তৃণমূল নেতার বাড়িতে অস্ত্র নিয়ে দুষ্কৃতী তাণ্ডব, উত্তপ্ত জলপাইগুড়ি
সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি: শুক্রবার মাঝরাতে একদল সশস্ত্র দুষ্কৃতী তৃণমূল কংগ্রেসের হেভিওয়েট নেতা তথা প্রাক্তন কাউন্সিলর তপন ব্যানার্জির বাড়িতে চড়াও হয়ে হামলা চালায় এবং তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয় বলে অভিযোগ এসেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরসভার অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার অলিন্দে এবং গোটা জলপাইগুড়ির রাজনৈতিক মহলে চরম উত্তেজনা ছড়িয়েছে। অভিযোগ উঠেছে গভীর রাতে জলপাইগুড়ি পুরসভার চেয়ারম্যান পদের অন্যতম দাবিদার হিসেবে পরিচিত তৃণমূল কংগ্রেস কাউন্সিলর তপন ব্যানার্জির বাসভবন লক্ষ্য করে হামলা চালায় দুষ্কৃতীরা।
ধারালো অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে গিয়ে তাণ্ডব চালানো হয় এবং হুমকি দেওয়া হয় বলে দাবি। ঘটনার আকস্মিকতায় আতঙ্কিত হয়ে পড়ে পরিবার সহ আশেপাশের বাসিন্দারা। তবে হামলা কেবল একজন কাউন্সিলরের বাড়িতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। স্বয়ং তপন ব্যানার্জি অভিযোগ করে জানান, এক বিশেষ ছক কষে একই কায়দায় তাঁর পাশাপাশি দলীয় কাউন্সিলর তারক দাস, উত্তম বোস সহ আরও বেশ কয়েকজন তৃণমূল কাউন্সিলরের বাড়িতেও গতরাতে সশস্ত্র দুষ্কৃতী দল চড়াও হয়। ভয় দেখানোর রাজনীতি করেই এই হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন আক্রান্ত নেতারা। এই হামলার নেপথ্যে সরাসরি দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এবং পদ দখলের লড়াই রয়েছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তপন ব্যানার্জি। তাঁর চাঞ্চল্যকর অভিযোগ, সম্প্রতি তৃণমূল কংগ্রেস থেকে সরিয়ে দেওয়া বা অপসারিত হওয়া কয়েকজন প্রাক্তন কাউন্সিলর এবং তাঁদের ঘনিষ্ঠ গোষ্ঠীর মদতেই এই হামলা সংঘটিত করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: বাগডোগরায় ‘সেবা মেরা যোগদান’ কর্মসূচিতে মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ
মূলত জলপাইগুড়ি পুরসভার আগামী দিনের রাশ কার হাতে থাকবে এবং চেয়ারম্যান পদে কে বসবেন, তা নিয়েই এই হামালা চালানো হয়। অন্যদিকে, এই ঘটনায় যাঁদের দিকে পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষভাবে অভিযোগের আঙুল তোলা হয়েছে অর্থাৎ তৃণমূলের অন্দরের ‘ঋতব্রত পন্থী’ বলে পরিচিত শিবির তাঁদের তরফ থেকে এখনো পর্যন্ত কোনো প্রতিক্রিয়া বা বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযুক্ত শিবিরের নীরবতা নিয়েও নানা রাজনৈতিক জল্পনা ঘনীভূত হচ্ছে। এই খবর পেয়ে জলপাইগুড়ি কোতোয়ালি থানার পুলিশ এলাকায় যায় এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে চেষ্টা করে। মাঝরাতে একাধিক কাউন্সিলরের বাসভবনে গিয়ে কারা অস্ত্র হাতে তাণ্ডব চালাল, শহরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে ঠেকেছে এবং তপন ব্যানার্জির আনা অভিযোগের সত্যতা কতখানি—তা খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে দুষ্কৃতীদের চিহ্নিত করার চেষ্টা করছে পুলিশ।
