হাইকোর্টের নির্দেশ: ১৯৬৪ সালের বাড়ির একাংশ ভাঙল পুরনিগম
সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: শিলিগুড়ির দেশবন্ধু পাড়ায় শরিকি বিবাদ ও আইনি জটিলতার জেরে ১৯৬৪ সালে নির্মিত একটি বাড়ির একাংশ ভেঙে ফেলল শিলিগুড়ি পুরনিগম। শনিবার কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ এবং পুরনিগমের নির্দিষ্ট নোটিশের ভিত্তিতে ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের এই এলাকায় বাড়ি ভাঙার কাজ চালানো হয়। দীর্ঘদিনের এই পারিবারিক ও আইনি টানাপোড়েনের জেরে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও চাঞ্চল্য ছড়ায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দেশবন্ধু পাড়ার ওই বাড়িটির একটি অংশ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই পরিবারের শরিকদের মধ্যে বিবাদ চলছিল। বাড়ির বর্তমান মালিকের দাবি, বহু বছর আগে যখন শরিকদের মধ্যে জমি ভাগাভাগি হয়েছিল, তখন জমির পরিমাণ ও মাপজোখ সংক্রান্ত কিছু ভুলত্রুটি বা গাফিলতি থেকে গিয়েছিল। পরবর্তীতে সেই ভুলের জেরেই পারিবারিক অসন্তোষ তৈরি হয় এবং বিষয়টি আইনি জটিলতার রূপ নেয়। শরিকদের একাংশের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা গড়ায় আদালত পর্যন্ত। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর কলকাতা হাইকোর্ট বাড়িটির নির্দিষ্ট অংশ ভেঙে ফেলার পক্ষে রায় দেয়। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, মালিক পক্ষকে ওই অবৈধ বা বিতর্কিত অংশটি নিজের দায়িত্বে খালি করার জন্য এক মাসের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। আদালতের বেঁধে দেওয়া নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে বাড়ির সংশ্লিষ্ট অংশ খালি না করায়, শনিবার শিলিগুড়ি পুরনিগমের আধিকারিক ও কর্মীরা পুলিশ প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। এরপর আদালতের নির্দেশ ও পুরনিগমের নোটিশ মেনেই বুলডোজার ও প্রয়োজনীয় কর্মী দিয়ে বাড়িটির চিহ্নিত অংশ ভেঙে ফেলা হয়। বাড়ির মালিক জানান, আদালতের নির্দেশকে তিনি সম্মান করেন। তবে তাঁর আক্ষেপ, পুরনিগম বা আদালত যদি তাঁকে আরও কিছুটা সময় দিত, তবে তিনি নিজে থেকেই ওই অংশটি ভেঙে সরিয়ে নিতে পারতেন। এত বছরের পুরনো বাড়ি চোখের সামনে ভেঙে পড়তে দেখে তাঁর পরিবার মর্মাহত। একটি পুরনো বাড়িতে এ ধরনের ভাঙার কাজ দেখতে বাসিন্দারা ভিড় জমান। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আদালতের নির্দেশ এবং আইন মেনেই এই উচ্ছেদ ও ভাঙার কাজ শেষ করা হয়েছে।
