Lionel Messi and Cristiano Ronaldo: মেসি-রোনাল্ডো কি এবার সতীর্থ? তেভেজের বিদায়ী ম্যাচে অসম্ভব স্বপ্নের হাতছানি
কলকাতা: গ্যালারির আলো জ্বলছে। লা বোম্বোনেরার গর্জন ধীরে ধীরে চেপে বসছে চারপাশে। মাঠে একসঙ্গে হাঁটছেন দু’জন—একজন বাঁ-পায়ে বলটা টেনে নিচ্ছেন, অন্যজন একটু দূরে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন পাসের জন্য। দৃশ্যটা কল্পনা করলেও ফুটবলপ্রেমীদের বুকের ভিতর কেমন যেন ধাক্কা লাগে। কারণ এই দুই মানুষকে একই দলের জার্সিতে দেখার অভ্যাস পৃথিবীর কারও নেই। একজন লিওনেল মেসি। অন্যজন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। বছরের পর বছর যাঁরা ছিলেন একে অপরের সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী, এবার তাঁদেরই কি দেখা যাবে একই দলের হয়ে?

এই অসম্ভব ছবিটাই আঁকছেন কার্লোস তেভেজ। আর্জেন্টিনার প্রাক্তন তারকার বিদায়ী ম্যাচ হওয়ার কথা বুয়েনস আইরেসের লা বোম্বোনেরায়, ২০২৬-এর ডিসেম্বরে। দিন এখনও চূড়ান্ত হয়নি। কিন্তু তেভেজের ইচ্ছে নিয়ে কোনও ধোঁয়াশা নেই—মেসি এবং রোনাল্ডো দু’জনকেই তিনি চান নিজের শেষ ম্যাচে। মেসির সঙ্গে আর্জেন্টিনার জার্সি ভাগ করেছেন, রোনাল্ডোর সঙ্গে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ড্রেসিংরুম। ফলে তাঁর ডাকের মধ্যে শুধুই তারকার ঝলক নেই, আছে পুরনো বন্ধুত্বের টানও।
আরও পড়ুন: Premier League: হালান্ডের গোলে জয়ের হ্যাটট্রিক সিটির, জমল প্রিমিয়ার লিগের শনিবার
আরও পড়ুন: Premier League: ইসাকের জোড়া গোলে প্রথম জয় লিভারপুলের, ইপসউইচকে হারাল ২-০
তেভেজের দাবি, দু’জনকে আনতে তিনি নিজেই উদ্যোগ নেবেন। রোনাল্ডোর নম্বর এখনও তাঁর ফোনে রয়েছে। আমন্ত্রিতদের তালিকায় থাকতে পারেন আরও ৬০ জনের বেশি তারকা। কিন্তু যত বড়ই সেই তালিকা হোক, সবার চোখ থাকবে দু’জনের দিকে। কারণ এখনও পর্যন্ত মেসি কিংবা রোনাল্ডো—কেউই ম্যাচে খেলার নিশ্চয়তা দেননি। একই দলের জার্সি পরার বিষয়টিও নিশ্চিত নয়। তাই ‘মেসি-রোনাল্ডো একই দলে’ এখনই কোনও নিশ্চিত খবর নয়, বরং তেভেজের তৈরি করা এক দুর্দান্ত সম্ভাবনা।
শেষবার দু’জনকে একই মাঠে দেখা গিয়েছিল ২০২৩ সালে। তখন তাঁরা ছিলেন বিপরীত শিবিরে। এবার যদি তেভেজ সফল হন, ছবিটা বদলে যাবে। মেসির পা থেকে বল বেরোবে, রোনাল্ডো ছুটবেন গোলের দিকে—আর দু’জনের পিছনে থাকবে একই রঙের জার্সি। লা বোম্বোনেরার গর্জনের মধ্যে হয়তো কয়েক মিনিটের জন্য থমকে যাবে পুরনো মেসি-রোনাল্ডো দ্বৈরথ। ফুটবল তখন আর ‘কে সেরা’-র প্রশ্ন করবে না। শুধু দেখবে—দুই যুগের দুই মহাতারকা, একই মাঠে, একই দলের হয়ে। স্বপ্নটা সত্যি হবে কি না, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় ম্যাচ।
