নতুন বিধায়কদের শপথগ্রহণে মমতাকে পরামর্শ শুভেন্দুর— বয়স হয়েছে, এখন বিশ্রাম নেওয়া উচিত
সংবাদদাতা, কলকাতা: বুধবার বিধানসভায় নন্দীগ্রামের জয়ী প্রার্থী হাসিরানি রথ এবং রেজিনগরের শাখারভ সরকার বিধায়ক হিসেবে শপথ নেন। এই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিরোধী শিবিরকে তীব্র আক্রমণ করেন।
নিজের প্রাক্তন সহযোগী চন্দ্রনাথ রথের হত্যার প্রসঙ্গ টেনে তিনি হুঙ্কার দিয়ে বলেন, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ২ কোটি টাকার সুপারি ক্যামাক স্ট্রিট, কালীঘাট নাকি ডায়মন্ড হারবার থেকে দেওয়া হয়েছিল, পুলিশি তদন্তে সেটাই এখন স্পষ্ট হওয়ার অপেক্ষা। পাশাপাশি, কেন তিনি ভবানীপুর রেখে নন্দীগ্রাম আসনটি ছেড়েছিলেন, তা মনে করিয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, ওঁর এখন বয়স হয়েছে এবং বিশ্রাম নেওয়া উচিত।
বিজেপিকে তথাকথিত ‘সাম্প্রদায়িক’ দল হিসেবে দাগিয়ে দেওয়ার তত্ত্বকে উড়িয়ে দিয়ে শুভেন্দু দাবি করেন, বিজেপিকে ‘সাম্প্রদায়িক দল’ বলে দাগিয়ে দেওয়ার যে অপচেষ্টা চলে আসছিল, রেজিনগরের উপনির্বাচনের ফলাফল তা পুরোপুরি চুরমার করে দিয়েছে। রেজিনগরের ভোট সমীকরণের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরে শুভেন্দু বলেন, রেজিনগর বিধানসভার প্রায় ৩০০টি বুথের মধ্যে মাত্র ১০০টি বুথ ছিল সনাতনী বা হিন্দু অধ্যুষিত। বাকি বিপুল সংখ্যক সংখ্যালঘু অধ্যুষিত বুথ থেকেও আমাদের প্রার্থী শাখারভ সরকার ৭৫ হাজারের বেশি ভোটের বিশাল লিড পেয়েছেন। সেখানকার সংখ্যালঘু মুসলিম বোনেরা, যাঁরা অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের সুবিধা পান, তাঁরাও বিজেপির ওপর ভরসা রেখেছেন। শুভেন্দু স্পষ্ট করেন, আমরা সনাতনী, আমরা হিন্দু, আমরা সানন্দে কপালে টিকা লাগাই, কিন্তু সরকার ও প্রশাসন চালানোর ক্ষেত্রে আমরা কোনও বৈষম্য না করে সমস্ত নাগরিকের উন্নয়নকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিই।
পাশাপাশি এদিন বিধানসভায় অধিবেশন শুরুর আগেই কক্ষের ভিতরেই মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কোলাকুলি করে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন বিধায়করা।
