গুরুদায়িত্ব নিয়ে মহাকাশে পাড়ি দিল ‘নটি বয়’
সংবাদদাতা, বেঙ্গালুরু: ইসরোর মুকুটে নতুন পালক। মহাকাশে পাড়ি দিল ‘নটি বয়’। প্রথম ‘ইমেজিং স্যাটেলাইট’ ইওএস–০৫–এর সফল উৎক্ষেপণ করল ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা। বৃহস্পতিবার রাত ২.৫৫ মিনিট। শ্রীহরিকোটার সতীশ ধাওয়ান মহাকাশ কেন্দ্র থেকে জিএসএলভি-এফ১৭ রকেটের পিঠে চড়ে রওনা দেয় জিস্যাট ১–এ উপগ্রহটি। শুক্রবার সকালে ইসরো ডিরেক্টর ভি নারায়ণন জানান, জিএসএলভি–এফ ১৭ রকেটের মাধ্যমে সফল ভাবে পূর্বনির্ধারিত ‘সাব–জিওসিনক্রোনাস ট্রান্সফার অরবিট’–এ স্থাপিত হয়েছে জিস্যাট ১–এ। জিএসএলভি–এফ ১৭ রকেট অত্যাধুনিক আর্থ অবজারভেশন স্যাটেলাইট বা ভারতের প্রথম জিওসিঙ্ক্রোনাস–অরবিট ইমেজিং স্যাটেলাইট ইওএস–০৫–কে সফল এবং নিখুঁত ভাবে পূর্বনির্দিষ্ট কক্ষপথে স্থাপন করেছে। মিশন ডিরেক্টর থমাস কুরিয়ান জানিয়েছেন, জিএসএলভি–র মাধ্যমে জিটিও বা সাব–জিটিও কক্ষপথে উৎক্ষেপণ করা এটিই সবচেয়ে ভারী উপগ্রহ। ইসরোর এই সাফল্যে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও।
অন্য স্যাটেলাইটগুলির থেকে কোন দিক থেকে আলাদা ইওএস–০৫? আসলে বেশির ভাগ স্যাটেলাইটই অনেক নিচু কক্ষপথে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে। সাধারণত পৃথিবীর মাত্র কয়েকশো কিলোমিটার ওপর দিয়ে সেগুলি পাক খেতে থাকে। কিন্তু ইওএস–০৫কে উৎক্ষেপণের পরে সাব জিওসিঙ্ক্রোনাস ট্রান্সফার অরবিটে পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে নিজের প্রপালশন সিস্টেম ব্যবহার করে আরও ওপরে উঠবে সে। শেষ পর্যন্ত প্রায় ৩৬ হাজার কিলোমিটার উচ্চতায় তার নির্দিষ্ট কক্ষপথে গিয়ে থিতু হবে। এর ফলে উপগ্রহটি একটা বিরাট অঞ্চলজুড়ে নজর রাখতে পারবে। কারণ, উঁচু কক্ষপথে ঘোরার কিছু সুবিধা রয়েছে। এই উচ্চতায় উপগ্রহের ঘূর্ণনের সময় পৃথিবীর ঘূর্ণনের সঙ্গে মিলে যায়। ফলে একটি বড় অঞ্চলের ওপর বেশি সময় নজর রাখা যায়।
তবে ইওএস–০৫ কে ‘গোয়েন্দা–উপগ্রহ’ ভাবলে ভুল হবে বলে জানিয়েছেন ইসরোর চেয়ারম্যান ভি নারায়ণন। কারণ, সীমান্তবর্তী এলাকায় রাস্তা, পরিকাঠামো, জলাধার বা জমির ব্যবহারে বড় পরিবর্তন হলে তার খবর চটজলদি ইসরোর অন্দরমহলে পৌঁছে দেওয়াই মূল কাজ হবে এই স্যাটেলাইট। এছাড়াও, কোনও এলাকায় দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে কি না, তা বুঝতেও সাহায্য করবে এই উপগ্রহের তথ্য। এই উপগ্রহের মূল উদ্দেশ্য শুধু নিরাপত্তা নয়। কৃষি, বনাঞ্চল, জলসম্পদ এবং দুর্যোগ মোকাবিলাতেও এর তথ্য ব্যবহার করা যাবে। পাশাপাশি মাটির অবস্থা, জল, গাছপালা এবং বায়ুমণ্ডলের হালহকিকতও বোঝা সম্ভব হবে এর পাঠানো খবরের মধ্য দিয়ে। সাইক্লোন, মেঘভাঙা বৃষ্টি, বজ্রঝড়ের মতো দ্রুত বদলে যাওয়া পরিস্থিতিতেও এর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
ইওএস–০৫–এর ওজন ২,৩৬৭ কিলোগ্রাম। ইসরোর ভাঁড়ারে দেড় ডজনেরও বেশি কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট থাকলেও জিস্যাট–১এ–র মতো নজরদারি উপগ্রহ এই প্রথম তৈরি করল ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা। কিন্তু প্রশ্ন হল জিএসএলভি–কে ‘নটি বয়’ নামে কেন ডাকা হচ্ছে? আসলে এই রকেট নিয়ে অতীতে কম নাকানিচোবানি খায়নি ইসরো। সেদিক থেকে এর ওপর ইওএস-০৫–এর মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রজেক্টে ভরসা রাখাটাই ছিল অন্যতম বড় বিষয়। তবে এবার ইসরোর ভরসার মান রেখেছে তার ‘দুষ্টু ছেলে’।
