ফের বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংঘর্ষ !
নিজস্ব প্রতিবেদন : যাদবপুরের পর এবার বারাসত।
ফের ছাত্র সংঘর্ষে উত্তপ্ত শিক্ষাঙ্গন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবাসে ঢুকে ভাঙচুর এবং তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সদস্যদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে সঙ্ঘ পরিবারের ছাত্র সংগঠন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে। এবিভিপির পাল্টা অভিযোগ, তাদের দুই ছাত্রকে ব্লেড দিয়ে রক্তাক্ত করা হয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনায় অভিষেক পাল ও অরূপ বিশ্বাস নামে দুই ছাত্র জখম হয়েছেন। তাঁদের বারাসত মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে।
এবিভিপির বারাসত নগর সম্পাদক প্রীতম পাঠকের অভিযোগ, রাষ্ট্রবিজ্ঞানে এমএ প্রথম বর্ষের ছাত্র অরূপ বিশ্বাসকে কথা বলার নাম করে ডেকে নিয়ে টিএমসিপির এক কর্মী মারধর করেন। বিষয়টি জানাজানি হতেই এবিভিপির কয়েকজন ছাত্র হস্টেলে গেলে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে বলে দাবি তাঁর। সেই সময় অরূপ ও অভিষেকের বুকে এবং কপালে ব্লেড দিয়ে আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ ওই এবিভিপি নেতার।
অন্য দিকে, টিএমসিপির গিয়াস আলি ও রহমত মণ্ডলের অভিযোগ, এবিভিপির কর্মীরাই বিনা প্ররোচনায় হস্টেলে ঢুকে ছাত্রদের মারধর করেন এবং ভাঙচুর চালান। গিয়াস জানান, সংঘর্ষে ১০-১২ জন ছাত্র জখম হয়েছেন। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দত্তপুকুর থানার বিশাল পুলিশবাহিনী মোতায়েন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিরাও ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন।
সংঘর্ষের ঘটনায় দুই পক্ষই পুলিশের কাছে পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছে। ঠিক কী কারণে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত, তা এখনও স্পষ্ট নয়। অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। বারাসত পুলিশ জেলার সুপার জে মার্সি জানিয়েছেন, সংঘর্ষের প্রকৃত কারণ জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে। ঘটনায় জড়িতদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
