ট্রেন দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা ৬৮ পার, বিক্ষোভ, ধর্মঘট দেশজুড়ে

মাদ্রিদ: স্পেনে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা ৬৮ ছাড়ালো। দুই দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্কও চরমে উঠেছে। পরিবহণমন্ত্রী অস্কার পুয়েন্তের পদত্যাগের দাবি তুলে পরিবহণ মন্ত্রকের সামনে বিক্ষোভে সামিল হয়েছেন অতি-দক্ষিণপন্থী সংগঠনগুলির সমর্থকরা। সেখানে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। এর মধ্যেই ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে স্প্যানিশ রেল চালক ইউনিয়ন। দুর্ঘটনার পর জনগণের কাছে রক্তদানের আবেদন জানিয়েছে স্থানীয় ব্লাড ব্যাংকগুলি। আহতদের মধ্যে অনেকেরই তীব্র রক্তক্ষরণ হচ্ছে। এদের চিকিৎসার জন্য স্থানীয় হাসপাতালগুলো ঝুঁকিপূর্ণ নয় এমন অপারেশন সিডিউল স্থগিত করে দিয়েছে।
বুধবার টলেডো প্রদেশে একই দিকে আসা দু’টি ট্রেনের মধ্যে মাদ্রিদ ও আন্দালুসিয়ার মধ্যবর্তী স্থানে সংঘর্ষ হয়। এসময় লস ইবেনেস এবং উর্দা শহরের মধ্যবর্তী বাঁধের ওপর থেকে দু’টি বগি লাইনচ্যুত হয়ে নিচে পড়ে যায়। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন এই ট্রেন দু’টিতে অন্তত ৫৪৪ যাত্রী ছিলেন। এর ফলে বৃহস্পতিবারও জোর কদমে চলছে উদ্ধারকাজ। সিগন্যাল লাল থাকা সত্ত্বেও কী ভাবে ট্রেনগুলিকে স্বাভাবিক গতিতে চলার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল উঠছে সেই প্রশ্ন।বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। এদিকে দুর্ঘটনার পর কয়েকশো মানুষ যোগ দেন বিক্ষোভে। তাঁদের একাংশ পুলিশের দিকে বোতল ও জ্বলন্ত ফ্লেয়ার ছুড়তে শুরু করেন বলে অভিযোগ। পাল্টা পদক্ষেপ করে পুলিশ। অবস্থা হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে দেখে কাঁদানে গ্যাস ও লাঠিচার্জ করে পুলিশ। স্পেনের শ্রমিক সংগঠন CSIF -এর পক্ষ থেকে লাগাতার আন্দোলনের কথা জানানো হয়েছে। তাদের অভিযোগ, রেল দুর্ঘটনার দায় এড়াতে মন্ত্রী অন্যদের ঘাড়ে দায় ঠেলার চেষ্টা করছেন। মাদ্রিদের রাস্তায় কাতারে কাতারে মানুষ ক্ষোভে সামিল হয়েছেন।
এদিকে প্রথমে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল একাধিক অতি-দক্ষিণপন্থী সংগঠন। তাদের মধ্যে ছিল ফালাঞ্জে ও রেভুয়েল্তা। ভক্স দলের সঙ্গে যুক্ত শ্রমিক সংগঠন সলিদারিদাদও প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যোগ দেয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভের কিছু ভিডিয়োয় কয়েকজনকে নাৎসি স্যালুট করতে দেখা গিয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের দাবি। জমায়েতে স্পেনের জাতীয় পতাকার পাশাপাশি ফ্রাঙ্কো-যুগের পতাকাও দেখা যায়। জানানো হয়েছে, ২০১৩ সালের পর ইউরোপের ইতিহাসে এটিই ভয়াবহতম বুলেট ট্রেন দুর্ঘটনা, যার মূলে রেলওয়ে সিস্টেমে চূড়ান্ত অব্যবস্থাপনা।
অস্বীকারের উপায় নেই যে, এই দুর্ঘটনা স্পেনের জন্য একটি বড়সড় রাজনৈতিক ইস্যুও। প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো স্যাঞ্চেজ দুর্ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন। মৃতদের স্মরণে তিন দিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করেছে সরকার। সব সরকারি কর্মসূচি স্থগিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী। এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচনী প্রচারও সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছে বিরোধীদলগুলো। প্রাণঘাতী এই দুর্ঘটনায় গভীর শোক ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে স্পেনের রাজপরিবার। শোক ও সহমর্মিতা জানিয়েছেন ইউরোপীয় নেতারা।
