বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫
ব্রেকিং নিউজ
টাইগার শ্রফের উপর হামলায় ধৃত আরও ৪ আজ বিজয়া দশমী, ঘাটে ঘাটে চলছে প্রতিমা নিরঞ্জন ভারতের সঙ্গে চুক্তি অন্যরকম, জানালেন ট্রাম্প দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে দশেরা

সাইবার অপরাধের পর্দাফাঁস দুর্গাপুরে

09 September, 2026 2:48 PM Lopa Bhowmik
শেয়ার করুন

সংবাদদাতা, দুর্গাপুর: পশ্চিম বর্ধমানের দুর্গাপুরে এক বড়সড় সাইবার জালিয়াতি চক্রের পর্দাফাঁস করল দুর্গাপুর থানার পুলিশ। গোপন সূত্রে পাওয়া খবরের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে শহরের কাদারোড এলাকা থেকে পাঁচজন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতদের কাছ থেকে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বহু এটিএম কার্ড, ব্যাংক পাসবুক, পেনড্রাইভ, হার্ডডিস্ক এবং একাধিক আধুনিক ইলেকট্রনিক ডিভাইস। পুলিশ সূত্রে খবর, উদ্ধার হওয়া গ্যাজেটগুলি অনলাইন প্রতারণা ও আর্থিক তছরুপের কাজে ব্যবহার করা হতো বলে প্রাথমিক অনুমান।
মঙ্গলবার রাতে দুর্গাপুর থানার একটি বিশেষ টিম কাদারোড এলাকায় অতর্কিত তল্লাশি অভিযান চালায়। দীর্ঘদিন ধরেই ওই এলাকাটিকে কেন্দ্র করে একটি চক্র বেআইনি সাইবার কাজকর্ম চালাচ্ছে বলে পুলিশের কাছে খবর আসছিল। অভিযানের সময় পাঁচ সন্দেহভাজনকে একটি নির্দিষ্ট স্থানে জড়ো হতে দেখে ঘেরাও করে পুলিশ। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদে চরম অসঙ্গতি ধরা পড়ায় পাঁচজনকেই আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়।
থানায় এনে ধৃতদের তল্লাশি করতেই বেরিয়ে আসে সাইবার অপরাধের বিস্ফোরক তথ্য। তাঁদের কাছ থেকে উদ্ধার হয় একাধিক ব্যক্তির নামে থাকা বিভিন্ন ব্যাংকের কার্ড। বেশ কয়েকটি অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির ব্যাংক অ্যাকাউন্টের নথিপত্র।বেশ কয়েকটি হাই-স্পিড পেনড্রাইভ, হার্ডডিস্ক এবং বিশেষ ধরনের মোবাইল হ্যান্ডসেট। পুলিশ কর্মকর্তাদের ধারণা, সংগৃহীত পেনড্রাইভ ও হার্ডডিস্কে সাধারণ মানুষের চুরি করা ব্যক্তিগত ও আর্থিক তথ্য সংগৃহীত ছিল।
আটক ব্যক্তিদের নিয়ে গিয়ে রাতভর দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ চালায় দুর্গাপুর থানার তদন্তকারী দল। উদ্ধার হওয়া এটিএম কার্ড ও অ্যাকাউন্টগুলি তাঁদের নিজেদের নামে কি না, অথবা সাধারণ মানুষকে প্রতারিত করে ভুয়ো অ্যাকাউন্টে তৈরি করা হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করে। ধৃতরা বাজেয়াপ্ত সামগ্রীর সঠিক মালিকানা বা ব্যবহারের কোন সদুত্তর দিতে না পারায় বুধবার সকালে তাঁদের আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার করা হয়।
বুধবার ধৃত পাঁচজনকেই দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়। মামলার গতিপ্রকৃতি এবং অপরাধের ব্যাপ্তি বুঝতে ধৃতদের নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানায় পুলিশ। বিচারক তাঁদের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।
উদ্ধার হওয়া পেনড্রাইভ ও হার্ডডিস্কগুলি পরীক্ষার জন্য পাঠানো হচ্ছে সাইবার ফরেনসিক ল্যাবে । সেখানে ডেটা রিকভারি করে দেখার চেষ্টা হবে, এই চক্রের সাথে রাজ্য বা আন্তঃরাজ্য কোনো বড় সাইবার কার্টেলের যোগ রয়েছে কি না। কতজন সাধারণ মানুষ এই প্রতারণার শিকার হয়েছেন এবং তাঁদের কত টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। দুর্গাপুর থানার পুলিশ আধিকারিকরা জানিয়েছেন, “অনলাইন প্রতারণা রোধে দুর্গাপুর জুড়ে নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। সাধারণ মানুষকেও ব্যাংকের তথ্য বা ওটিপি অন্য কারো সাথে শেয়ার না করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।”

প্রতিবেদন

Lopa Bhowmik