নিউ জলপাইগুড়ি বাজারে এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চের হানা
সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে হোটেল ও দোকানে রান্নার কাজে দেদার ব্যবহার করা হচ্ছে গৃহস্থালির জন্য নির্ধারিত ভর্তুকিযুক্ত এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই বেআইনি কারবারের বিরুদ্ধে অবশেষে কড়া পদক্ষেপ নিল প্রশাসন। সোমবার শিলিগুড়ির ব্যস্ততম নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন সংলগ্ন বাজারে অভিযান চালাল এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ। আকস্মিক এই হানায় বাজারের একাধিক দোকান ও হোটেল থেকে মোট ৭টি গৃহস্থ ব্যবহারের গ্যাস সিলিন্ডার বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। অভিযান সূত্রে জানা গিয়েছে, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী রেস্তোরাঁ, হোটেল, চা বা খাবারের দোকানে শুধুমাত্র বাণিজ্যিক বা কমার্শিয়াল গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহারেরই অনুমতি রয়েছে। কিন্তু বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম গৃহস্থালির সিলিন্ডারের তুলনায় অনেকটাই বেশি হওয়ায়, অতিরিক্ত মুনাফা লাভের আসায় অনেক ব্যবসায়ী গোপনে ডোমেস্টিক সিলিন্ডার ব্যবহার করেন। দীর্ঘদিন ধরেই এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চের কাছে খবর আসছিল যে এনজেপি স্টেশন সংলগ্ন বাজার এলাকার বেশ কয়েকটি খাবারের হোটেল, রেস্তোরাঁ এবং চায়ের দোকানে বেআইনিভাবে ডোমেস্টিক সিলিন্ডার জ্বালিয়ে রান্নাবান্না ও খাবার তৈরির কাজ চলছে। সেই গোপন সূত্রের খবরের ভিত্তিতেই সোমবার সকালে এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চের একটি বিশেষ প্রতিনিধি দল নিউ জলপাইগুড়ি থানার পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে যৌথ অভিযান শুরু করে। এনজেপি স্টেশন সংলগ্ন বাজারের গলি থেকে গলিতে একের পর এক হোটেল ও দোকানে গিয়ে তল্লাশি চালান আধিকারিকরা। হঠাৎ করে এই পুলিশি অভিযানে পুরো বাজার এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। অনেক ব্যবসায়ী সিলিন্ডার আড়াল করার চেষ্টা করলেও শেষ রক্ষা হয়নি। অনুসন্ধানের পর যে সমস্ত বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে গৃহস্থের সিলিন্ডার ব্যবহার হচ্ছিল, সেখান থেকে মোট ৭টি ডোমেস্টিক গ্যাস সিলিন্ডার সরাসরি হাতেনাতে আটক করে বাজেয়াপ্ত করা হয়। এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চের এক শীর্ষ আধিকারিক জানান, বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে ডোমেস্টিক সিলিন্ডার ব্যবহার করা সম্পূর্ণরূপে বেআইনি ও দণ্ডনীয় অপরাধ। এর ফলে যেমন সরকার মোটা অঙ্কের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়, ঠিক তেমনই সাধারণ গ্রাহকরাও তাঁদের প্রাপ্য ভর্তুকিযুক্ত সিলিন্ডার পাওয়া থেকে বঞ্চিত হন। এছাড়া, ঘিঞ্জি বাজার এলাকার মতো জনবহুল স্থানে এই ধরণের বেআইনি সিলিন্ডারের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার যেকোনো সময় বড়সড় অগ্নিকাণ্ড বা প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, এই ধরনের অনিয়ম কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। বেআইনি ব্যবসায়ীদের সচেতন করতে এবং আইনশৃঙ্খলার পাঠ দিতে এই অভিযান চালানো হয়েছে। আগামী দিনগুলিতে শিলিগুড়ির অন্যান্য প্রধান বাজার, রেস্তোরাঁ ও শহরের আশেপাশের এলাকাগুলোতেও এই ধরণের সারপ্রাইজ ভিজিট অব্যাহত থাকবে বলে এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ ও স্থানীয় পুলিশ সূত্রের খবর। দোষী ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।
