বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫
ব্রেকিং নিউজ
চোরবাগান কাণ্ডে তদন্তে সিট, আটক ঘোষক দিল্লি হাই কোর্টের দ্বারস্থ নেহা বোরা পরবর্তী রণকৌশল ঠিক করতে বৈঠকে ইন্ডি জোট দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে দশেরা

শুধু বিয়ের জন্য ধর্ম বদল নয়, পর্যবেক্ষণ বম্বে হাইকোর্টের

22 October, 2026 6:23 PM Lopa Bhowmik
শেয়ার করুন

সংবাদদাতা, মুম্বই: নিজের ইচ্ছেয় ধর্ম পরিবর্তনের অধিকার সকলের রয়েছে, তবে শুধু বিয়ের জন্য ধর্মান্তর মেনে নেওয়া যায় না। মহারাষ্ট্রের নতুন ধর্মান্তর-বিরোধী আইনের সাংবিধানিক বৈধতা মামলার শুনানিতে বলল বম্বে হাইকোর্ট। আদালতের বক্তব্য, জোর করে বা চাপ দিয়ে ধর্ম পরিবর্তনের ঘটনা ঠেকানো এবং সমাজের ধর্মনিরপেক্ষ কাঠামো বজায় রাখাই এই আইনের উদ্দেশ্য।মহারাষ্ট্রের ফ্রিডম অফ রিলিজিয়ন অ্যাক্টে বলপ্রয়োগ, প্রতারণা, জবরদস্তি, প্রলোভন, ভুল তথ্য, অযাচিত প্রভাব কিংবা বিয়ের মাধ্যমে ধর্মান্তরের মতো বিষয়গুলিকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। এই আইনের ৬ নম্বর ধারায় ধর্ম পরিবর্তনের আগে ৬০ দিন আগাম নোটিস দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
এই আইনের সাংবিধানিক বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন থানের ৭০ বছর বয়সি এক ইসলাম ধর্মপ্রচারক। তাঁর বক্তব্য ছিল, মহারাষ্ট্রের নতুন ধর্মান্তর-বিরোধী আইন সংবিধানে উল্লেখ ধর্ম প্রচারের অধিকারকে খর্ব করছে। প্রধান বিচারপতি মহেশ সি ত্রিপাঠী এবং বিচারপতি অদ্বৈত শেঠনার বেঞ্চ মামলাটির শুনানি করে। আদালত জানায়, যে কোনও ব্যক্তি নিজের ধর্ম পরিবর্তন করতে পারেন। কিন্তু বিয়ের উদ্দেশ্যে ধর্মান্তরের বিষয়টি আলাদা। বিচারপতিদের কথায়, শুধু বিয়ের জন্য ধর্মান্তর মেনে নেওয়া যায় না। বিয়ের ঠিক আগের দিন ধর্ম পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন তোলে হাইকোর্ট।
মামলাকারীর আইনজীবীরা আইনের দ্বিতীয় ধারায় ধর্ম পরিবর্তনের আগে নির্ধারিত কঠোর পদ্ধতি নিয়েও আপত্তি জানান। তাঁদের দাবি ছিল, এই বিধানগুলি ধর্ম প্রচার ও ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকারে হস্তক্ষেপ করতে পারে। তবে আদালতের প্রশ্ন, এই আইন সরাসরি মামলাকারীর কোন অধিকারে বাধা তৈরি করেছে?
বিচারপতিরা বলেন, ধর্ম প্রচার করতে গিয়ে রাজ্যের হস্তক্ষেপে কীভাবে বাধার মুখে পড়তে হয়েছে, তার নির্দিষ্ট তথ্য মামলায় থাকা প্রয়োজন। সেই সংক্রান্ত কোনও স্পষ্ট তথ্য না থাকায় আবেদনটিকে কার্যত তাত্ত্বিক চ্যালেঞ্জ বলেও মন্তব্য করে বেঞ্চ।
এই পরিস্থিতিতে মামলাটি গ্রহণ করতে রাজি হয়নি আদালত। তবে পর্যাপ্ত তথ্য ও প্রমাণ দিয়ে নতুন করে আবেদন করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে মামলাকারীকে। এরপরই তিনি বর্তমান আবেদন প্রত্যাহার করে নেন এবং শীঘ্রই নতুন করে মামলা করার কথা জানান।
আদালতের এই পর্যবেক্ষণ নতুন ধর্মান্তর বিরোধী আইনকে ঘিরে আইনি বিতর্কে আরও মাত্রা যোগ করল। তবে মামলাটি প্রত্যাহার হওয়ায় আইনের সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও আসেনি।

প্রতিবেদন

Lopa Bhowmik