বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫
ব্রেকিং নিউজ
নিউ ফারাক্কায় ধস, বাতিল উত্তরবঙ্গগামী সব ট্রেন নিউটাউনে উত্তম কুমার ফিল্ম সেন্টারের শিলান্য়াস মুখ্য়মন্ত্রীর নেপালে ৯ দিন পর সুড়ঙ্গ থেকে উদ্ধার ২ শ্রমিক অভিষেকের ক্য়ামাক স্ট্রিটের অফিস খালির নির্দেশ

যাদবপুুরে অতিবামদের নিশানা মুখ্যমন্ত্রীর

28 August, 2026 6:59 PM Sumantra Mukherjee
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদন : পূর্বতন বামফ্রন্ট কিংবা পরবর্তী তৃণমূল কংগ্রেস সরকার যে পথ অনুসরণ করেছে, তাঁর সরকার যে কোনও মূল্যেই সেই আপসের রাজনীতিতে হাঁটবে না— যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশদ্বারে দাঁড়িয়ে এক চরম হুঁশিয়ারি দিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। যাদবপুর সংলগ্ন এইট-বি বাসস্ট্যান্ড মোড়ে আয়োজিত ‘দশ হাজার কণ্ঠে বন্দে মাতরম্’ অনুষ্ঠানের সুবিশাল মঞ্চ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরের অতিবাম ও রাষ্ট্রবিরোধী সংস্কৃতির বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণা করেন তিনি। সপাট সুরে জানিয়ে দিলেন, “হিসাবের শেষ পর্যায়ে এসে গিয়েছে। এ বার হয় ওই বেয়াদপেরা থাকবে, নয় রাষ্ট্রবাদীরা। মাঝে আর কিছু হবে না!”

শুক্রবার বিকেলে এইট-বি বাসস্ট্যান্ড এলাকা জুড়ে আয়োজিত এই মেগা জাতীয়তাবাদী কর্মসূচির জন্য প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ র‌্যাম্প তৈরি করা হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে দুপুর ১টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত রাজা সুবোধচন্দ্র মল্লিক রোডে যান চলাচল বন্ধ রাখা হয় এবং যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের চারটি প্রধান ফটকই সিল করে দেওয়া হয়। মুষলধারে বৃষ্টির মধ্যেই খালি পায়ে জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে হাজার হাজার মানুষের সঙ্গে ‘বন্দে মাতরম্’ গানে শামিল হন মুখ্যমন্ত্রী।

এর পর মঞ্চে উঠেই বাম ও তৃণমূল— দুই অতীত সরকারকেই একের পর এক কড়া বাণে বিঁধতে শুরু করেন শুভেন্দু। তাঁর অভিযোগ, ৩৪ বছর ধরে বামফ্রন্ট সরকার এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘বিদেশি প্রভাবযুক্ত কমিউনিস্টদের’ মদত দিয়ে এসেছে, যাদের বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ, বঙ্কিমচন্দ্র বা বিদ্যাসাগরের ছবি থাকে না। এদের হাত ধরেই স্বাধীনতা দিবস, সাধারণতন্ত্র দিবস এবং সনাতন ভারতীয় সংস্কৃতি থেকে পড়ুয়াদের বিচ্যুত করা হয়েছে। পরবর্তীতে ১৫ বছর ধরে তৃণমূল সরকারও নিজেদের স্বার্থে এদের সঙ্গে ‘সমঝোতা’ করে চলেছে। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, নির্বাচনের সময় এরা ‘নো ভোট টু বিজেপি’ বা ‘নো ভোট টু মোদী’ স্লোগান তুলে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে ডিভিডেন্ড দিত, আর সেই রাজনৈতিক আদান-প্রদানের কারণেই ভেতরে এই মাওবাদী ও রাষ্ট্রবিরোধী শক্তিকে বাঁচিয়ে রাখা হয়েছিল।

নিজের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করিয়ে শুভেন্দু জানান, রাজ্যসভার প্রাক্তন বিরোধী দলনেতা হিসেবে র‌্যাগিং-কাণ্ডের সময় তিনি যখন যাদবপুরে গিয়েছিলেন, তখন তাঁর গাড়ির কাচ ভেঙে মাওবাদী পরিচয় দিয়ে ‘গো ব্যাক’ স্লোগান দেওয়া হয়। কিন্তু তৎকালীন পুলিশমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে আটক হওয়া অভিযুক্তদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি, বিজেপি নেতা ও রাজ্যপালদের উপর আক্রমণের প্রসঙ্গও মনে করিয়ে দেন তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলন ও স্লোগান-সংস্কৃতিকে নজিরবিহীন ভাষায় আক্রমণ করে শুভেন্দু বলেন, দিল্লিতে নিট-আন্দোলনে যে স্লোগান ওঠে না, তা যাদবপুরে দেখা যায়। হোস্টেল থেকে সাধারণ ছাত্রদের ভয় দেখিয়ে, চে গেভারা-র টি-শার্ট পরিয়ে মিছিলে হাঁটাতে বাধ্য করা হয়। রানাঘাটের ছাত্রের মতো পরিণতির ভয় দেখানো হয়। তাঁর প্রশ্ন, “কিসের আজাদি চান আপনারা? হেরোইন খাওয়ার আজাদি? ড্রাগ নেওয়ার আজাদি? না কি টুকরে টুকরে গ্যাংয়ের আজাদি?” তিনি আরও যোগ করেন, সিআরপিএফ জওয়ান বা হিন্দুরা নিহত হলে এদের কোনো মিছিল হয় না, কিন্তু সেনার ‘অপারেশন সিঁদুর’ বা পাকিস্তান-বিরোধী পদক্ষেপ হলেই এরা ‘যুদ্ধ নয়, শান্তি চাই’ বলে পথে নামে।

যাদবপুরের আর্টস হোস্টেলের দেওয়ালে ‘রেড স্যালুট কিষেণজি’ বা ‘ফ্রি কাশ্মীর’ লেখার কড়া জবাব দিয়ে পুলিশমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা শুভেন্দু সরাসরি হুঁশিয়ারি দেন, “নন্দীগ্রাম থেকে যে ভাবে কমিউনিস্ট সাফাই করা হয়েছে, জঙ্গলমহল থেকে যে ভাবে মাওবাদী সাফাই হয়েছে, সে ভাবেই যাদবপুরে অভিযান চলবে। দেওয়ালে লিখন লিখছেন? আমি ড্রোন ওড়াব! কোথায় ফেনসিডিল নিচ্ছেন, কোথায় পাতা পুড়িয়ে টানছেন, সব দেখব। আমি পুলিশমন্ত্রী, জঞ্জাল সাফাই করতে জানি।”

কাশ্মীর ইস্যুতে কড়া বার্তা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শেষ বয়সে জানিয়ে দেন, ভারতীয় বাহিনী অপারেশন সিঁদুরে মাসুদ আজহারের বংশকে ধ্বংস করেছে এবং খুব শীঘ্রই পাক-অধিকৃত কাশ্মীরও ভারতের অধীনে আসবে। রাজ্য সরকারের উদ্যোগে ‘রাষ্ট্রবাদের বন্ধনকে সুদৃঢ়’ করতেই এই কর্মসূচির আয়োজন বলে স্পষ্ট জানান তিনি।

প্রতিবেদন

Sumantra Mukherjee