বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫
ব্রেকিং নিউজ
নিউ ফারাক্কায় ধস, বাতিল উত্তরবঙ্গগামী সব ট্রেন নিউটাউনে উত্তম কুমার ফিল্ম সেন্টারের শিলান্য়াস মুখ্য়মন্ত্রীর নেপালে ৯ দিন পর সুড়ঙ্গ থেকে উদ্ধার ২ শ্রমিক অভিষেকের ক্য়ামাক স্ট্রিটের অফিস খালির নির্দেশ

দিল্লির দরবারে তারেক! ‘হাসিনা-অধ্যায়’ সরিয়ে রেখেই কি নতুন পথে সাউথ ব্লক?

15 August, 2026 6:11 AM admin
শেয়ার করুন

নয়াদিল্লি : ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের দীর্ঘদিনের চেনা সমীকরণ কি এবার আমূল বদলাতে চলেছে? সাউথ ব্লকের অলিন্দে এখন কান পাতলে এমনই এক নতুন কূটনৈতিক মেরুকরণের স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলছে। সব কিছু ঠিক থাকলে, ‘হাসিনা কাঁটা’ অত্যন্ত সন্তর্পণে এড়িয়ে আগামী সপ্তাহেই ভারত সফরে আসছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এই সফর কেবল একটি সাধারণ রাজনৈতিক সৌজন্য সাক্ষাৎ নয়, বরং দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে এক ‘নতুন সম্পর্ক’ এবং আস্থার নবনির্মাণ হিসেবেই দেখছে ওয়াকিবহাল মহল।
দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ভারতের বাংলাদেশ নীতি মূলত আবর্তিত হয়েছে শেখ হাসিনা এবং তাঁর দলকে কেন্দ্র করে। কিন্তু বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ও পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নয়াদিল্লি গভীরভাবে উপলব্ধি করেছে যে, প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি ও মজবুত সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে হলে ‘এক ঝুড়িতে সব ডিম’ রাখার পুরনো নীতি থেকে অবিলম্বে সরে আসতে হবে। তারেক রহমানের এই আসন্ন সফর সেই বাস্তবসম্মত এবং প্রজ্ঞাপূর্ণ কূটনৈতিক উপলব্ধিরই ফসল। সাউথ ব্লক চাইছে অতীতের সমস্ত আড়ষ্টতা কাটিয়ে বাংলাদেশের মূল স্রোতের অন্যান্য বড় রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গেই সমান আস্থার সম্পর্ক গড়ে তুলতে।
দিল্লির কূটনৈতিক মহল এই পদক্ষেপকে অত্যন্ত ইতিবাচক এবং যুগান্তকারী দৃষ্টিতে দেখছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত তার ‘প্রতিবেশী প্রথম’ (Neighbourhood First) নীতিতে আরও একবার নতুন করে জোর দিচ্ছে। অতীতে বিএনপি-র সঙ্গে ভারতের সম্পর্কে যে ঐতিহাসিক শীতলতা ও অবিশ্বাসের বাতাবরণ ছিল, তা দূর করার এটিই মোক্ষম সময়। তারেক রহমানকে দিল্লিতে স্বাগত জানানোর অর্থ হলো, ভারত এটা স্পষ্ট করে দিতে চাইছে যে তারা বাংলাদেশের জনগণের আকাঙ্ক্ষা এবং বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতাকে সম্পূর্ণ সম্মান করে। এখানে ব্যক্তি বা দলের চেয়ে রাষ্ট্রের স্ট্র্যাটেজিক স্বার্থই অগ্রাধিকার পাচ্ছে।
অন্যদিকে, এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই ঢাকায় শুরু হয়েছে জোর চর্চা। কী বলছে ঢাকা? বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহল এবং সুশীল সমাজ দিল্লির এই নমনীয় ও বাস্তববাদী অবস্থানকে প্রবলভাবে স্বাগত জানিয়েছে। ঢাকার কূটনৈতিক শিবিরের মতে, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক কখনোই কোনো একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল বা পরিবারের ওপর নির্ভরশীল হতে পারে না। এই সম্পর্ক হওয়া উচিত একান্তই ‘রাষ্ট্রের সঙ্গে রাষ্ট্রের’, যা দাঁড়িয়ে থাকবে পারস্পরিক সম্মান, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং বাণিজ্যিক স্বার্থের ওপর ভিত্তি করে। তারেকের এই সফর সফল হলে তা প্রমাণ করবে যে, ভারত বাংলাদেশের নতুন সমীকরণকে অত্যন্ত সম্মানজনক দৃষ্টিভঙ্গিতে বিচার করছে। ঢাকা মনে করছে, এর ফলে আগামী দিনে দুই দেশের অমীমাংসিত ইস্যুগুলোতেও সুস্থ আলোচনার পথ সুগম হবে।
সব মিলিয়ে, আগামী সপ্তাহে দিল্লির রাজপথে যখন তারেক রহমানের কনভয় ছুটবে, তখন তা কেবল এক ভিনদেশি নেতার সফর হয়েই থাকবে না, তা হয়ে উঠবে ভারত-বাংলাদেশ কূটনীতির এক সম্পূর্ণ নতুন অধ্যায়ের সূচনা। যেখানে অতীতের তিক্ততা বা ‘হাসিনা কাঁটা’ কোনো বাধা নয়, বরং দুই দেশের মানুষের বৃহত্তর অর্থনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থই হয়ে উঠবে আগামী দিনের পথপ্রদর্শক।

প্রতিবেদন

admin