বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫
ব্রেকিং নিউজ
রবীন্দ্র সরোবরে সাঁতার শিখতে গিয়ে মৃত্য়ু শিক্ষার্থীর ফারাক্কায় দ্রুত গতিতে চলছে লাইন মেরামতির কাজ মালদা মেডিকেলে শিশুমৃত্য়ুর জের, সাসপেন্ড সুপার এবার রাজ্য়ের মডেল স্কুল প্রকল্পে সিএম শ্রী ইন্সটিউট, ঘোষণা মুখ্য়মন্ত্রীর

শুভেন্দুর কড়া বার্তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বাজারে হানা টাস্ক ফোর্সের !

25 August, 2026 4:25 PM Sumantra Mukherjee
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদন : উৎসবে এখনও বেশ কিছুদিন দেরি।

কিন্তু তার আগেই বাজারে আগুন! ৭০ টাকা ছাড়িয়েছে চিনির দাম, আর মাত্র দিন পনেরোর ব্যবধানে কলকাতা-সহ গোটা রাজ্যে পেঁয়াজের দাম প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে গিয়ে দাঁড়িয়েছে কেজি প্রতি ৬০ থেকে ৬৫ টাকায়। চাল, রসুন, ভোজ্য তেল থেকে শুরু করে রান্নাঘরের প্রায় প্রতিটি নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর বেসামাল মূল্যবৃদ্ধিতে রীতিমতো হাঁসফাঁস অবস্থা মধ্যবিত্তের। এই অগ্নিমূল্য পরিস্থিতি ও অসাধু কারবারিদের কালোবাজারি রুখতে স্পষ্ট ও কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের ঠিক ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বাজার সামাল দিতে মঙ্গলবার সকাল থেকে কলকাতা-সহ উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে একযোগে বিরাট অভিযানে নামল এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ ও টাস্ক ফোর্স।

উৎসবে আগাম আগুন, পেঁয়াজে ‘সেঞ্চুরি’র আশঙ্কা

সাধারণ মানুষের অভিজ্ঞতা বলে, প্রতি বছর সাধারণত বিশ্বকর্মা পুজোর পর থেকে বাজারদর সামান্য চড়তে শুরু করে। কিন্তু এবার উৎসবের মরসুম শুরুর অনেক আগেই নিত্যপণ্যের দামের পারদ অস্বাভাবিক হারে ঊর্ধ্বমুখী। বিক্রেতারা জানিয়েছেন, গত বছর এই সময়ে বাজারে পেঁয়াজের খুচরো দর ছিল কেজি প্রতি ৩০ থেকে ৩৫ টাকা। চলতি মাসের গোড়াতেও সেই দর বজায় ছিল। কিন্তু আগস্টের প্রথম সপ্তাহের শেষ দিক থেকেই হঠাৎ লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে শুরু করে দাম। পাইকারি ও খুচরো বিক্রেতাদের একাংশের আশঙ্কা, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ না করা গেলে উৎসবের অনেক আগেই পেঁয়াজের দাম ১০০ টাকা ছুঁয়ে ফেলতে পারে।

উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গে চাহিদার তুলনায় পেঁয়াজের নিজস্ব উৎপাদন অনেকটাই কম। ঘাটতি মেটাতে মূল ভরসা মহারাষ্ট্রের নাসিক। সেখান থেকে নিয়মিত পেঁয়াজ রাজ্যে এলেও বাংলায় দাম একলাফে বাড়ার পর নাসিকের পাইকারি বিক্রেতারাও সুযোগ বুঝে দর বাড়িয়ে দিয়েছেন। ডিম বা দু’-একটি সবজির দাম সামান্য কমলেও পেঁয়াজ ও চিনির ক্ষেত্রে ঊর্ধ্বমুখী দর কমার কোনো লক্ষণ নেই।

মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশেই অল-আউট অভিযানে টাস্ক ফোর্স

আকাশছোঁয়া মূল্যবৃদ্ধির নেপথ্যে কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর বেআইনি মজুতদারি ও অনিয়ম নজর আসতেই প্রশাসনিক বৈঠকে কড়া মনোভাব দেখান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দোকানে দোকানে কড়া নজরদারি চালানো ও বেআইনি মজুতদারদের বিরুদ্ধে পুলিশি পদক্ষেপের নির্দেশ দেন তিনি।

আজ, ২৫ আগস্ট মঙ্গলবার সকাল হতেই মুখ্যমন্ত্রীর সেই নির্দেশের সরাসরি প্রতিফলন দেখা গেল রাজপথে। কলকাতার ব্যস্ততম কোলে মার্কেট ও পোস্তা বাজারে আচমকা অভিযানে যান রাজ্য টাস্ক ফোর্সের আধিকারিকেরা। ক্রয়-বিক্রয়ের রশিদ, পাইকারি ও খুচরো মূল্যের ফারাক এবং মজুত পণ্যের হিসাব খতিয়ে দেখেন তাঁরা।

কলকাতা ছাড়াও রাজ্যের জেলায় জেলায় চলে সরকারি কর্তাদের এই অভিযান:

  • হাওড়া ও উলুবেড়িয়া: উলুবেড়িয়া মহকুমার একাধিক বাজারে সরজমিনে হানা দেন আধিকারিকেরা। হাওড়া গ্রামীণ জেলা পুলিশ সুপার অমিত বর্মা, উলুবেড়িয়া মহকুমা শাসক মানস কুমার মণ্ডল নিজে বাজারে ঘুরে পাইকারি ও খুচরো দর যাচাই করেন।

  • উত্তরবঙ্গ ও জলপাইগুড়ি: জলপাইগুড়ির বাজারে অভিযানে নামেন জেলাশাসক অদিতি চৌধুরী ও পুলিশ সুপার সুজাতা কুমারী বীণাপানি। সঙ্গে ছিলেন খাদ্য সুরক্ষা, কৃষি বিপণন ও স্বাস্থ্য দপ্তরের আধিকারিকেরা। দোকানে দোকানে চাল, চিনি বা পেঁয়াজ বেআইনিভাবে মজুত করা আছে কি না দেখার পাশাপাশি ভোজ্য তেল ও খাবারের নমুনা সংগ্রহ করেন জেলাশাসক।

  • অন্যান্য জেলা: তমলুক ও ঝাড়গ্রামেও এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ এবং স্থানীয় প্রশাসনের যৌথ দল বিভিন্ন আড়ত ও খুচরো বাজারে আচমকা পরিদর্শন চালায়।

প্রশাসনের এই অল-আউট হানায় অসাধু ব্যবসায়ীদের একাংশের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। প্রশাসনিক আধিকারিকেরা পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, কৃত্তিম সংকট তৈরি করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করা বা বেআইনিভাবে গুদামজাত করার প্রমাণ পেলেই কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মুখ্যমন্ত্রীর এই প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপে আগামী দিনগুলিতে বাজারদর সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আসে কি না, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজ্যবাসী।

প্রতিবেদন

Sumantra Mukherjee