বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫
ব্রেকিং নিউজ
রবীন্দ্র সরোবরে সাঁতার শিখতে গিয়ে মৃত্য়ু শিক্ষার্থীর ফারাক্কায় দ্রুত গতিতে চলছে লাইন মেরামতির কাজ মালদা মেডিকেলে শিশুমৃত্য়ুর জের, সাসপেন্ড সুপার এবার রাজ্য়ের মডেল স্কুল প্রকল্পে সিএম শ্রী ইন্সটিউট, ঘোষণা মুখ্য়মন্ত্রীর

বড়দিনের ঠিকানায় এবার দেবীর আরাধনা !

29 August, 2026 3:16 PM Sumantra Mukherjee
শেয়ার করুন

সুনেত্রা সেনগুপ্ত : পার্ক স্ট্রিট। মানে বড়দিন।

বাংলার আশ্বিনে এবার সেই পার্ক স্ট্রিটে যোগ হবে নতুন যুগ। এই প্রথম অ্যালেন পার্ক সেজে উঠছে দুর্গাপুজোর প্রস্তুতিতে। আয়োজন করছে কলকাতা সনাতনী সঙ্ঘ। বাংলার সংস্কৃতি ও সনাতনী আচার-অনুষ্ঠানকে সামনে রেখে এই পুজোকে বড় আকারে করার পরিকল্পনা নিয়েছেন উদ্যোক্তারা।

আয়োজকদের দাবি, পার্ক স্ট্রিটে নিয়মিত দুর্গাপুজোর তেমন ঐতিহ্য নেই। তাঁদের বক্তব্য, প্রায় ২০০ বছরেরও বেশি আগে এই এলাকায় ছোট পরিসরে এক-দু’বার দুর্গাপুজো হয়েছিল। তারপর দীর্ঘ সময় এই এলাকায় দুর্গাপুজোর কোনও ধারাবাহিক আয়োজন হয়নি। সেই ইতিহাসের প্রেক্ষিতেই অ্যালেন পার্কের এবারের পুজোকে ‘নতুন সূচনা’ হিসেবে দেখছেন উদ্যোক্তারা।

পুজোর আয়োজক কমিটিতে বিজেপির একাধিক নেতা ও পদাধিকারী রয়েছেন। বিজেপির সাধারণ সম্পাদক নবীন মিশ্র রয়েছেন সম্পাদক পদে এবং দলের মুখপাত্র শঙ্কুদেব পাণ্ডা সভাপতি হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন। নবীন মিশ্র জানিয়েছেন, পার্ক স্ট্রিট এলাকায় দুর্গাপুজো করার ভাবনা তাঁর দীর্ঘদিনের। ২০১৫ সালের পুরসভা নির্বাচনে প্রথমবার প্রার্থী হওয়ার সময় থেকেই এই পরিকল্পনা তাঁর মাথায় ছিল বলে জানান তিনি।

পুজোর বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে থাকছে বাংলার লোকসংস্কৃতি। বাউল গান থেকে শুরু করে পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, উত্তরবঙ্গ-সহ বাংলার বিভিন্ন প্রান্তের লোকঐতিহ্যকে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে শুধুমাত্র ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, বাংলার বহুমাত্রিক সংস্কৃতিরও একটি মঞ্চ হয়ে উঠতে পারে অ্যালেন পার্ক। আরতির আয়োজনেও থাকছে বিশেষত্ব।

চতুর্থী থেকে দশমী পর্যন্ত প্রতিদিন সন্ধ্যায় বড় আকারের আরতি করার পরিকল্পনা নিয়েছেন উদ্যোক্তারা। বারাণসীর গঙ্গা আরতির আদলে এই আয়োজন দর্শনার্থীদের কাছে অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠবে বলে আশা তাঁদের। পুজোর প্রধান দিনগুলিতে প্রসাদ বিতরণের ব্যবস্থাও থাকবে। প্রচলিত ‘খুঁটিপুজো’র পরিবর্তে সনাতনী রীতি মেনে ‘ভূমিপুজো’ করার কথা জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা। মূল ধর্মীয় আচার শুরু হবে চতুর্থী থেকে।

পাশাপাশি মহালয়া থেকেই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শুরু করা যায় কি না, তা নিয়েও ভাবনাচিন্তা চলছে। অর্থাৎ মহালয়া থেকেই অ্যালেন পার্কে উৎসবের আবহ তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে। অ্যালেন পার্কের সঙ্গে অবশ্য কলকাতার বড়দিনের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। ২০০৭ সালে এখানে ছয় দিনের পার্ক স্ট্রিট কার্নিভালের আয়োজন শুরু হয়েছিল। পরে ২০১১ সাল থেকে পশ্চিমবঙ্গ সরকার সেই উৎসবের দায়িত্ব নেয় এবং তা কলকাতা ক্রিসমাস ফেস্টিভ্যাল হিসেবে আরও বড় হয়।

ফলে বড়দিনের অন্যতম পরিচিত কেন্দ্রেই এবার দুর্গাপুজোর সংযোজন নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ। তবে এই পুজো বড়দিনের উৎসবকে প্রতিস্থাপন করবে না বলেই জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা। তাঁদের বক্তব্য, পার্ক স্ট্রিটের নিজস্ব বড়দিনের ঐতিহ্য ও আকর্ষণ অটুট থাকবে। বিভিন্ন উৎসবকে নিজেদের স্বতন্ত্র পরিসরে উদযাপনের মধ্য দিয়েই এলাকার সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য আরও সমৃদ্ধ হবে, এটাই তাঁদের লক্ষ্য। কলকাতার দুর্গাপুজো মূলত ধর্মীয় উৎসবের পাশাপাশি জনজীবন ও সংস্কৃতির অন্যতম বড় প্রকাশ।

সেই উৎসবের মানচিত্রে অ্যালেন পার্কের নাম যুক্ত হওয়া তাই শুধু একটি নতুন মণ্ডপ তৈরির ঘটনা নয়; পার্ক স্ট্রিটের উৎসব-পরিচয়েও এটি একটি নতুন সংযোজন। এবার দেখার, বড়দিনের আলোয় পরিচিত অ্যালেন পার্ক শরতের দেবীপক্ষেও কলকাতাবাসীর কতটা মন জয় করতে পারে।

প্রতিবেদন

Sumantra Mukherjee