সরশুনায় অভিযুক্তদের অর্ধনগ্ন করে হাঁটানো, পুলিশ কমিশনারের কাছে রিপোর্ট তলব মানবাধিকার কমিশনের

সংবাদদাতা, কলকাতা: বেহালার সরশুনায় প্রেমিক, তাঁর বন্ধু এবং বাবাকে বিবস্ত্র করে রাস্তায় হাঁটানোর অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিল রাজ্যে।অভিযোগ উঠেছিল নাবালিকা কিশোরীর পরিবারের বিরুদ্ধে। পুলিশ ঘটনায় দ্রুত পদক্ষেপ করে ও কিশোরীর পরিবারের তিন জনকে গ্রেপ্তার করে। ঘটনার পুর্নির্নিমান করার সময় তাঁদেরও অর্ধনগ্ন করে রাস্তায় হাঁটানো হয়। কোমরে দড়ি, খালি গায়ে তিন অভিযুক্তকে হাঁটানোর ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে এবার প্রশ্ন তুলল জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। স্বতঃপ্রণোদিত পদক্ষেপ করে তারা কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়েছে। দু’সপ্তাহের মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে হবে সিপি-কে।
গত রবিবার সন্ধ্যায় ঘটনার সূত্রপাত। পুলিশ সূত্রে খবর, ১৮ বছরের এক তরুণ তাঁর ১৯ বছরের বন্ধুকে নিয়ে সরশুনায় নাবালিকা প্রেমিকার সঙ্গে দেখা করতে যান। কথা বলার সময় কিশোরীকে চুম্বন করেন। তা দেখতে পান ওই কিশোরীর মামার এক বন্ধু। বাড়িতে খবর দিতেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়। কিশোরীর বাড়ির লোকজন এসে দুই তরুণকে বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে দীর্ঘক্ষণ আটকে রেখে তাঁদের হেনস্থা করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। কিশোরীর বাবা এর পর ফোন করে ডেকে নেন প্রেমিক তরুণের বাবাকে। অভিযোগ, তিন জনকে বন্দুকের নল ঠেকিয়ে জামাকাপড় খুলতে বাধ্য করা হয়। বাড়ির সামনের রাস্তায় নগ্ন অবস্থায় প্রায় ৫০ মিটার হাঁটানো হয়।
সরশুনা থানার পুলিশ অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে। কিশোরীর বাবা, মামা এবং তাঁদের এক বন্ধুকে পরের দিন ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য পাড়ায় নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁদের পরনে ছিল হাফ প্যান্ট। কোমরে দড়ি পরিয়ে পুলিশ তাঁদের প্রায় ১০০ মিটার হাঁটায় বলে অভিযোগ। পুলিশি হেপাজতেথাকা অভিযুক্তদের সঙ্গে এই আচরণে একেবারেই সন্তুষ্ট নয় মানবাধিকার কমিশন। সিপি-র কাছে সেই কারণেই বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করেছে তারা।
