রুশ রকেট মিত্তালদের কারখানায়, মৃত দুই
কিয়েভ : ইউক্রেনে পুড়ে ছাই ভারতীয় ধনকুবের লক্ষ্মী মিত্তালের মালিকানাধীন ‘আর্সেলর মিত্তাল’ ইস্পাত কারখানা। রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মারা গেলেন ২ কর্মী। গুরুতর আহত কমপক্ষে ১৪ জন। সে দেশের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির নিজের শহর ক্রিভি রিহেতেই এই ঘটনা ঘটেছে। ‘আর্সেলর মিত্তাল’–এই দেশের সবচেয়ে বড় স্টিল কারখানা। হামলার পর বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ও ব্লাস্ট ফার্নেস বিপুলভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কারখানার উৎপাদন আংশিক বন্ধ রাখা হয়েছে।
শুধু ক্রিভি রিহ শহরেই নয়, ইউক্রেনের দক্ষিণ জাপোরিঝঝিয়াতেও মিসাইল হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এর আগে ইউক্রেন রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে ড্রোন হামলা চালিয়েছিল। আকাশপথের সেই হামলায় অন্তত ছ’জন মারা গিয়েছিলেন বলে খবর। মস্কো অঞ্চলের গভর্নর আন্দ্রেই ভোরোবিয়ভ এই হামলাকে ‘সাম্প্রতিক সময়ের স্মৃতিতে অন্যতম বৃহত্তম ড্রোন হামলা’ বলে উল্লেখ করেছিলেন।
তিনি জানিয়েছিলেন, মস্কো অঞ্চলের একটি বাড়িতে ইউক্রেনের ড্রোনের আঘাতে অশীতিপর এক ব্যক্তি মারা গিয়েছেন। এছাড়াও পোদলস্ক শহরে আরেকটি হামলায় ওয়াইল্ডবেরিজ গুদাম পুড়ে ছাই হয়ে যায়। ওয়াইল্ডবেরিজ রাশিয়ার বৃহত্তম অনলাইন খুচরো বিক্রেতা সংস্থা। যেটির মালিক সে দেশের মহিলা ধনকুবের তাতিয়ানা কিম। সেই ঘটনার পাল্টা হিসেবেই রিহ শহরে রাশিয়া এই হামলা চালালো বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিকে ক্রিভি রিহ শহর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের জন্মস্থান। স্বাভাবিকভাবেই সেই শহরে স্টিল কারখানায় রুশ আক্রমণের ঘটনাকে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। এদিকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রক দাবি করেছে, তারা ক্রিভি রিহের একটি ধাতু কারখানা এবং কিয়েভের কয়েকটি সামরিক–শিল্প কেন্দ্রকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভেও রুশ হামলায় একাধিক জায়গায় আগুন লেগে যায়। শহরের একটি বড় বইয়ের বাজার আগুনে বিপুলভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, গত এক সপ্তাহে দেশের বিভিন্ন শহরে ১,৫৫০টির বেশি ড্রোন, প্রায় ১,৫৬০টি গাইডেড বোমা এবং ৬২টি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে।
চলতি বছরে রাশিয়ার ভেতরে হামলা জোরদার করেছে ইউক্রেন। দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র এবং বিপুলসংখ্যক ড্রোন ব্যবহার করে রাশিয়ার সামরিক শিল্প ও জ্বালানি কেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে জেলেনস্কির দেশ।
