বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫
ব্রেকিং নিউজ
রবীন্দ্র সরোবরে সাঁতার শিখতে গিয়ে মৃত্য়ু শিক্ষার্থীর ফারাক্কায় দ্রুত গতিতে চলছে লাইন মেরামতির কাজ মালদা মেডিকেলে শিশুমৃত্য়ুর জের, সাসপেন্ড সুপার অভিষেকের ক্য়ামাক স্ট্রিটের অফিস খালির নির্দেশ

“ছেড়ে দিন ওকে, জেলে কিছু হলে কাঁদবে গোটা পাকিস্তান!” বন্দি ইমরানের সমর্থনে সুর চড়ালেন জাভেদ মিঁয়াদাদ

29 August, 2026 6:45 PM Sumantra Mukherjee
শেয়ার করুন

করাচি : পাকিস্তানের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সফল অধিনায়ক এবং দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের পাশে এবার সরাসরি এসে দাঁড়ালেন তাঁর একসময়ের সতীর্থ তথা জাতীয় দলের কিংবদন্তি ব্যাটার জাভেদ মিঁয়াদাদ। ২০২৩ সালের আগস্ট মাস থেকে কারাবন্দি থাকা ৭২ বছর বয়সী ইমরান খানের ওপর চলা এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থার তীব্র সমালোচনা করে অবিলম্বে তাঁর মুক্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি। পাকিস্তান সরকারের প্রতি তাঁর আকুল আবেদন, বিভেদ ভুলে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীকে দ্রুত মুক্তি দেওয়া হোক। ইমরান জেলে যাওয়ার পর এই প্রথম পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) প্রাক্তন কোনো বড় তারকা বা প্রাক্তন অধিনায়ক প্রকাশ্যে এত শক্ত ভাষায় তাঁর পাশে দাঁড়ালেন।

‘ন্যাশন্যাল পডকাস্ট’-এ দেওয়া এক আবেগঘন সাক্ষাৎকারে ক্ষোভ ও কান্নাভেজা গলায় মিঁয়াদাদ বলেন, “আমি সব সময় সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করি যেন ওর সঙ্গে যা ঘটছে তার একটা সম্মানজনক সমাধান হয়। ইমরান অন্তত এই পরিস্থিতির যোগ্য নয়। ও দেশের জন্য যা করেছে, তার বিনিময়ে এই আচরণ পাওনা ছিল না। ওঁর ওপর যা করা হচ্ছে তা সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয় ও অন্যায়। মনে রাখা উচিত, ওঁরও একটা পরিবার রয়েছে।”

স্মৃতির পাতায় ডুব দিয়ে প্রাক্তন এই পাক তারকা ব্যাটার আরও বলেন, “জেলে ও কীভাবে দিন কাটাচ্ছে, কী ভাবছে, এসব ভেবে আমি রাতে ঘুমোতে পারি না। আমরা দু’জন খুব কাছাকাছি ছিলাম। কত সময় একসঙ্গে কাটিয়েছি, একে অপরের কথা ভেবেছি! দু’জনে মিলে পাকিস্তান ক্রিকেটকে বিশ্বের দরবারে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছিলাম। আজকে ওঁর এই পরিণতি দেখে আমার বুক ফেটে যায়।”

ইমরান খানের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা এবং সম্মানের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে পাকিস্তানের বর্তমান রাজনৈতিক নেতৃত্বের উদ্দেশে মিঁয়াদাদ বলেন, “সারা বিশ্বে ইমরানের একটা আলাদা সম্মান রয়েছে। ও এই দেশকে অনেক কিছু দিয়েছে, সেটা আমাদের মনে রাখা উচিত। এবার সব পুরনো শত্রুতা ও বিবাদ ভুলিয়া দেওয়া দরকার। ও দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী। ঈশ্বর না করুন, জেলের ভেতরে ওঁর যদি কোনো অঘটন ঘটে যায়, তবে পুরো পাকিস্তান অঝোরে কাঁদবে! সেদিন সবাই প্রশ্ন তুলবে, কেন ওঁর সঙ্গে এমন নির্মম ব্যবহার করা হলো? ওনাকে স্রেফ ছেড়ে দিন, এতে আপনাদের কী ক্ষতি হবে? আজ যদি আমার ভাইয়ের সঙ্গে এমন কিছু হতো, তবে কি আমি চুপ করে থাকতাম? ইমরান আমার ভাইয়ের মতোই।”

রাজনৈতিক মহলে তৈরি হওয়া বিরোধ বা তাঁদের খেলোয়াড় জীবনের তথাকথিত কোন্দল নিয়ে চলা গুঞ্জনও এদিন এক ফুঁয়ে উড়িয়ে দেন মিঁয়াদাদ। তিনি স্পষ্ট জানান, “আমার আর ইমরানের মধ্যে কোনোদিনও প্রতিযোগিতা বা শত্রুতা ছিল না। আমাদের মধ্যে কখনো কোনো ঝগড়া হয়নি। আমি কখনোই অভিযোগ করিনি যে ইমরান আমার কোনো ক্ষতি করেছে। আমাদের একটা দুর্দান্ত কেরিয়ার ছিল, যার জন্য আমি ঈশ্বরের কাছে কৃতজ্ঞ। কাউন্টি ক্রিকেট থেকে শুরু করে জাতীয় দল—বছরের অর্ধেকের বেশি সময় আমরা একসঙ্গেই কাটাতাম।”

উল্লেখ্য, বন্দি ইমরান খানের সুচিকিৎসা এবং মানবিক মর্যাদার দাবিতে কিছুদিন আগেই সরব হয়েছিলেন বিশ্বের একাধিক ক্রিকেট কিংবদন্তি। ভারতের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক কপিল দেব সহ বিশ্ব ক্রিকেটের একাধিক প্রাক্তন অধিনায়ক পাকিস্তানের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফকে চিঠি লিখে ইমরানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং উপযুক্ত স্বাস্থ্যসেবার দাবি জানান।

শুধু তা-ই নয়, এই তালিকার অগ্রভাগে ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার প্রাক্তন অধিনায়ক গ্রেগ চ্যাপেলও। তিনি বেশ কিছুদিন আগেই প্রকাশ্যে সরব হয়ে পিটিআই (PTI) প্রধানের দ্রুত মুক্তির দাবি জানিয়েছিলেন এবং সরকারের প্রতি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছিলেন। চ্যাপেল ও কপিল দেবদের সেই সুরেই এবার কণ্ঠ মিলালেন খোদ ইমরানেরই এক সময়ের বিশ্বস্ত সেনাপতি জাভেদ মিঁয়াদাদ। সব মিলিয়ে, বিশ্ব ক্রিকেটের একের পর এক মহাতারকার এই যৌথ আর্জির পর পাকিস্তান সরকারের ওপর আন্তর্জাতিক ও সামাজিক চাপ যে বহুগুণ বেড়ে গেল, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

প্রতিবেদন

Sumantra Mukherjee