বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫
ব্রেকিং নিউজ
টাইগার শ্রফের উপর হামলায় ধৃত আরও ৪ আজ বিজয়া দশমী, ঘাটে ঘাটে চলছে প্রতিমা নিরঞ্জন ভারতের সঙ্গে চুক্তি অন্যরকম, জানালেন ট্রাম্প দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে দশেরা

বেতন ও পুজোর বোনাসের দাবি, জলপাইগুড়ি পুরসভায় অস্থায়ী কর্মীদের বিক্ষোভ

19 September, 2026 5:16 PM UTSAB RC
শেয়ার করুন

সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি:  নির্দিষ্ট সময়ে বকেয়া বেতন মিটিয়ে দেওয়া এবং আসন্ন দুর্গাপুজোর আগে বোনাসের দাবিতে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠল জলপাইগুড়ি পুরসভা চত্বর। দীর্ঘদিনের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়ে শনিবার সকালে পুরসভার মূল ফটক বন্ধ করে তীব্র বিক্ষোভ প্রায় ৩৬০ জন অস্থায়ী কর্মীর। হাতে ঝাড়ু, কোদাল, বালতি সহ দৈনন্দিন কাজের নানা সরঞ্জাম নিয়ে পুরসভার প্রধান ফটকের সামনে বসে পড়েন আন্দোলনকারীরা। কর্মীদের এই আন্দোলনের জেরে সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়ে পুরসভার স্বাভাবিক কাজকর্ম, ভোগান্তির শিকার হতে হয় দূর-দূরান্ত থেকে আসা সাধারণ মানুষকে।

আন্দোলনকারী কর্মীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে জলপাইগুড়ি পুরসভায় বকেয়া বেতন পাওয়াটা একপ্রকার নিত্যদিনের সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোনো মাসেই নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে বেতন হস্তান্তর করা হয় না। প্রতি মাসেই বেতন মেটানোর ক্ষেত্রে পুর কর্তৃপক্ষের তরফে অহেতুক টালবাহানা করা হয় বলে তাদের দাবি। আন্দোলনকারীদের কথায়, পরিবার চালানোর জন্য আমরা দিনরাত শহর পরিষ্কার রাখা সহ নানা জরুরি পরিষেবা প্রদান করি। অথচ মাসের শেষে আমাদের নিজেদের পাওনা বেতনটুকু পেতে কালঘাম ছুটাতে হয়। চলতি মাসেও বেতনের কোনো দেখা নেই। কর্মীদের ক্ষোভ আরও বাড়িয়েছে বকেয়া দাবির প্রতি প্রশাসনের উদাসীন মনোভাব।

আরও পড়ুন: পশ্চিম বর্ধমানে পুলিশের মেগা সাইবার অভিযান

এর আগেও একাধিকবার একই দাবিতে পুরসভার গেটে তালা ঝুলিয়ে বা কাজ বন্ধ রেখে আন্দোলনে নেমেছিলেন অস্থায়ী কর্মীরা। সে সময় পুর কর্তৃপক্ষের তরফে বারংবার বকেয়া মিটিয়ে দেওয়া ও ব্যবস্থা গ্রহণের মৌখিক আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে কোনো স্থায়ী সমাধান সূত্র বের হয়নি। বারবার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের ফলেই বাধ্য হয়ে তারা পুনরায় এই আন্দোলনের পথ বেছে নিয়েছেন। শনিবার সকাল থেকেই গেট অবরুদ্ধ থাকার কারণে পুরসভার ভেতরে প্রশাসনিক কর্মকর্তা বা অন্য স্থায়ী কর্মীরা যেমন ঢুকতে পারেননি, তেমনই জরুরি পরিষেবা সংক্রান্ত কাজের আবেদন নিয়ে আসা নাগরিকরাও চরম ভোগান্তিতে পড়েন। ট্রেড লাইসেন্স, জন্ম-মৃত্যুর শংসাপত্র প্রদান, মিউটেশন কিংবা কর জমা দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবাগুলি সারাদিন বন্ধ থাকে। বিক্ষোভরত এক কর্মী স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, আমাদের পেটে টান পড়লে শহর সচল থাকবে কী করে? যদি দ্রুত আমাদের বকেয়া বেতন মেটানো না হয় এবং বোনাসের লিখিত আশ্বাস না মেলে, তবে আগামী দিনে কেবল পুরভবনের গেট বন্ধ করাই নয়, পরিচ্ছন্নতা পরিষেবা সম্পূর্ণ স্তব্ধ করে বৃহত্তর ধর্মঘটের পথে হাঁটা হবে। সভার এই অচলাবস্থা এবং কর্মীদের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ নিয়ে চরম অসন্তোষ ছড়িয়েছে শহরজুড়ে। সাধারণ নাগরিকরা দ্রুত পুরসভা কর্তৃপক্ষ ও রাজ্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন, যাতে এই সমস্যার একটি স্থায়ী সমাধান মেলে এবং উৎসবের মরসুমে শহরের পরিচ্ছন্নতা ও সাধারণ পরিষেবা ব্যাহত না হয়।

ট্যাগ: Jalpaiguri News
প্রতিবেদন

UTSAB RC