বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫
ব্রেকিং নিউজ
টাইগার শ্রফের উপর হামলায় ধৃত আরও ৪ আজ বিজয়া দশমী, ঘাটে ঘাটে চলছে প্রতিমা নিরঞ্জন ভারতের সঙ্গে চুক্তি অন্যরকম, জানালেন ট্রাম্প দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে দশেরা

কাল কৌশিকী অমাবস্যা, তারাপীঠে কঠোর নিরাপত্তা

09 September, 2026 12:32 PM Lopa Bhowmik
শেয়ার করুন

সংবাদদাতা, বীরভূম: বৃহস্পতিবার কৌশিকী অমাবস্যা উপলক্ষ্যে পুণ্যার্থীদের সুরক্ষায় ও সার্বিক আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে বীরভূম জেলা পুলিশের প্রস্তুতি তুঙ্গে। উৎসবের দিনগুলিতে তারাপীঠে লক্ষ লক্ষ ভক্তের সমাগম ঘটে। এই বিশাল জনস্রোত সামাল দেওয়া এবং মন্দির চত্বর সহ সমগ্র তারাপীঠকে নিরাপত্তার নিটোল চাদরে মুড়ে ফেলতে বীরভূম জেলা পুলিশ এক বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। গতকাল রাতে তারাপীঠ থানা প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এই নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থার বিস্তারিত রূপরেখা তুলে ধরেন বীরভূমের পুলিশ সুপার বিদিত রাজ ভূদেশ। তিনি জানান, পুণ্যার্থীদের নির্বিঘ্ন দর্শন ও সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে পুরো তারাপীঠ মন্দির এবং সংলগ্ন এলাকাকে একাধিক জোনে ভাগ করা হয়েছে। প্রতিটি জোনের দায়িত্বে থাকবেন উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিকরা। মন্দির প্রাঙ্গণ, শ্মশানঘাট, দ্বারকা নদীর ঘাট এবং প্রধান সড়কগুলিতে ২৪ ঘণ্টা কড়া নজরদারি চালানো হবে। কৌশিকী অমাবস্যার দিনগুলিতে প্রায় কয়েক হাজার সশস্ত্র ও সাদা পোশাকের পুলিশকর্মী মোতায়েন থাকবে। জেলা পুলিশের পাশাপাশি রাজ্য পুলিশের অতিরিক্ত বাহিনী, র‍্যাফ এবং কুইক রেসপন্স টিম থাকবে।‌ মন্দির চত্বর, প্রবেশের পথ এবং সমগ্র তারাপীঠ শহর জুড়ে কয়েকশো সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। কন্ট্রোল রুম থেকে লাগাতার নজরদারির পাশাপাশি মেলা প্রাঙ্গণের ভিড় নিয়ন্ত্রণে আকাশে ড্রোন উড়িয়ে পর্যবেক্ষণ চালানো হবে। দ্বারকা নদীতে স্নান করার সময় যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে জন্য সিভিক ভলান্টিয়ার ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর টিম মোতায়েন থাকবে। নদীতে স্পিড বোট ও অভিজ্ঞ ডুবুরি দল প্রস্তুত রাখা হচ্ছে। জনসমুদ্রের সুযোগ নিয়ে দুষ্কৃতীরা যাতে কোনো অসাধু কাজ করতে না পারে, তার জন্য সাদা পোশাকে বিশেষ নজরদারি দল এবং অ্যান্টি-রাউডি স্কোয়াড সবসময় ঘুরে বাড়াবে। উৎসব চলাকালীন তারাপীঠে ভারী যান চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। দূর-দূরান্ত থেকে আসা গাড়িগুলির জন্য শহরের বাইরে একাধিক সাময়িক পার্কিং জোন গড়ে তোলা হয়েছে। সেখান থেকে পুণ্যার্থীদের হেঁটে অথবা নির্দিষ্ট রুটের মাধ্যমে মন্দিরে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে, যাতে যানজট এড়ানো যায়। পুণ্যার্থীদের সুবিধার জন্য বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পুলিশ সহায়তা কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে। হারিয়ে যাওয়া ব্যক্তি বা শিশুদের দ্রুত পরিবারে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য বিশেষ মাইকিং ও ট্র্যাকিং ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এর পাশাপাশি স্বাস্থ্য দপ্তরের সহযোগিতায় মেডিকেল টিম ও অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত থাকবে। উৎসবে কোনো রকম গুজব ছড়ালে বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার চেষ্টা করলে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পুলিশ সুপার। সম্প্রতি ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে যাওয়ায় এবার পুলিশ অনেক বেশি সতর্ক।
উৎসবমুখর তারাপীঠে সাধারণ মানুষের আস্থা ও নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে পুলিশ প্রশাসনের এই তৎপরতাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও মন্দির সেবায়েত কমিটি।

প্রতিবেদন

Lopa Bhowmik