মমতা গেলেও নিজস্ব ভোটব্যাঙ্কের হিসেব কষে কংগ্রেসের সঙ্গে দূরত্ব বাড়াচ্ছে একাধিক দল
সংবাদদাতা, নয়াদিল্লি: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের একটি প্রতিবেদন। আর তাতেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের সম্ভাবনাকে কেন্দ্র করে পালে হাওয়া পেয়েছে বিরোধীরা। এই আবহে বুধবার নয়াদিল্লিতে তড়িঘড়ি বৈঠকে বসছেন বিরোধী জোট ইন্ডিয়া ব্লকের নেতারা। কংগ্রেসের ডাকে এই বৈঠকে যোগ দিচ্ছেন দেশের প্রধান বিরোধী দলগুলি। মঙ্গলবারই নয়াদিল্লি পৌঁছে গিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে যতটা প্রত্যাশা করা হচ্ছে, ততটা ঐক্যবদ্ধ কী হতে পারবে ইন্ডিয়া জোট? ক্রমশ বাড়ছে সম্ভাব্য অনুপস্থিতির তালিকা। সূত্রের খবর, দেশের একাধিক দলই আসন্ন নির্বাচনী রণকৌশলে কংগ্রেসের এই বৈঠক এড়িয়েই যেতে চাইছে।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের একটি প্রতিবেদনেই দাবি করা হচ্ছে, ইন্ডিয়া জোটের বৈঠক এড়িয়ে যাবেন সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব। সামনেই উত্তরপ্রদেশের নির্বাচন। আগাম কিছু কাজ থাকায় এই বৈঠকে থাকতে পারবেন না তিনি। কংগ্রেস নেতৃত্বকে সেই কথা নিজেই জানিয়েছেন অখিলেশ। উত্তরপ্রদেশে কংগ্রেস ও সমাজবাদী পার্টির আসন সমঝোতা নিয়ে মতপার্থক্য হয়েছে। তারপর ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে অখিলেশ যাদবের অনুপস্থিতি অন্য সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, কংগ্রেস উত্তরপ্রদেশে আসন সমঝোতা দ্রুত করার জন্য সমাজবাদী পার্টিকে চাপ দিচ্ছে। যদি তাঁদের মধ্যে কোনও সমঝোতা না হয়, উত্তরপ্রদেশে দুই দল আলাদাভাবেই লড়াই করবে।
বাংলা থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই নয়াদিল্লি পৌঁছে গিয়েছেন। নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে কংগ্রেসকে সমর্থনও করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বর্তমানে রাজ্যে তাঁদের সংগঠনের শোচনীয় অবস্থা। বিক্ষুব্ধ বিধায়ক, সাংসদরাও দল ছেড়েছেন। এরকম পরিস্থিতিতে ধীরে ধীরে নিজেদের মাটি শক্ত করতে চাইছে তৃণমূল কংগ্রেস। এই রাজ্যে বিজেপিকে টেক্কা দিতে এখনও যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই আসল মুখ, তা জানে তামাম দেশ। নিজেদের স্বার্থেই কংগ্রেস ও মমতা হাতে হাত ধরতে তৈরি। তবে দেশজুড়ে ২০২৪ সালে ইন্ডিয়া জোটের শক্তি ২০২৬ সালেই অনেক ক্ষয়প্রাপ্ত হয়েছে।

ফাইল ছবি
বিজেপি এই রাজ্যে ক্ষমতায় এসে কংগ্রেসের ‘বাংলা কাঁটা’ সরলেও দেশজুড়ে তাঁদেরও অন্দরের বিরোধিতা সময় ও পরিস্থিতি অনুযায়ী বাড়ছে। পাঞ্জাব নির্বাচনকে মাথায় রেখে কংগ্রেসের সঙ্গে দূরত্ব বাড়িয়ে রেখেছে আম আদমি পার্টি। তাই এই বৈঠকে যোগ দেবে না কেজরিওয়ালরাও। বৈঠকে আসার কোনও সিদ্ধান্ত জানায়নি আরেক শরিক বিজেডি। দক্ষিণের দলগুলির মধ্যে অন্যতম শরিক ডিএমকে সরাসরি এই ইন্ডিয়া জোট প্রত্যাখ্যান করেছে। তামিলনাড়ুতে দীর্ঘদিনের জোটসঙ্গী ডিএমকে-কে ছেড়ে বিজয় থালাপতির দল টিভিকে-র সমর্থন করেছে কংগ্রেস। মে মাসে নির্বাচনী ফলাফল আসার পরই কংগ্রেস-ডিএমকের মধ্যে একটা অদৃশ্য প্রাচীর তৈরি হয়ে গিয়েছে। ডিএমকে মুখপাত্র টি কে এস এলানগোভান জানিয়ে দিয়েছেন, “কংগ্রেস দু-নৌকায় পা দিয়ে চলেছে। ওরা বলে দিয়েছে টিভিকে-কে সমর্থন করবে। ওরা আমাদের জোটসঙ্গী নয়। তাহলে আমরা কেন ওদের সমর্থন করব? ওরা যে বৈঠক ডেকেছে, সেখানে কেন যাব?”
মজার ব্যাপার হচ্ছে, এই ইন্ডিয়া ব্লকে এবার প্রথম উপস্থিত হওয়ার কথা ছিল বিজয়ের দল টিভিকের। কিন্তু তাঁরাও এই বৈঠকে যোগ দেবে কিনা, তা এখনও স্পষ্ট নয়। বৈঠকে আসা অনিশ্চিত আগেই জানিয়েছিল ন্যাশনাল কনফারেন্সের ওমর আবদুল্লা। নিজের বিধানসভায় রাজ্যের রেজেলিউশন দেওয়া নিয়ে চাপ ক্রমশ বাড়ছে। এই পরিস্থিতি তাঁর দল এই বৈঠকে যোগ না দিতেও পারে। এদিকে কংগ্রেসের অন্যতম শরিক ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার পক্ষ থেকেও আগে জানানো হয়েছিল, এই বৈঠকে তাঁরা আসতে পারবেন না। বামেদের পক্ষ থেকে কংগ্রেসের এই বৈঠকে যোগ দেবেন রাজ্যসভার নেতা জন ব্রিটাস। মঙ্গলবারই নয়াদিল্লিতে আন্দোলন চলাকালীন গ্রেপ্তার করা হয়েছে এম এ বেবিকে। এদিকে ৪ অক্টোবর মহারাষ্ট্রে জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে পথে নামতে চলেছেন শিবসেনা (UBT)-এর প্রধান উদ্ধব ঠাকরে। তিনি ভার্চুয়ালি এই বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন।
ককরোচ জনতা পার্টির যন্তর মন্তরে আন্দোলনে বিজেপি সরকারের নমনীয় মনোভাব এবং সম্প্রতি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে জ্ঞানেশ কুমারকে নিয়ে অস্বস্তি। পরপর ঘটনাপ্রবাহে বিরোধিতার জন্য যতটা মজবুত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তা বাস্তবে এসে যেন ফানুসের মতো চুপসে পড়ছে। বিরোধী দলগুলি বিজেপিকে অপসারণের থেকেও নিজেদের ভোট ব্যাঙ্ক নিয়ে হিসেবে ব্যস্ত। তার মধ্যেই বৈঠকের আগের দিন ঝাঁঝ বাড়াতে কংগ্রেস নেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে আক্রমণ করলেন। তাঁর দাবি, “দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার মোদি সরকারের হাতের পুতুল হয়ে উঠেছেন। তাঁর সহকর্মীরাই তাঁকে বিশ্বাস করে উঠতে পারছেন না।”
