Premier League: ব্রুনোর হ্যাটট্রিকের রাতে ইউনাইটেডের প্রত্যাবর্তন, চেলসির জয়েও অস্বস্তি
ম্যানচেস্টার: এক সপ্তাহ আগের ধাক্কার উত্তরটা মাঠেই দিল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড (Manchester United)। হাল সিটির কাছে ০-২ হারের পর রবিবার ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ইপসউইচ টাউনকে ৫-২ গোলে উড়িয়ে দিল মাইকেল ক্যারিকের দল। আর প্রত্যাবর্তনের রাতটা নিজের করে নিলেন অধিনায়ক ব্রুনো ফার্নান্ডেস (Bruno Fernandes)। হ্যাটট্রিক তো করলেনই, সঙ্গে সতীর্থদের আক্রমণও বারবার সামনে টেনে আনলেন।
ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে দুরন্ত ব্রুনোরা:
তবে পাঁচ গোলের এই জয় শুরুতে এতটা সহজ ছিল না। বরং প্রথম ধাক্কাটা খায় ইউনাইটেডই। ২৯ মিনিটে লেইফ ডেভিসের গোলে এগিয়ে যায় ইপসউইচ। ঘরের মাঠে ইউনাইটেডের রক্ষণ তখনও যেন আগের ম্যাচের ছায়া বয়ে বেড়াচ্ছিল। কিন্তু পিছিয়ে পড়ার পরই বদলে গেল ছবিটা। বিরতির আগেই ব্রুনোর গোলে সমতা।
দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য ইপসউইচ আর সামলাতে পারেনি। আত্মঘাতী গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর ব্রুনো ফের জাল খুঁজে নেন। পেনাল্টি থেকে পূর্ণ করেন হ্যাটট্রিক। ব্রায়ান এমবুমোও গোলের খাতায় নাম লেখান। শেষদিকে চুবা আকপম একটি গোল শোধ করলেও তখন ম্যাচ অনেকটাই পকেটে ঢুকে গিয়েছে ইউনাইটেডের।
স্কোরলাইনই বলে দিচ্ছে আক্রমণে কতটা ধার ছিল ইউনাইটেডের। ম্যাচে তাদের প্রত্যাশিত গোলের হিসাবও ছিল ইপসউইচের তুলনায় অনেক বেশি—প্রায় ৪.৫৫ বনাম ২.০১। অর্থাৎ জয়টা শুধু সুযোগসন্ধানী ছিল না, ম্যাচের নিয়ন্ত্রণেও ইউনাইটেড এগিয়ে ছিল।
তবু ক্যারিকের সামনে প্রশ্ন থাকছে। পাঁচ গোল করার পরেও দুই গোল হজম। বিশেষ করে শুরুতে রক্ষণে যে ফাঁক দেখা গিয়েছে, সেটি বড় ম্যাচে বিপদ ডেকে আনতে পারে। অর্থাৎ ইউনাইটেডের আক্রমণ জেগেছে, কিন্তু রক্ষণ এখনও পুরোপুরি ঘুম কাটিয়ে উঠতে পারেনি।
চেলসি জিতল, কিন্তু সাত গোলের ম্যাচে অস্বস্তিও থাকল
স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে একই ছবি—গোলের উৎসব, সঙ্গে রক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন। ব্রাইটনকে ৪-৩ গোলে হারিয়ে জাবি আলোনসোর অধীনে টানা দ্বিতীয় লিগ জয় পেল চেলসি। কিন্তু ৩-০ এগিয়ে থেকেও ম্যাচকে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত টেনে নিয়ে যাওয়া নিশ্চয়ই স্প্যানিশ কোচকে পুরোপুরি খুশি করবে না।
রোমিও লাভিয়া, পেদ্রো নেতো এবং জোয়াও পেদ্রোর গোলে দ্রুত ৩-০ এগিয়ে যায় চেলসি। মনে হচ্ছিল ম্যাচের ভবিষ্যৎ তখনই লেখা হয়ে গিয়েছে। কিন্তু ব্রাইটন হাল ছাড়েনি। মালিক ইয়ালকুইয়ের গোল, জোয়াও পেদ্রোর আত্মঘাতী গোল এবং প্যাসকাল গ্রসের গোলে হঠাৎ ম্যাচে ফিরে আসে তারা।
শেষ পর্যন্ত কোল পালমারের গোলে ব্যবধান বাড়িয়ে চেলসিকে জয়ের দিকে ঠেলে দেন। গ্রসের শেষ মুহূর্তের গোল উত্তেজনা বাড়ালেও তিন পয়েন্ট আর হাতছাড়া করেনি ব্লুজ। নতুন কোচের অধীনে শুরুটা নিখুঁত—দুই ম্যাচে দুই জয়। তবে সাত গোলের ম্যাচে তিন গোল হজম করার জায়গাটা আলোনসোর নোটবুকের লাল দাগ হয়ে থাকবে।
বাকি ম্যাচে পয়েন্ট ভাগ, শেষ হাসি সান্ডারল্যান্ডের
দিনের অন্য দুই ম্যাচে একটিতে পয়েন্ট ভাগ হয়েছে, অন্যটিতে এসেছে নাটকীয় জয়। লিডস ইউনাইটেড ও ব্রেন্টফোর্ড ১-১ গোলে ড্র করেছে। ম্যাচের একটা বড় সময় ব্রেন্টফোর্ডই দাপট দেখালেও লিডস শেষ পর্যন্ত সমতা ফেরাতে সক্ষম হয়।
আর সান্ডারল্যান্ডের অপেক্ষা ছিল আরও দীর্ঘ। ফুলহ্যামের বিরুদ্ধে ম্যাচের ৭৫ মিনিট পর্যন্ত গোলশূন্য থাকার পর উইলসন ইসিডোরের গোলে ১-০ জয় তুলে নেয় তারা। নতুন কোচ আলভারো আরবেলোয়ার অধীনে এটাই সান্ডারল্যান্ডের প্রথম জয়।
আরও পড়ুন: Premier League: অ্যানফিল্ডে ফের হোঁচট লিভারপুলের, টটেনহ্যামকে উড়িয়ে জয়ের স্বাদ নিউক্যাসলের
আরও পড়ুন: Premier League: চেরকির জাদু, হালান্ডের জোড়া—প্যালেসের ঘরে গোলের বন্যা ম্যান সিটির
দ্বিতীয় সপ্তাহেই তাই ছবিটা বেশ পরিষ্কার—ইউনাইটেড ধাক্কা সামলে ফিরেছে, চেলসি আলোনসোর অধীনে ছন্দ খুঁজে পেয়েছে। কিন্তু দুই দলের ক্ষেত্রেই একই সতর্কবার্তা: গোল করার ক্ষমতা আছে, এখন গোল আটকানোর পরীক্ষায় পাশ করতে হবে।
