বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫
ব্রেকিং নিউজ
টাইগার শ্রফের উপর হামলায় ধৃত আরও ৪ আজ বিজয়া দশমী, ঘাটে ঘাটে চলছে প্রতিমা নিরঞ্জন ভারতের সঙ্গে চুক্তি অন্যরকম, জানালেন ট্রাম্প দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে দশেরা

আসানসোলে এসবিআই-এর সামনে বিক্ষোভ, টানা ধর্মঘটের হুঁশিয়ারি

11 September, 2026 5:53 PM Lopa Bhowmik
শেয়ার করুন

 

সংবাদদাতা,আসানসোল: সপ্তাহে পাঁচ দিন কাজের দাবি এবং দীর্ঘদিনের বকেয়া সুযোগ-সুবিধা পুনর্বহালের দাবিতে সরব হলেন ব্যাঙ্ক কর্মীরা। একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দাবিকে সামনে রেখে শুক্রবার দেশব্যাপী এক দিনের ব্যাংক ধর্মঘটের ডাক দেয় ব্যাঙ্ক কর্মীদের যৌথ মঞ্চ। এই ধর্মঘটের সার্বিক প্রভাব পড়ে পশ্চিমবঙ্গসহ সারা দেশের ব্যাঙ্কিং পরিষেবায়। অন্যান্য জেলার পাশাপাশি পশ্চিম বর্ধমানের শিল্পাঞ্চল আসানসোলেও প্রতিবাদ ও আন্দোলনের তীব্র ছবি ফুটে ওঠে। শুক্রবার সকালে আসানসোলের গুরুত্বপূর্ণ বিএনআর মোড় সংলগ্ন স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া-এর প্রধান শাখার সামনে জমায়েত হন বিপুল সংখ্যক ব্যাঙ্ক কর্মী ও অধিকার রক্ষা কমিটির সদস্যরা। সেখানে ব্যানার ও ফেস্টুন হাতে নিয়ে বিক্ষোভ দেখান আন্দোলনকারীরা। ব্যাংক কর্তৃপক্ষের নীতি এবং কেন্দ্র সরকারের উদাসীনতার বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে দীর্ঘক্ষণ ধরে চলে স্লোগান-বিক্ষোভ। আন্দোলনের ফলে কাজের দিনের শুরুতেই ব্যাংকে আসা সাধারণ গ্রাহকদের চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়। টাকা তোলা, জমা দেওয়া কিংবা চেকের ক্লিয়ারেন্স সংক্রান্ত একাধিক কাজ পুরোপুরি ব্যাহত হয় । আন্দোলনকারী কর্মীদের প্রধান দাবিগুলির মধ্যে অন্যতম হলো ব্যাঙ্ক পরিষেবাতে সপ্তাহে ৫ দিন কাজ এর নিয়ম চালু করা। বর্তমানে মাসের দ্বিতীয় ও চতুর্থ শনিবার ব্যাঙ্ক বন্ধ থাকে। কিন্তু আইটি খাতসহ একাধিক কর্পোরেট সেক্টরের মতো ব্যাঙ্কও সোম থেকে শুক্রবার পর্যন্ত কাজের দিন নির্দিষ্ট করার দাবি দীর্ঘদিনের। কর্মীদের অভিযোগ, কাজের অতিরিক্ত চাপ এবং পর্যাপ্ত কর্মী নিয়োগ না হওয়ার কারণে শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন কর্মীরা। এর পাশাপাশি কর্মীদের আরও অভিযোগ, বেশ কিছু বছর ধরে তাঁদের প্রাপ্য সুবিধা ও ভাতা থেকে ক্রমাগত বঞ্চিত করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে নতুন কর্মীপদ পূরণ না হওয়ায় বিদ্যমান কর্মীদের ওপর বাড়তি কাজের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। পেনশনের আধুনিকীকরণ, স্বাস্থ্যবিমার সরলীকরণ এবং শূন্যপদে দ্রুত স্থায়ী নিয়োগের দাবিও এই আন্দোলনের অন্যতম অংশ ছিল। বিক্ষোভ সভায় উপস্থিত এক আন্দোলনকারী নেতৃত্ব জানান, “আমরা দিনের পর দিন অতিরিক্ত পরিষেবা দিয়ে যাচ্ছি, কিন্তু আমাদের ন্যায্য দাবিগুলো সম্পূর্ণ উপেক্ষা করা হচ্ছে। বারবার আলোচনার টেবিলে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। সেই কারণেই বাধ্য হয়ে আমাদের এই ধর্মঘটের পথ বেছে নিতে হয়েছে। এর ফলে মাসের শেষ সপ্তাহে টানা কয়েকদিন পরিষেবা স্তব্ধ থাকার চরম আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
টানা ৩ দিনের ধর্মঘট বাস্তবায়িত হলে কেবল সাধারণ মানুষই নন, ছোট-বড় ব্যবসায়ী এবং শিল্পাঞ্চলের আর্থিক লেনদেনেও এর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। এটিএমগুলোতে নগদ টাকার আকাল দেখা দেওয়ার সম্ভাবনাও প্রবল।

প্রতিবেদন

Lopa Bhowmik