গিরিডি থেকে কলকাতা, আগুনে ছাই উনিশের স্বপ্ন
নিজস্ব প্রতিনিধি: মাত্র মাস পাঁচেক আগে পেটের টানে কাকার সঙ্গে কলকাতায় এসেছিলেন ঝাড়খণ্ডের গিরিডির পালমৌর বাসিন্দা সন্দীপ পাসোয়ান। চাকরি জুটে যায় ১৫ জি মির্জা গালিব স্ট্রিটের ‘শিখা ইন’ হোটেলের রিসেপশনিস্ট পদে। এই ক’মাসে এই হোটেলই হয়ে উঠেছিল মহানগরে তার মাথা গোঁজার একমাত্র ঠাঁই। ম্যানেজারের খোঁজ করলে তাঁকেই দেখিয়ে দিতেন অন্য কর্মীরা। এককথায় হাসিখুশি স্বভাবের সন্দীপই হয়ে উঠেছিলেন হোটেলের সর্বেসর্বা। মঙ্গলবার রাতের ভয়াবহ আগুন প্রাণ কেড়েছে তারও। আগুন লাগার পর ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়ে মারা গেছেন বছর উনিশের সন্দীপও।
সন্দীপের কাকা সীতারাম পাসোয়ান থাকেন নাগের বাজার অঞ্চলে। বুধবার সকালে কলকাতা মেডিকেল কলেজের জরুরি বিভাগের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়ে জানান, মঙ্গলবার রাত তিনটে নাগাদ তিনি খবর পান। তারপর হাসপাতালে গিয়ে ভাইপোর দেহ শনাক্ত করেন। সীতারাম বলেন, ‘সন্দীপ প্রতিদিন রাতে ফ্রিজের পাশে শুতো। শোনা যাচ্ছে, ফ্রিজের কম্প্রেসার ফেটেই নাকি আগুন ধরেছিল। ভাইপোর মুখ ও বুকের কিছুটা অংশে ঝলসে যাওয়ার দাগ রয়েছে। ঘিঞ্জি এলাকা ও সংকীর্ণ সিঁড়ি হওয়ায় আবাসিকদের পাশাপাশি সন্দীপও বাইরে বেরোনোর সুযোগ পায়নি।’ জানিয়েছেন, কাজে যোগ দেওয়ার পরে আর বাড়ি যায়নি ভাইপো। দুর্গাপুজোর সময় মা ও বোনের জন্য প্রথম চাকরির টাকায় জামা–কাপড় কিনে গিরিডি যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু তা আর হল না! ঝাড়খণ্ডের বাড়িতে খবর পাঠান হয়েছে। আত্মীয়রা কলকাতার উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন।’ গিরিডিতে সন্দীপের প্রতিবেশী ইন্দ্রদেব পাসোয়ান কাজ করেন নিউ মার্কেটেরই অন্য একটি হোটেলে। জানিয়েছেন, উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করার পর আর্থিক কারণে আর পড়াশোনা করা হয়ে ওঠেনি সন্দীপের। সংসার চালানোর জন্যই কলকাতায় আসতে হয় তাকে। মাসে ৭ হাজার টাকা বেতন পেতেন। সঙ্গে খাওয়াদাওয়া ও থাকার সুবিধা ছিল হোটেলে। সন্দীপের হোটেলে আগুন লাগার খবর পেয়েই ছুটে আসেন তিনি। তখন দমকল, পুলিশ, বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী গোটা এলাকা ঘিরে ফেলেছে। তাই ‘শিখা ইন’–এর ভেতরে ঢুকতে পারেননি। অপেক্ষা করছিলেন বাইরেই। বেশ কিছুক্ষণ পরে অচৈতন্য সন্দীপকে বাইরে বের করে আনা হয়। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকেরা।
