শ্রাবণের শেষ সোমবারে তারাপীঠের হোটেলে আগুনে ভস্মীভূত একই পরিবারের ৫ জন
নিজস্ব প্রতিবেদন : পুণ্যলাভের আশায় শ্রাবণের শেষ সোমবারে সপরিবারে তারাপীঠে এসেছিলেন তাঁরা। উদ্দেশ্য ছিল মা তারা এবং দেবাদিদেব মহাদেবকে দর্শন করে মনস্কামনা পূরণ। কিন্তু ভক্তি আর প্রার্থনার আড়ালেই যে ওত পেতে ছিল সাক্ষাৎ মৃত্যু, তা কে জানত! সোমবার তারাপীঠের এক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মর্মান্তিক পরিণতি হলো পুণ্যার্থীদের। আগুনে পুড়ে প্রাণ হারালেন সুদূর মেঘালয় থেকে আসা একই পরিবারের ৫ জন, যার মধ্যে রয়েছে ফুটফুটে দুই শিশুও। সব মিলিয়ে এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে এখনও পর্যন্ত ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে, মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও ৭ জন।
শ্রাবণ মাস মানেই পুণ্যার্থীদের কাছে এক পরম পবিত্র সময়। আর শ্রাবণের শেষ সোমবার তারাপীঠে দর্শনার্থীদের ভিড় থাকে চোখে পড়ার মতো। মেঘালয়ের ওই পরিবারটিও অনেক আশা নিয়ে এই বিশেষ দিনটিতেই পুজো দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল। কিন্তু রাতে যখন সকলে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন, তখনই ঘটে যায় এই প্রাণঘাতী বিপর্যয়। পুজো দিয়ে আর হাসিমুখে বাড়ি ফেরা হলো না তাঁদের। পুণ্যার্থীদের ভিড়ে মুখরিত তারাপীঠ নিমেষেই পরিণত হলো এক শোকস্তব্ধ মৃত্যুপুরীতে। মেঘালয়ের পরিবারটির ৫ জনের মৃত্যু যেন এই ট্র্যাজেডির সবচেয়ে হৃদয়বিদারক অধ্যায়।
কী দাবি করছে পুলিশ?
এত বড় বিপর্যয়ের পর স্বাভাবিকভাবেই আঙুল উঠছে হোটেলের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দিকে। অগ্নিকাণ্ডের এই ঘটনায় পুলিশের প্রাথমিক দাবি, মূলত শর্ট সার্কিট থেকেই এই ভয়াবহ আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। আগুন লাগার পর তা দ্রুত হোটেলের বিভিন্ন তলায় ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ ও দমকল বাহিনীর আধিকারিকরা জানিয়েছেন, ওই হোটেলটিতে পর্যাপ্ত ও আধুনিক অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল না। সংকীর্ণ সিঁড়ি এবং ধোঁয়া বেরোনোর সঠিক জায়গা না থাকায়, ঘুমের ঘোরে ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়েই অধিকাংশ মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
পুলিশ ইতিমধ্যেই ওই হোটেলের মালিক ও কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত গাফিলতির অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছে। হোটেলটির ফায়ার লাইসেন্স বা অগ্নিনির্বাপণের ছাড়পত্র আদৌ ছিল কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে প্রশাসনের তরফে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
হাসপাতালে চলছে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই
দমকলের বেশ কয়েকটি ইঞ্জিনের তৎপরতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও, ততক্ষণে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটে গিয়েছে। উদ্ধার হওয়া ৭ জনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক।
পুণ্যের খোঁজে এসে এমন মর্মান্তিক পরিণতি কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না স্থানীয় মানুষ থেকে শুরু করে অন্য পুণ্যার্থীরাও। শ্রাবণের শেষ সোমবারে তারাপীঠের আকাশে এখন কেবলই স্বজন হারানোর আর্তনাদ আর পোড়া গন্ধ।
