বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫
ব্রেকিং নিউজ
নিউ ফারাক্কায় ধস, বাতিল উত্তরবঙ্গগামী সব ট্রেন নিউটাউনে উত্তম কুমার ফিল্ম সেন্টারের শিলান্য়াস মুখ্য়মন্ত্রীর নেপালে ৯ দিন পর সুড়ঙ্গ থেকে উদ্ধার ২ শ্রমিক অভিষেকের ক্য়ামাক স্ট্রিটের অফিস খালির নির্দেশ

নেপালের ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে বাংলার, আশার আলো বসিরহাটের ‘১৫ মিনিট’

29 August, 2026 7:43 PM Sumantra Mukherjee
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদন : হিমবাহ ভাঙা জলপ্রপাত, হড়পা বান এবং একের পর এক ভয়াবহ ধস—জোড়া বিপর্যয়ে মুহূর্তে লণ্ডভণ্ড হয়ে গিয়েছে প্রতিবেশী দেশ নেপালের ভূপ্রকৃতি। এই মহাপ্রলয়ের মধ্যে বেড়াতে ও তীর্থযাত্রায় গিয়ে হারিয়ে গিয়েছেন একের পর এক পর্যটক। আর তার মাঝেই চার-চারটি দিন পেরিয়ে গেলেও হদিশ মেলেনি বীজপুরের প্রাক্তন বিধায়ক শুভ্রাংশু রায়ের স্ত্রী তথা প্রয়াত দাপুটে রাজনীতিক মুকুল রায়ের পুত্রবধূ শর্মিষ্ঠা ভৌমিক রায়ের। তিনি আদৌ নিরাপদ রয়েছেন কি না, তা নিয়ে কোনও স্পষ্ট বার্তা না থাকায় চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছে কাঁচরাপাড়ার রায় পরিবার।

অন্য দিকে, মৃত্যু আর ধ্বংসের এই অতল অন্ধকারে অলৌকিক আশার আলো হয়ে ফিরে আসছেন বসিরহাটের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক দম্পতি অনুকুল পোদ্দার ও রেবা পোদ্দার। মাত্র ১৫ মিনিটের এক ব্যবধান তাঁদের মৃত্যুর মুখ থেকে টেনে বার করে এনেছে। তবে তাঁদের মতো ভাগ্য সুপ্রসন্ন হয়নি রাজ্য থেকে যাওয়া বাকি নিখোঁজ পর্যটকের।

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২১ আগস্ট কলকাতার একটি বেসরকারি ট্রাভেল সংস্থার সঙ্গে একাই নেপাল হয়ে মানস সরোবর যাত্রায় রওনা দিয়েছিলেন শর্মিষ্ঠাদেবী। বাড়িতে দুই ছোট সন্তানকে স্বামী শুভ্রাংশু রায়ের কাছে রেখেই তিনি পুণ্য অর্জনে বেরিয়েছিলেন। কিন্তু গত ২৬ আগস্ট সকাল থেকে নেপালে নামা জোড়া বিপর্যয়ের পর থেকেই তাঁর সঙ্গে সমস্ত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

শনিবার কাঁচরাপাড়ায় শুভ্রাংশুবাবুর বাড়িতে তাঁর ও দুই সন্তানের পাশে দাঁড়াতে যান তৃণমূল নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। পরিবারকে সমবেদনা জানানোর পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “যদি শর্মিষ্ঠাদেবী বিপর্যয়ের সময় চিন সীমান্ত পেরিয়ে তিব্বত বা চিনের দিকে ঢুকে যেতে পেরে থাকেন, তা হলে হয়তো তিনি নিরাপদ আছেন। কিন্তু তিনি যদি নেপাল প্রান্তেই আটকে থাকেন, তা হলে পরিস্থিতি যথেষ্ট চিন্তার।”

কার্যত দিশেহারা প্রাক্তন বিধায়ক শুভ্রাংশু রায় সংবাদমাধ্যমের সামনে নিজের যন্ত্রণা চেপে রাখতে পারেননি। তিনি বলেন, “যার স্বজন যায়, সেই একমাত্র বোঝে এই যন্ত্রণার ভার। আজ চার দিন হয়ে গেল, ২৬ তারিখের পর থেকে আর কোনও কথা হয়নি, যোগাযোগের কোনও উপায় নেই। ৭ সেপ্টেম্বর ওর বাড়ি ফেরার কথা ছিল। যতক্ষণ না পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কোনও খবর পাচ্ছি, উৎকণ্ঠা তো কাটবেই না।”

নিখোঁজদের উদ্ধার করতে রাজ্য প্রশাসন ইতিমধ্যেই তৎপরতা শুরু করেছে। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে রাজ্য সরকার এবং কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধিরা নেপাল দূতাবাসের সঙ্গে সার্বিক সমন্বয় বজায় রাখছেন। নিখোঁজ পরিবারগুলির সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে কথা বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি শুভ্রাংশুবাবু এবং তাঁর দুই সন্তানের সঙ্গেও কথা বলেন। মুখ্যমন্ত্রী আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন, নিখোঁজ প্রতিটি নাগরিকের অবস্থান খুঁজে বের করতে নেপাল সরকার ও ভারতীয় দূতাবাসের মাধ্যমে যা যা করা প্রয়োজন, প্রশাসন তার সবটাই করছে। প্রয়োজনে পরিজনদের সরাসরি দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলিয়ে দেওয়ার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে।

মৃত্যুপুরী নেপালে যেখানে প্রতি মুহূর্তে স্বজন হারানোর কান্না, ঠিক সেখানেই এক অদ্ভুত ‘সময়চক্রের অঙ্কে’ অক্ষত বেঁচে ফিরেছেন বসিরহাটের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক অনুকূল পোদ্দার ও তাঁর স্ত্রী রেবা পোদ্দার। তাঁরাও নেপাল হয়ে মানস সরোবরের উদ্দেশ্যে পাড়ি দিয়েছিলেন। রবিবার সকালে ট্রেনে কলকাতায় পৌঁছনোর কথা তাঁদের।

অনুকূলবাবু বলেন, “বুধবার সকালে আমাদের চিন সীমান্তে পৌঁছনোর কথা ছিল। সীমান্ত তল্লাশি ও ভিসা পরীক্ষার লাইনে আমাদের বেশ কিছুটা বাড়তি সময় লেগে যায়। ফলে যে নির্দিষ্ট গাড়িতে চড়ে আমাদের মানস সরোবর যাওয়ার কথা ছিল, সেটি আমাদের না নিয়েই ১৫ মিনিট আগে রওনা হয়ে যায়।”

সেই গাড়িটি মিস করার পরেই তাঁরা পরবর্তী গাড়ির জন্য সীমান্ত এলাকায় অপেক্ষা করতে থাকেন। আর ঠিক তখনই পাহাড় ধসে পড়া ও হড়পা বানের খবর পৌঁছায় সেখানে। তাঁরা জানতে পারেন, যে রাস্তা ধরে প্রথম গাড়িটি এগিয়ে গিয়েছিল, কয়েক মিনিট পরেই সেই সম্পূর্ণ রাস্তা ধসে নদীতে তলিয়ে গিয়েছে। মাত্র ১৫ মিনিটের এই দেরিই তাঁদের নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করে। বিপদ বুঝে আর এক মুহূর্ত অপেক্ষা না করে তাঁরা তড়িঘড়ি কলকাতায় ফেরার পথ ধরেন।

প্রতিবেদন

Sumantra Mukherjee