ভোট পরবর্তী হিংসা মামলায় নানুর উপপ্রধান গ্রেপ্তার
সংবাদদাতা, বীরভূম: ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক হিংসার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফের উত্তপ্ত বীরভূমের নানুর। ওই হিংসার মামলাতেই যুক্ত থাকার অভিযোগে নানুর চণ্ডীদাস পঞ্চায়েতের উপপ্রধান তথা তৃণমূল কংগ্রেসের দাপুটে নেতা হাফিজ আলিকে গ্রেপ্তার করল নানুর থানার পুলিশ। তবে গ্রেপ্তারির পর সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর দৃশ্য দেখা যায় গতকাল রাতে—পুলিশ হেপাজতে থাকা অবস্থাতেই ধৃত এই তৃণমূল নেতাকে যখন নানুর বাজারের রাস্তায় হাঁটিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়, তখন সাধারণ মানুষের একাংশ তীব্র প্রতিবাদে সরব হয়ে ওঠেন এবং ‘চোর চোর’ স্লোগান দিতে শুরু করে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২১ সালের রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর নানুর এলাকা জুড়ে তীব্র রাজনৈতিক হিংসার বাতাবরণ তৈরি হয়েছিল। সেই সময় বিরোধীদের বাড়িঘর ভাঙচুর, মারধর ও ভয় দেখানোর নানা অভিযোগ ওঠে তৃণমূলের স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী নেতার বিরুদ্ধে। সেই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই আকাশ হাজরা নামে এক ব্যক্তি নানুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। দীর্ঘ তদন্তের পর এবং সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে গত বৃহস্পতিবার রাতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ নানুর চণ্ডীদাস পঞ্চায়েতের উপপ্রধান হাফিজ আলিকে তাঁর বাসভবন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারির পরদিন, শুক্রবার সকালে কড়া পুলিশি নিরাপত্তায় ধৃত উপপ্রধান হাফিজ আলিকে বোলপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়। মামলার তদন্তকারী আধিকারিকরা ঘটনার নেপথ্যে থাকা আরও নানা তথ্য উঘাটন ও অন্যান্য অভিযুক্তদের খোঁজে হাফিজ আলিকে নিজেদের হেপাজতে নেওয়ার আবেদন জানান। আদালত সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে আবেদন মঞ্জুর করে এবং ওই তৃণমূল নেতাকে পুলিশি হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। আদালতের নির্দেশের পর হাফিজ আলিকে নিজেদের হেপাজতে নিয়ে তদন্ত শুরু করে পুলিশ।
গতকাল রাত ৮টা নাগাদ নানুর থানার এক বিশাল পুলিশ বাহিনী ধৃত হাফিজ আলিকে সঙ্গে নিয়ে এলাকা পরিদর্শনে বের হয়। পুলিশি প্রহার বা তদন্তের প্রয়োজনে অভিযুক্তকে সঙ্গে নিয়েই নানুর বাজারের ব্যস্ততম এলাকাগুলোতে ঘোরানো হয়। তৃণমূলের প্রভাবশালী উপপ্রধানকে পুলিশের ঘেরাটোপে বাজারের মাঝে হাঁটতে দেখে মুহূর্তের মধ্যে পুরো চত্বরে ব্যাপক কৌতুহলের সৃষ্টি হয়। সেখানে ভারতীয় জনতা পার্টির স্থানীয় কর্মী-সমর্থক এবং সাধারণ মানুষজন জমা হতে শুরু করেন। অভিযোগ, পুলিশি হেফাজতে থাকা ওই তৃণমূল নেতাকে দেখামাত্রই ভিড়ের ভেতর থেকে প্রবল বিক্ষোভ শুরু হয় এবং চারিদিক থেকে তীব্র ‘চোর চোর’ স্লোগান উঠতে থাকে। আচমকা এই স্লোগান ও জনরোষের জেরে কিছুটা শোরগোল পড়ে যায় নানুর বাজার এলাকায়।
পরিস্থিতি যাতে হাতের বাইরে না যায়, তার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে সক্রিয় হয়ে ওঠে নানুর থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। তাঁরা ধৃত হাফিজ আলিকে দ্রুত ঘেরাটোপের মধ্যে রেখে সুরক্ষিতভাবে সেখান থেকে সরিয়ে নানুর থানায় নিয়ে যান। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় এখনও থমথমে পরিবেশ বজায় রয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশি নজরদারি চালানো হচ্ছে
