বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫
ব্রেকিং নিউজ
বেলুড় মঠে মহাসাড়ম্বরে হয়ে গেল কুমারী পুজো পাঁজরে হাড় ভেঙে ফুসফুসে, চোরবাগানের ময়নাতদন্তের ভয়াবহ রিপোর্ট টাইগার শ্রফের উপর গুলি, হামলা, গ্রেপ্তার ৩ টাইগার শ্রফকে হামলায় দায়স্বীকার বিষ্ণোই গ্যাংয়ের

দিনহাটায় নাকা-চেকিংয়ে উদ্ধার ৮৯ লক্ষ টাকার সোনা, গ্রেফতার ১

09 September, 2026 3:25 PM UTSAB RC
শেয়ার করুন

সংবাদদাতা, দিনহাটা: গোপন সূত্রে প্রাপ্ত খবরের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ফের এক বড়সড় সোনা পাচার চক্রান্ত ভেস্তে দিল কোচবিহার জেলার দিনহাটা থানার পুলিশ। মঙ্গলবার গভীর রাতে সাহেবগঞ্জ রোডে নাকা-চেকিং চালানের সময় সন্দেহভাজন এক যুবককে আটক করে পুলিশ। তল্লাশিতে উদ্ধার হয় পাঁচটি সোনার বিস্কুট, যার বর্তমান আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৮৯ লক্ষ টাকা। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে রেজাউল হক নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। জেলা পুলিশ প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, দিনহাটা থানা ও সাহেবগঞ্জ থানার পুলিশ সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় পাচারের গোপন খবর পায়। সেই খবরের ভিত্তিতেই সাহেবগঞ্জ রোড এলাকায় দ্রুত নাকা-চেকিং শুরু করে বিশেষ পুলিশ টিম। বিভিন্ন গাড়ি ও সন্দেহভাজন পথচারীদের ওপর কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছিল।

অভিযান চলাকালীন রেজাউল হক নামে এক যুবককে অত্যন্ত দ্রত গতিতে ওই পথ দিয়ে যেতে দেখে পুলিশের সন্দেহ হয়। তাকে দাঁড় করিয়ে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করতেই সে অসংলগ্ন কথাবার্তা বলতে শুরু করে। এরপর তাকে দিনহাটা থানায় নিয়ে গিয়ে কড়া তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ আধিকারিকরা তাজ্জব বনে যান—রেজাউলের কোমরের বেল্টের নিচের বিশেষ পকেটে অতি চতুরতার সঙ্গে লুকানো ছিল পাঁচটি নিখাদ সোনার বিস্কুট। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃত রেজাউল হকের বাড়ি দিনহাটার সাহেবগঞ্জ থানার অন্তর্গত চৌধুরীহাট এলাকায়। উদ্ধৃত সোনার মোট ওজন ও বিশুদ্ধতা পরীক্ষা করে দেখা গেছে, সেগুলির আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৮৯ লক্ষ টাকা। ঘটনার পরেই ধৃতের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট অপরাধ আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে। পুলিশি তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, এই সোনার বিস্কুটগুলি বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে ভারতে বেআইনিভাবে পাচার করে আনা হয়েছিল এবং সেগুলি কলকাতা বা অন্য কোনো বড় শহরে পাঠানোর ছক ছিল।
কোচবিহার জেলার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকা বারবার পাচারকারীদের করিডোর হিসেবে ব্যবহূত হওয়ার অভিযোগ ওঠে। পুলিশের ধারণা, রেজাউল এই বিশাল পাচারচক্রের কেবল এক সামান্য বাহক বা ‘কুরিয়ার’ হিসেবে কাজ করছিল।
সীমান্ত পেরিয়ে সোনাগুলো ঠিক কোন রুট দিয়ে ভারতে ঢুকল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সোনার বিস্কুটগুলি কার হাতে তুলে দেওয়ার কথা ছিল, সেই ‘রিসিভার’-এর খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। ধৃত রেজাউল এর আগেও এই ধরনের সীমান্ত অপরাধে যুক্ত ছিল কি না, তা জানতে তার অতীত রেকর্ড পরীক্ষা করা হচ্ছে।

জেলা পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন আধিকারিক জানিয়েছেন, “এই সোনা পাচারচক্রের নেপথ্যে কোনো বড় অন্তরাজ্য বা আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক সক্রিয় রয়েছে। রেজাউলকে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে চেয়ে আদালতে পেশ করা হচ্ছে এবং নিজেদের হেফাজতে নিয়ে তাকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। খুব শীঘ্রই এই চক্রের মূল পণ্ডাদের আইনের জালে আনা সম্ভব হবে।” সীমান্তবর্তী এলাকায় নাকা-চেকিং এবং পুলিশের এমন তৎপরতায় স্থানীয় মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরলেও, যেভাবে একের পর এক সোনা পাচারের ঘটনা সামনে আসছে, তাতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার দাবি উঠছে।

প্রতিবেদন

UTSAB RC