বইমেলা থেকে বাদ ফিরহাদ-অরূপ, নতুন কমিটিতে চমক কারা !
সুনেত্রা সেনগুপ্ত : কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলার অ্যাডভাইজরি কমিটিতে বড়সড় রদবদল ঘটল।
রাজ্য প্রশাসনে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর দীর্ঘদিনের পুরোনো কমিটিকে ভেঙে নতুন সদস্য এনে পুনর্গঠন করা হল এই অ্যাডভাইজরি কমিটি। পূর্বে এই কমিটিতে শিল্পী শুভাপ্রসন্ন, যোগেন চৌধুরীর পাশাপাশি অরূপ বিশ্বাস ও ফিরহাদ হাকিমের মতো প্রভাবশালী তৎকালীন মন্ত্রীরা ছিলেন। তবে বছরের পর বছর কেন একই ব্যক্তিরা কমিটিতে বহাল থাকবেন এবং পাবলিশার্স অ্যান্ড বুকসেলার্স গিল্ডের একচ্ছত্র ভূমিকা থাকবে, তা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন প্রকাশকদের একাংশ।
সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রীর বিশেষ উপদেষ্টা সুব্রত গুপ্তের কাছে গিল্ডের কাজ ও আচরণ নিয়ে লিখিত অভিযোগও জমা পড়ে।এই পরিস্থিতি সামাল দিতেই প্রশাসনিক পদক্ষেপে কমিটির পরিবর্তন আনা হল। তবে গিল্ড বইমেলা আয়োজনের মূল দায়িত্বে বহাল থাকছে, সঙ্গে তাদের সহায়তায় কাজ করবে নতুন এই অ্যাডভাইজরি কমিটি।রাজ্যে পালাবাদলের পর নতুন সরকার ক্ষমতায় এসেছে। আর তা আসার পর দীর্ঘদিনের পুরনো কমিটিকে ভেঙে দেওয়া হলো।
আর সেখানে নতুন সদস্য এনে পুনর্গঠন করা হলো এই অ্যাডভাইজরি কমিটি। রাজ্য সরকারের নয়া কমিটিতে আছেন ২৪ জন। সেখানে প্রতিনিধি রয়েছে রামকৃষ্ণ মিশন, ভারত সেবাশ্রম সংঘ, পাবলিশার্স অ্যান্ড বুক সেলার্স গিল্ডের। তবে এই নয়া কমিটিতে নেই গিল্ডের এখনকার সম্পাদক ত্রিদিবকুমার চট্টোপাধ্যায় এবং সভাপতি সুধাংশুশেখর দে।
নবান্ন সূত্রে খবর, ২৪ জনের নয়া কমিটিতে আছেন রামকৃষ্ণ মিশনের স্বামী আর্যেশানন্দ, ভারত সেবাশ্রম সংঘের স্বামী সারস্বতানন্দ, পাবলিশার্স অ্যান্ড বুক সেলার্স গিল্ডের দেবজ্যোতি দত্ত, অনিল আচার্য, মিলিন্দ দে, রাজকুমার বর্মণ। আবার যুক্ত থাকছেন দেবজিৎ সরকার, সপ্তর্ষি চৌধুরি, প্রসেনজিৎ বক্সি, বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়, সুকেশ মণ্ডল, মোহিত রায়, ওসমান গণি, আশিস গিরির মতো ব্যক্তিরা। এখানে বেশ কয়েকজন বিজেপি নেতাকে যুক্ত করা হলো।
২০২৭ সালের কলকাতা বইমেলা যৌথভাবে আয়োজন করবে পাবলিশার্স অ্যান্ড বুক সেলার্স গিল্ড, ইজেডসিসি, ন্যাশনাল বুক ট্রাস্ট। রাজ্য সরকারের গঠিত ২৪ জনের নয়া কমিটি পরামর্শ দেবে।তাছাড়া নতুন এই কমিটি বইমেলার পরিচালনায় স্বচ্ছতা এবং নতুন মাত্রা আনবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, রাজ্যসভার সাংসদ তথা বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য সাহিত্যিক বুদ্ধদেব গুহর জন্মদিন উপলক্ষ্যে এক অনুষ্ঠানে দাবি করেছিলেন, কলকাতা বইমেলায় ভারতীয়ত্বের ছাপ থাকতে হবে। সকলের বিচরণক্ষেত্র হয়ে উঠুক বইমেলা। এই নয়া কমিটি সেদিকটা লক্ষ্য রাখবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
