বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫
ব্রেকিং নিউজ
রবীন্দ্র সরোবরে সাঁতার শিখতে গিয়ে মৃত্য়ু শিক্ষার্থীর ফারাক্কায় দ্রুত গতিতে চলছে লাইন মেরামতির কাজ মালদা মেডিকেলে শিশুমৃত্য়ুর জের, সাসপেন্ড সুপার এবার রাজ্য়ের মডেল স্কুল প্রকল্পে সিএম শ্রী ইন্সটিউট, ঘোষণা মুখ্য়মন্ত্রীর

সময় রায়নার শো-তে বিহারি বনাম কাশ্মীরি পণ্ডিত ‘জোকস’ ঘিরে ক্ষোভে ফুঁসছে নেটপাড়া

29 August, 2026 7:22 PM Sumantra Mukherjee
শেয়ার করুন

নয়াদিল্লি : বিনোদন ও কমেডির হালকা ছলে ঐতিহাসিক দুঃখগাথা ও আঞ্চলিক পরিচয় নিয়ে ঠাট্টা-তামাশা করা কি আদেও রসিকতা, নাকি নিছকই সংবেদনহীনতা ?

স্ট্যান্ড-আপ কমেডিয়ান সময় রায়নার বিতর্কিত শো ‘ইন্ডিয়াস গট ল্যাটেন্ট সিজন ২’-এর সাম্প্রতিক একটি পর্বে বিহার এবং কাশ্মীরি পণ্ডিত সম্প্রদায়কে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া কৌতুক নিয়ে নতুন করে তোলপাড় শুরু হয়েছে বিতর্ক অঙ্গনে। বিহারি অভিবাসী ও কাশ্মীরি পণ্ডিতদের উৎখাত হওয়ার মতো সংবেদনশীল ও যন্ত্রণাদায়ক অতীতকে যেভাবে হালকা চালে উপস্থাপন করা হয়েছে, তার বিরুদ্ধে সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

ঘটনার সূত্রপাত শো-এর জাজিং প্যানেলে থাকা সময় রায়না এবং কমেডিয়ান শারন ভার্মার মধ্যকার খুনসুটি থেকে। শারন নিজে বিহারের বাসিন্দা এবং সময় একজন কাশ্মীরি পণ্ডিত পরিবারের সন্তান। কথাপ্রসঙ্গে সময় রায়না শারনকে নিয়ে রসিকতা করে বলেন, “শারন এতটাই বিহারি যে ও মনে করে ‘ইবোলা’ (Ebola) মানে কেউ ওকে কিছু বলল (ই বোলা)!” এর জবাবে শারনও পাল্টা কাশ্মীরি উৎখাত ও পাথর ছোড়ার ঘটনাকে ইঙ্গিত করে সময়কে খোঁচা মেরে বলেন, “সময় এতটাই কাশ্মীরি যে ও ‘স্টোনড’ হতে ভালোবাসে।”

বিতর্ক এর পরেও থামেনি। সময় রায়না মুম্বাইতে বিহারিদের কাজের খোঁজে আসাকে কেন্দ্র করে মন্তব্য করলে শারন দ্রুত তার উত্তর দেন। শারন বলেন, “অন্তত আমি তো নিজের ইচ্ছায় রাজ্য ছেড়ে বেরিয়ে এসেছি!” এই এক লাইনের পাঞ্চলাইনটি ১৯৯০-এর দশকে হিংসার বলি হয়ে কাশ্মীর থেকে কোটি কোটি কাশ্মীরি পণ্ডিতের ভিটেমাটি ছেড়ে পালিয়ে আসার ঐতিহাসিক এবং বেদনাদায়ক পটভূমিকে সরাসরি স্পর্শ করে।

শো-তে উপস্থিত অরি (Orry), অর্চনা পুরান সিংদের উপস্থিতিতে এই পুরো পর্বটিতে সশব্দ হাসি ও হাততালি মিললেও, ভিডিও ক্লিপ সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই কড়া প্রতিক্রিয়া ভেসে আসে। ক্ষুব্ধ নেটিজেনদের একাংশ প্রশ্ন তুলেছেন, হাজার হাজার মানুষের রক্ত ও গৃহহীন হওয়ার স্মৃতিকে কীভাবে এমন হালকা চালে সাধারণ কৌতুক বানিয়ে দেওয়া যায়?

এক অনুরাগী লিখেছেন, “অন্যের যন্ত্রণা ও জাতীয় বিপর্যয়কে এভাবে হাসির খোরাক বানানো একেবারেই মেনে নেওয়া যায় না। উভয় পক্ষ থেকেই এটা ভুল হয়েছে।” অন্য একজন মন্তব্য করেন, “রাজনীতি বা অভিবাসন নিয়ে কৌতুক হতে পারে, কিন্তু একটি সম্প্রদায়কে চরমপন্থীদের ভয়ে ঘর ছাড়তে বাধ্য হওয়াকে ‘নিজের ইচ্ছায় রাজ্য না ছাড়া’-র সঙ্গে তুলনা করা চরম অসংবেদনশীলতার বহিঃপ্রকাশ।”

উল্লেখ্য, সময় রায়নার এই শো বিতর্কিত কন্টেন্টের জন্য এর আগেও একাধিকবার আইনি ও সামাজিক বাধার মুখে পড়েছে। কিন্তু বারবার বিতর্কিত মন্তব্য করে পরে ক্ষমা চাওয়ার যে প্রবণতা ডিজিটাল মাধ্যমে তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে সোচ্চার হয়েছেন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও রাজনীতিকরাও। রসিকতার সীমা এবং ট্র্যাজেডির সংবেদনশীলতার মধ্যকার সূক্ষ্ম রেখাটি যে বারবার লঙ্ঘিত হচ্ছে, নেটপাড়ার এই ক্ষোভ ফের একবার তা স্পষ্ট করে দিল।

প্রতিবেদন

Sumantra Mukherjee