গের জন্ম হয়েছিল।
দীর্ঘ ৩৪ বছরের কমিউনিস্ট শাসন এবং তার পরবর্তী ১৫ বছরের রাজনৈতিক পালাবদলের প্রসঙ্গ তুলে তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে পঞ্জিকা, শাস্ত্র, পুরোহিত এবং মন্ত্রোচ্চারণের ঐতিহ্যকে ভুলিয়ে দেওয়ার সুপরিকল্পিত প্রয়াস চলেছিল। এমনকি দুর্গাপুজো বা মহালয়া প্রচার নিয়েও নানা সময়ে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। পাশাপাশি, আগের সরকারের আমলে বিজয়া দশমীর দিন মহরমের যুক্তি দেখিয়ে প্রতিমা নিরঞ্জন আটকে দেওয়ার চেষ্টারও সমালোচনা করেন তিনি।
পিতৃপক্ষে পুজো উদ্বোধনের রীতিতে এতদিন এই রাজ্যে হিন্দুধর্মের ভাবাবেগে আঘাত লেগেছে বলে দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর মতে, জেলবন্দি এক প্রাক্তন মন্ত্রীর আমলে এই রাজ্যে পিতৃপক্ষেই পুজোর উদ্বোধন সেরে ফেলার প্রথা চালু হয়েছিল, যা সনাতনী রীতির পরিপন্থী। তবে এখন থেকে দেবীপক্ষ তথা মহালয়ার দিন থেকেই পুজোর উদ্বোধন হওয়া উচিত, এবং মহাষ্টমীতে শুচি-শুদ্ধ হয়ে অঞ্জলি দেওয়ার পুরনো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানান তিনি। ধর্ম, সংস্কৃতি ও পরম্পরা রক্ষায় সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকার ডাক দেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রশাসনিক আধিকারিক, সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধি, মাতৃমণ্ডলী এবং যুবসমাজকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বিভাজনের রাজনীতি এড়িয়ে চলার বার্তা দেন। হিন্দিভাষী, গুজরাতি, বাঙালি কিংবা মাড়োয়ারি— সব ভেদাভেদ ভুলে দেশের স্বার্থে সবাইকে একজোট হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। শেষে বিধায়ক তরুণজ্যোতি তেওয়ারীর উদ্যোগে চালু হওয়া এমএলএ ওয়েবসাইট প্রসঙ্গে তিনি আশ্বাস দেন, জনকল্যাণমূলক প্রতিশ্রুতি পূরণে রাজ্য সরকার পাশে থাকবে।
