জমিজট কাটানোর আর্জি জানাতে শুভেন্দুর দরবারে পূর্ণদাস বাউল
সংবাদদাতা: দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা জমি–ঝঞ্ঝাটে ইতি টানার আবেদন নিয়ে এবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করলেন পদ্মশ্রী সম্মানপ্রাপ্ত আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন শিল্পী পূর্ণচন্দ্র দাস বাউল। সল্টলেকে জনতার দরবারে উপস্থিত হন ৯৩ বছর বয়সি এই শিল্পী। সঙ্গে ছিলেন পুত্র দিব্যেন্দু দাস ও পুত্রবধূ অদিতি দাস। তাঁদের অভিযোগ, সিপিএম রাজ্যে ক্ষমতায় থাকাকালীন তাঁদের জমি দখল হয়। তৃণমূল জমানায় সমস্যাটি নিয়ে একাধিকবার অভিযোগ জানিয়েও কোনও সুরাহা হয়নি। কারণ তাঁরা তৃণমূলের কথা মতো কাজ করতে পারতেন না। এবার সমস্যা মিটবে বলেই আশাবাদী দাস পরিবার।
পূর্ণদাস বাউলের ছেলে জানান, রামপুরহাটে তাঁদের পৈতৃক ভিটেতে একটি আশ্রম ছিল। কিন্তু কোপাই অশান্তির পর ২০০৮ সালে আশ্রমের জমি বদল করে সিল করে দেওয়া হয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসার পর বহুবার এই সমস্যা নিয়ে তাঁর বাড়িতে ও নবান্নে চিঠি পাঠিয়েছে দাস পরিবার। কিন্তু লাভ কিছুই হয়নি। উল্টে ইলামবাজারে তাঁদের ৪ বিঘা চাষের জমি দখল করে চন্দ্রনাথ সিনহা ও অনুব্রত মণ্ডলরা রাতারাতি সেখানে নির্মাণ করে ফেলেন বলেও দাবি দিব্যেন্দুর। বলেছেন, থানা–আদালত দৌড়েও ফল হয়নি। এছাড়াও দাস পরিবারের আরেকটি অভিযোগ হল, কলকাতার ঢাকুরিয়ায় তাঁদের পৈতৃক বাড়ি ভাঙচুর ও উচ্ছেদের। অভিযোগ, বীরভূমে জমি দখলের ঘটনার পর তাঁরা কলকাতায় চলে আসেন। কিন্তু ঢাকুরিয়ায় তাঁদের থাকার জায়গা বা পৈতৃক বাড়িটি অমানবিক ও বেআইনিভাবে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। তাই পালাবদলের পর থেকেই আশার আলো দেখছেন পূর্ণচন্দ্র দাস বাউল ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। বাউল সম্রাট জানান, ‘আশা করছি এবার সমাধান পাবো।’ দিব্যেন্দু দাস বাউল জানিয়েছেন, জমি ফিরে পেলে শিল্পীর জীবনকালে অর্জিত পুরস্কার–সম্মান রাখার গ্যালারি তৈরি হবে।
