আদালতে আপাতত স্বস্তি রাজ্য ও যোগ্য শিক্ষকদের: ২৬ হাজার শূন্যপদে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে অতিরিক্ত সময় দিল সুপ্রিম কোর্ট
নয়াদিল্লি : স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন রাজ্যের হাজার হাজার স্কুল শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী।
২০১৬ সালের এসএসসি প্যানেল বাতিলের পর শিক্ষা ক্ষেত্রে তৈরি হওয়া ঘোর অনিশ্চয়তা কাটাতে বড় নির্দেশ দিল শীর্ষ আদালত। সোমবার সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, আপাতত আগামী ২০২৭ সালের ৩১ মে পর্যন্ত স্কুলে কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন ‘যোগ্য’ শিক্ষকরা। তবে তার পাশাপাশিই রাজ্য সরকার এবং স্কুল সার্ভিস কমিশনকে (এসএসসি) কড়া বার্তা দিয়ে আদালত স্পষ্ট করেছে। আগামী আট মাসের মধ্যে ২০২৫ সালের নতুন নিয়োগ সংক্রান্ত যাবতীয় প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে হবে। এই মামলায় বাড়তি সময় চাওয়ার সুযোগ এটাই শেষ, আর কোনও আবেদন বিবেচনা করা হবে না। ২০২৭ সালের ৩১ মে এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।
এসএসসির ২০১৬ সালের পুরো প্যানেল বাতিল করে দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির অভিযোগে প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক এবং অশিক্ষক কর্মীর চাকরি বাতিল হওয়ায় শোরগোল পড়ে গিয়েছিল রাজ্য রাজনীতিতে। আচমকা বিপুল সংখ্যক শিক্ষকের পদ শূন্য হয়ে পড়ায় রাজ্যের স্কুলগুলিতে পড়াশোনা ও পঠনপাঠন শিকেয় ওঠার জোগাড় হয়েছিল। তৈরি হয়েছিল তীব্র অচলাবস্থা। সেই সংকট কাটাতে গত ১৮ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্ট এক অন্তর্বর্তী নির্দেশে জানিয়েছিল, যাঁদের বিরুদ্ধে জালিয়াতি বা অসদুপায় অবলম্বনের দাগ নেই, অর্থাৎ ‘চিহ্নিত অযোগ্য’ নন যাঁরা, সেই ১৭ হাজারের বেশি শিক্ষক অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন।
তবে সেই নির্দেশের পাশাপাশি নতুন করে শূন্যপদে স্বচ্ছ নিয়োগ সম্পন্ন করার জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। আদালতের পূর্ব নির্দেশ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করার কথা ছিল। পরবর্তী সময়ে সেই মেয়াদ বাড়িয়ে করা হয় ৩১ আগস্ট। কিন্তু নির্ধারিত সময়েও নতুন নিয়োগের কাজ সম্পন্ন করতে না পেরে শেষমেশ পুনরায় শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হতে বাধ্য হয় নতুন রাজ্য সরকার ও এসএসসি।
সোমবার বিচারপতি সঞ্জয় কুমার এবং বিচারপতি সচিন সচদেবার ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়। সরকারের তরফে সওয়াল করে জানানো হয়, বিশাল এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সুষ্ঠু ও স্বচ্ছভাবে শেষ করার জন্য আরও কিছুটা সময় প্রয়োজন। আর্জির যুক্তিসঙ্গত দিক বিবেচনা করে ডিভিশন বেঞ্চ অতিরিক্ত আট মাস সময় মঞ্জুর করে।
শীর্ষ আদালতের এই রায়ে ১৭ হাজার যোগ্য শিক্ষকের মাথার উপর ঝুলতে থাকা বরখাস্তের খাঁড়া আপাতত সরলেও এসএসসি ও পর্ষদের উপর চাপ বাড়ল বহুগুণ। কারণ, বেঞ্চ কঠোর ভাষায় সতর্ক করে দিয়েছে যে, এটিই রাজ্য সরকারের জন্য শেষ সুযোগ। ২০২৭ সালের মে মাসের মধ্যে যদি সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ না করা যায়, তবে রাজ্য সরকারকে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে।
নিয়োগ দুর্নীতির মেঘ কাটিয়ে যোগ্যদের অধিকার সুনিশ্চিত করা এবং শিক্ষা ব্যবস্থার অচলাবস্থা কাটানো—দুইয়ের ভার এখন কমিশনের কাঁধে। সুপ্রিম কোর্টের এই ‘লাইফলাইন’ রাজ্য সরকার এবং এসএসসি কীভাবে কাজে লাগায়, সেদিকেই নজর থাকবে সমগ্র বাংলার।
