রাজকুমার সন্তোষীর ক্যামেরায় দেশভাগের ছবি
শান্তনু চক্রবর্তী : সে এক টালমাটাল ভাঙনকাল। রাজনীতির ঝড়–বাদলে পাল্টে যাচ্ছে এক উপমহাদেশের ইতিহাস–ভূগোল, স্মৃতি– স্বপ্ন। বদলে যাচ্ছে মানুষের জল–জমিন, হাল–সাকিন, ঘরদোর, মহল্লা এমনকী দেশও। র্যাডক্লিফের রক্তমাখা ছুরির ডগায় যখন অখণ্ড ভারতের মানচিত্র ছিঁড়ে দুভাগ, তখনই সাবেক যুক্তপ্রদেশ মানে আজকের উত্তরপ্রদেশের লখনউ থেকে সিকান্দার মির্জা ,তার বউ হামিদা আর দুই ছেলেমেয়ে—জাভেদ আর তনভিরকে নিয়ে ‘হিন্দুস্তান’–এর বাস পুরোপুরি তুলে মুসলিম ভারতবাসীর নতুন ‘হোমল্যান্ড’ পাকিস্তান তথা পাক–পাঞ্জাবের লাহোরে চলে আসেন। সেখানে উদ্বাস্তু ক্যাম্পে ওপার থেকে আসা আরও অনেক ‘মোহাজির’ পরিবারের সঙ্গে গাদাগাদি, ঠাসাঠাসি করে বেশ কয়েক মাস কাটাবার পরে সিকান্দারদের কপালে জুটে যায় ‘শত্রু সম্পত্তি’— এক পাঞ্জাবি হিন্দু পরিবারের ছেড়ে যাওয়া বিরাট হাভেলি।
কিন্তু সম্পত্তি দখল নিতে গিয়ে মহা গোলমাল। সে বাড়িতে রয়ে গেছেন হাভেলির আগেকার মালিক পরিবারের এক বৃদ্ধা মহিলা। খুনখুনে বুড়ির সে কী দাপট! দেশের ভাগাভাগি , হিন্দুস্থান–পাকিস্তান, সরকারি পরোয়ানা— বুড়ি ‘মাই’ তোয়াক্কা করেন না। অদ্ভুত জেদ ধরে আছেন, সাতপুরুষের ভিটে ছেড়ে কোথাও নড়বেন না। মির্জাদেরও তিনি তার হাভেলিতে ‘অবৈধ ঘুসপেটিয়া’ বলে ভাগিয়ে দিতে চান। এই নিয়েই দু’তরফের ঠোকাঠুকি, ঝগড়া, অশান্তি। মাথা গোঁজার এক টুকরো ঠাঁই নিয়ে টানাহ্যাঁচড়া কীভাবে একটু একটু করে গড়িয়ে যায় আরও গহন, গভীর মানবিক বৃত্তান্তে— যেখানে ধর্ম, রাজনীতি, বাটোয়ারা, সীমান্তের কাঁটাতার পেরিয়ে জেগে থাকে শুধু মানুষ আর তার মূল্যবোধ। এই নিয়ে আসগর ওয়াজাহতের বিখ্যাত নাটক ‘যিস লাহোর নহি দেখা, ও জন্মাই নেহি’। হাবিব তনভীরের নয়া থিয়েটারের প্রযোজনায় প্রায় চার দশক ধরেই করাচি থেকে কলকাতা, দিল্লি থেকে লাহোর মাতানো সেই নাটকের কাহিনিই এবার বড় পর্দায়। আমির খানের প্রযোজনায়, রাজকুমার সন্তোষীর ছবি ‘বাটোয়ারা ১৯৪৭’। মুক্তি পেল স্বাধীনতা দিবসের ঠিক আগের দিন। স্বাধীনতার সঙ্গেই জড়িয়ে থাকা দেশভাগের মর্মান্তিক ট্র্যাজিডি আর ঘর হারানো, স্বজন হারানো লাখ লাখ মানুষের দীর্ঘশ্বাস ও যন্ত্রণার ইতিহাসটা আরও একবার মনে করিয়ে দিতেই হয়ত।
ছবিতে প্রধান ভুমিকায় দেখা যাচ্ছে সানি দেওল, প্রীতি জিন্টা, আলি ফজল ও শাবানা আজমিকে। ‘গদর ১’ এবং ‘গদর ২’–এর দৌলতে যে সানি দেওল পাকিস্তান বিরোধী উগ্র হিন্দু জাতীয়তাবাদের জনপ্রিয়তম বলিউডি মুখ—তঁাকে দিয়েই কী বার্তা দেয় ‘বাটোয়ারা ১৯৪৭’ সেটাই এখন দেখার। চ্ছে সানি দেওল, প্রীতি জিন্টা, আলি ফজল ও শাবানা আজমিকে। ‘গদর ১’ এবং ‘গদর ২’–এর দৌলতে যে সানি দেওল পাকিস্তান বিরোধী উগ্র হিন্দু জাতীয়তাবাদের জনপ্রিয়তম বলিউডি মুখ—তঁাকে দিয়েই কী বার্তা দেয় ‘বাটোয়ারা ১৯৪৭’ সেটাই এখন দেখার।
